Anirban Chaudhury
অনির্বাণ চৌধুরী

যুগের যবনিকা পেরিয়ে ফিরে এসেছেন তিনি। আমাদের বলছেন বিনোদিনী দাসী থেকে তাঁর নটী বিনোদিনী হয়ে ওঠার কথা। আকাশ ৮-এর পর্দায় প্রতি পর্বে বঙ্গ রঙ্গালয়ের এই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ অভিনেত্রীর জীবন ফুটিয়ে তুলছেন স্বাগতা সেন। যদিও এখনও পর্যন্ত ধারাবাহিকে তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। দেখা যাওয়ার কথা মধ্য-এপ্রিল থেকে। খবর অনলাইন এ বার তাঁর মুখোমুখি। জানালেন স্বাগতা তাঁর বিনোদিনী হয়ে ওঠা এবং আরও অনেক না বলা কথা।

আপনার প্রতিদ্বন্দ্বিনীদের তালিকা তো বেশ ডাকসাইটে! ছবির কথা ধরলে দেবশ্রী রায়, যাত্রার কথা ধরলে বীণা দাশগুপ্ত, নাটকের ক্ষেত্রে সীমা বিশ্বাস আর বাংলাদেশের শিমুল ইউসুফ -এই চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এগোচ্ছেন কী ভাবে?

স্বাগতা: চ্যালেঞ্জ তো আমার কাছে বিশাল বড়ো! কেন না এটা আমার প্রথম ধারাবাহিকে কাজ! আর এমনিতেও নটী বিনোদিনীর চরিত্রটাই খুব চ্যালেঞ্জিং। এর জন্য যাঁরা আগে এই চরিত্রে অভিনয় করে গিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে তুলনা করে বলতে পারব না। তা ছাড়া, অভিজ্ঞতার দিক থেকে বিচার করলে আমি তাঁদের সঙ্গে নিজেকে এক জায়গায় রাখতেও পারব না। তাই তাঁরা কী করে গিয়েছেন, সেই সব বিচার করে নিজেকে তৈরি করছি না। তৈরি করছি পুরোপুরি বিনোদিনীর দিক থেকেই!

তা হলে কি বলা যায় – নটীই এখন আপনার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিনী?

স্বাগতা: একদম!

আচ্ছা, বিনোদিনীর সঙ্গে আপনার কিন্তু এক জায়গায় সাংঘাতিক রকমের মিল আছে। সেটা কখনও ভেবে দেখেছেন?

স্বাগতা: (একটু ভেবে) স্ট্রাগলের জায়গাটা?

শুধুই তা নয়! আপনাদের দু’জনেরই তো নায়িকা হওয়া নিয়তি! বিনোদিনীর যেমন অভিনয়ে আসার কথা ছিল না, আপনিও তো তেমনই কেরিয়ার শুরু করেছিলেন চিকিৎসা ক্ষেত্রে!

স্বাগতা: হ্যাঁ, এটা মিল, ঠিকই! আমি তো কাজ শুরু করেছিলাম ডায়ালিসিস টেকনোলজিস্ট হিসেবে, আমার পড়াশোনাও ডায়ালিসিস টেকনোলজি নিয়ে। এ রকম ডেসটিনি যে আমার হবে, কল্পনা করেছি ঠিকই, কিন্তু সেটা যে বাস্তবে পরিণত হবে, তা ভাবিনি!

এখন তো আপনি বিনোদিনী চরিত্রটার মধ্যেই রয়েছেন, বিনোদিনী হয়ে শুটিংও করছেন। কখনও মনে হয়েছে, বিনোদিনীর জীবনের আর কোনো ঘটনা আপনার জীবনের সঙ্গে এমন হুবহু মিলে যায়?

স্বাগতা: বিনোদিনীর জীবনের স্ট্রাগলের জায়গাটা! পতিতাপল্লি থেকে উঠে এসে থিয়েটার জগতের শীর্ষে চলে যাওয়া – এর জন্য তাঁকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। ওঁর মা-দিদিমাই ওঁকে পিছন থেকে টেনে ধরেছেন, বলেছেন- বাবুদের সন্তুষ্ট করো, তাঁরাই তোমায় খাওয়াবেন, থিয়েটার কিন্তু তোমায় খেতে দেবে না! ওঁর পরিবারই ছিল ওঁর কেরিয়ারের পথে প্রতিবন্ধকতা। আমরা বলি বটে, আজকের যুগেও মেয়েদের অনেক লড়াই করে এগোতে হয়, কিন্তু সেই সময়ে লড়াইটা কতটা কঠিন ছিল ভাবুন তো! সারা জীবন বিনোদিনী এই লড়াইটা চালিয়েছেন। বিনোদিনী থিয়েটার তো শেষ পর্যন্ত হলই না, স্টার থিয়েটার হল! তো, সেই সব পেরিয়ে, গিরিশ ঘোষের সান্নিধ্যে এসে যা শিখেছেন, তা প্রয়োগ করতে করতে এগিয়ে যাওয়া – এটা খুবই কঠিন একটা কাজ! হ্যাঁ, গিরিশ ঘোষের সান্নিধ্যে আসা ওঁর কাছে বিরাট একটা পাওনা, কিন্তু সেটাকে ঠিক ভাবে প্রয়োগ করাটা কিন্তু ওঁরই কৃতিত্ব!
আমার পরিবার থেকে এমন বাধা আসেনি ঠিকই। কিন্তু এখনও মেয়েদের একটু বেশিই স্ট্রাগল করে এগোতে হয়। সে কাজের জায়গাই হোক বা শখ পূরণই হোক! এটাই মিল বলতে পারেন! আমার বন্ধুবান্ধবরা সবাই এখন সাকসেসফুল, ভালো জায়গায় কাজ করছেন। আমিও করছিলাম। সেটা ছেড়ে এসে প্রথমে মডেলিং, তার পর অভিনয় – এগোনোটা বেশ কঠিন ছিল! কিন্তু আমারও অভিনয়ের শখটা চেপে বসেছিল মাথায়, বিনোদিনীর মতোই, তার পর সেটাই জীবিকা হয়ে গেল! এখন এটাই মনে হয়, আমাকেও অভিনয়ে সফল হতেই হবে! না হলে নিজেকে কী জবাব দেব? আমি আমার স্বপ্নটাই পূর্ণ করতে পারলাম না?

Swagata Sen
খবর অনলাইন-এর আড্ডায় স্বাগতা, ছবি: শ্রয়ণ সেন

নিশ্চয়ই আপনি সফল হবেন! কিন্তু বলুন, বিনোদিনী দাসী হয়ে ওঠার জন্য আপনাকে নিশ্চয়ই একটা প্র্যাকটিসের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে! কী ভাবে সেটা সম্ভব হল?

স্বাগতা: প্রথমে কিন্তু আমি জানতাম না যে আমায় নটীর চরিত্রে অভিনয় করতে হবে! আকাশ ৮ যখন ডেকেছিল, এমনি একটা অডিশন হয়েছিল। তার পর যখন লুক টেস্ট হল, তখন জানতে পারলাম আমায় বিনোদিনীর চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। আগে কিন্তু বিনোদিনীকে নিয়ে তৈরি কোনো কাজ আমি দেখিনি। কেবল মা-দিদিমার কাছে ছোটোবেলায় ওঁর গল্প শুনেছিলাম।

কী রকম গল্প?

স্বাগতা: ওই যে, রামকৃষ্ণদেবের প্রসঙ্গটা! বিনোদিনী তখন চৈতন্যদেবের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। ঠাকুর তো দেখে বুঝতেই পারেননি যে একজন মেয়ে এই অভিনয়টা করছে! যখন বুঝতে পারলেন মেয়ে, তখন আশীর্বাদ করে বললেন- তোমার চৈতন্য হোক! এই কথাগুলো আমি ছোটোবেলাতেই শুনেছি! এ বার ওঁকে নিয়ে একটু পড়াশোনা শুরু করলাম। আমার কাছে স্মার্টফোন আছে, গুগলের সাহায্য পাচ্ছি। প্রথমে সেগুলো নিয়েই এগোলাম। একটা সংক্ষিপ্তসার পড়লাম বিনোদিনীকে নিয়ে সার্চ করে! এত ইন্টারেস্টিং লাগল! কত কিছুই না রয়েছে ওঁর জীবনে! গল্পের মতো করে যদি নাও পড়ি, তা হলেও কিছু আটকাচ্ছিল না- চোখের সামনে স্পষ্ট সব কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম। এখন সেই পড়াশোনাটা আরেকটু বিশদে করছি বিনোদিনীকে নিয়ে। পড়ছি, ওঁকে নিয়ে ভাবছি, কল্পনা করছি, নিজে নিজেই অনেকটা পাগলের মতো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বিনোদিনী হয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। আমাদের চিত্রনাট্যকার আমায় নানা বইপত্রের কথা বলে দিয়ে এ বিষয়ে সাহায্য করেন। আমার পরিচালকও মাঝে মাঝেই ওই সময় এবং বিনোদিনীকে নিয়ে ছোটো ছোটো গল্প বলে আমার রিসার্চের কাজটা এগিয়ে দেন! সবটা মিলিয়েই বিনোদিনীকে আত্মস্থ করার চেষ্টা করছি!

আর উচ্চারণ? ওই সময়ের চরিত্র হয়ে উঠতে গেলে তো উচ্চারণটা ভীষণ ভাবে ম্যাটার করে! এই প্রসঙ্গে আমরা রানি রাসমণির চরিত্রাভিনেত্রী দিতিপ্রিয়ার কথা বলতে পারি। আপনারা দু’জনে যেমন একই সময়ে কাজ করছেন, তেমনই রাসমণি এবং বিনোদিনীও একই সময়ের মানুষ। কিন্তু দিতিপ্রিয়া তো ওঁর উচ্চারণের জন্য ভীষণ ভাবে ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন। তো, এই জায়গাটা সামলাচ্ছেন কী ভাবে?

স্বাগতা: উচ্চারণের দিকটা… (একটু চুপ করে গিয়ে) কিন্তু সে রকমও প্রবলেম্যাটিক নয়। আমরা কিন্তু পুরোনো দিনের মানুষদের কথাবার্তা শুনেছি। আর দেখুন, বিনোদিনীর আত্মজীবনী পড়ছি, চিত্রনাট্য পড়ছি, তখন তো বানান ধরেই সব কিছু দেখছি- বাংলাই তো পড়ছি! কাজেই আমার কোনো অসুবিধা হয়নি। আরও একটা ব্যাপার হল – আমার মামাবাড়ি, আমার বাড়ি দুই বাঁকুড়া জেলায়। হুবহু সেই সময়ের মতো না হলেও সেখানকার ভাষাতেও উচ্চারণের পার্থক্য দেখেছি, জায়গার বদলে ভাষায় যে পার্থক্য আসে আর কী, সেই মতো কথা বলেছি। তার পর আমার পড়াশোনা কোচবিহারে, সেখানকার বাংলাতেও কিন্তু একটা অন্য টান আছে। শুনতে শুনতে না একটা অভ্যেস হয়েই যায়! তাই আমায় খুব বেশি উচ্চারণ নিয়ে বেগ পেতে হয়নি!

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Swagata Sen (@senswagata356) on

আপনি কিন্তু এক জায়গায় থেমে গেলেন। কী মনে হয়, দিতিপ্রিয়ার উচ্চারণে কি কোথাও একটা অতিরঞ্জন থেকে গিয়েছে?

স্বাগতা: আমি জানি না! ওঁর হয় তো চিত্রনাট্যে এমন বানান থাকছে, তাই সে রকম করে উচ্চারণ করছেন। তবে কিছু কিছু জায়গায় দিতিপ্রিয়ার উচ্চারণ শুনে আমারও মনে হয়েছে এটা, একটু তো অড বটেই, সত্যিই কি তখন ও ভাবে কথা বলা হত? তার পর মনে হয়েছে, হতেও পারে, তা ছাড়া উনি ওঁর চিত্রনাট্য অনুযায়ী কাজ করছেন!

মানে বলছেন – আমরা এখন আর এটা বিচার করার জায়গায় নেই?

স্বাগতা: তা তো বটেই! ভাষা কত বদলে গিয়েছে বলুন তো!

আপনি একটু আগেই স্টার থিয়েটারের উল্লেখ করেছিলেন, যা বিনোদিনী থিয়েটার নামে পরিচিত হওয়ার কথা ছিল। এমন যদি কোনো দিন হয়, ঈশ্বর না করুন, আপনার কাজের কৃতিত্ব কেড়ে নিলেন অন্য কেউ, তখন কী করবেন? বিনোদিনীর মতোই চুপ করে থাকবেন, না কি প্রতিবাদ করবেন?

স্বাগতা: আমি একটা ভালো কাজ করলাম আর তার ফল ভোগ করলেন অন্য কেউ – এটা বলছেন তো? আসলে বিনোদিনীর ওই পরিস্থিতি, প্রতিবাদের জায়গা বোধহয় ছিল না! তা ছাড়া দেখুন, এখনও কিন্তু মানুষ জানেন যে ওটা বিনোদিনী থিয়েটার নাম হওয়ার কথা ছিল। বিনোদিনীকে কিছু বলতে হয়নি! নামটা স্টার থিয়েটার থেকে গেলেও সবাই কিন্তু জানেন – বিনোদিনী তার জন্য কী করেছেন! ভালো কাজ করলে কিছু বলে দিতে হয় না! কাজের প্রতিফলন হিসেবেই সবাই সবটা জানতে পেরে যান! কেউ আমার কাজের কৃতিত্ব কেড়ে নিচ্ছেন বলে প্রতিবাদ করে তা আদায় করব, এতটা উগ্র আমি নই, আমি চারিত্রিক দিক থেকে বেশ নরম! আমার কাজই যা বলার বলবে!

কিন্তু আপনার স্বভাবগত নম্রতা শো বিজনেসে কোনো সমস্যা তৈরি করে না? শোনা যায়, এখানে তো কেউ কাউকে এক তিল জায়গা ছেড়ে দিতে তৈরি নন! তার পর উত্তরবঙ্গ থেকে এসে এখানে নিজের জায়গা করে নেওয়া – কখনোই কোনো সমস্যা হয়নি?

স্বাগতা: আমার সঙ্গে ভুল কিছু করলে বা খারাপ ব্যবহার করলে কিছুই যে বলি না, তেমনটাও নয়। তা ছাড়া আমার মা-বাবা এখানেই থাকেন, আমি উত্তরবঙ্গে শুধু পড়াশোনাটাই করেছি। কাজেই এই শহর যে আমার একেবারেই অচেনা, তা কিন্তু নয়। তবে যাঁরা অনেক দিন ধরে এখানে আছেন, তাঁদের চেয়ে আমার ব্যাপারটা কিছুটা আলাদা তো হবেই! ওই যে – আদতে ব্যাপারটা অভিজ্ঞতা! যাঁরা অনেক দিন ধরে এখানে আছেন, তাঁদের অনেক কিছুই স্বাভাবিক লাগে, আমার প্রথম প্রথম অনেক কিছু অন্য রকম লাগত! সেই মতো ঠোক্করও খেয়েছি, খেয়ে শিখেছি! (হাসি)

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Swagata Sen (@senswagata356) on

খারাপ ব্যবহারের কথা বলছিলেন! এ প্রসঙ্গে একটু #MeToo মুভমেন্টের কথায় আসি। সবাই বলেন, শো বিজনেসে এটা নাকি হয়েই থাকে। আপনি কখনও এ রকম কিছুর মুখোমুখি হয়েছেন?

স্বাগতা: একেবারে সরাসরি যে হয়েছে, তা বলব না। তবে আমি যে হেতু অন্য জায়গা থেকে এখানে এসেছি, সে হেতু কাজের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে কিছু কিছু অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক কিছুই ধোঁয়াটে থেকে যেত! যেমন ধরুন, কাজের জন্য কাজ করছি, কী কাজ করছি – কিছুই জানি না। অথচ, আমায় কাজের জন্য ডাকা হয়েছে। যখন ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছি, গিয়েও চলে এসেছি, কাজটা আর করিনি। তার পর ধরুন থাকার জায়গা! যখন দেখেছি, যে ভাবে থাকার কথা ছিল, তা হচ্ছে না, অন্য পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, কাজটা করতে চেয়েও চলে আসতে বাধ্য হয়েছি!

হ্যাঁ! অনেকেই বলেন যে মূলত এই থাকার জায়গা থেকেই সুযোগ নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়…

স্বাগতা: আসলে কী জানেন, আমি যখন পুরোদমে মডেলিং করতাম, আমার কেরিয়ারের শুরুর দিকের কথা বলছি, তখন তো আমার সামনে কোনো গাইডেন্স ছিল না, বলে দেওয়ার মতো কেউ ছিল না যে – তোমায় ওরা এ ভাবে ব্যবহার করবে! আমায় নিজে নিজেই সব কিছু বুঝতে হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তাই আমার মনে হয়েছে – কাজটা এতটাও ইমপর্ট্যান্ট নয় যে আমায় সেটা নিজের কমফর্ট জোন থেকে বেরিয়ে এসে করতে হবে। সেই জায়গাগুলো এখন আমি চিনে গিয়েছি। এই জায়গাগুলো আমাদের পেশায় আসেই, অনেক মডেল বন্ধুর কাছেও তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি, অনেক অভিনেত্রীর কাছেও শুনেছি। এই জিনিসগুলো কখনোই কাম্য নয়, তবু ফেস করতেই হয়!

আচ্ছা, এখন তো আপনাকে সময়ের অনেকটাই ধারাবাহিককে ছেড়ে দিতে হচ্ছে। তার মাঝেও নিশ্চয়ই অনেক কাজের প্রস্তাব আসছে। সেগুলো নিয়ে কী ভাবছেন? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

স্বাগতা: আপাতত আমি শুধু নটী বিনোদিনীতেই মনোযোগ দিয়েছি। তবে মডেলিংয়ের কিছু অ্যাসাইনমেন্ট আছে, সেগুলোও সময় বের করে নিয়ে করব। আড্ডা টাইমস-এর ওয়েব-সিরিজের কিছু কাজ আছে, সেগুলোও করে ফেলতে হবে। আপাতত শুধু এটুকুই ছকে রেখেছি, পরে যেমন কাজ আসবে, তেমন ভাবা যাবে!

আর বডি পেন্টিং? সম্প্রতি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটা বডি পেন্টিংয়ের ছবিও দেখা গিয়েছে। যেটা দেখে বেশ চমকে উঠতে হচ্ছে…

স্বাগতা: (হাসি)… হ্যাঁ!

এখানে একটা ব্যাপার আছে। মডেল হোক বা অভিনেত্রী, বডি পেন্টিংয়ের কাজ কেউই সাহস করে করেন না! কিন্তু আপনি সেই সাহসটা দেখিয়েছেন এবং আমাদের চমকে দিয়েছেন। পরেও কি আবার বডি পেন্ট করাবেন?

স্বাগতা: না, আপাতত আমার বডি পেন্টিংয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই। এটা আমার সাম্প্রতিক কাজও নয়, গত বছরের কাজ। অনির্বাণ যখন আমায় কাজটা করার কথা বলেছিল, তখনও আমি বডি পেন্টিং সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানতাম না। যখন ছবি দেখাল, আমি আঁতকে উঠেছিলাম- আমায় এ সব করতে হবে! (হাসি) কাজটা করে বেশ মজাও হয়েছিল। কেন না, এখানে আমার মুখ দেখা যাওয়াটাই সবটা নয়। ছবিতে যে অংশগুলো কালো করা হয়েছে, যেগুলো সাদা রং দিয়ে কঙ্কালের মতো করে আঁকা হয়েছে, তার সঙ্গে তাল রেখে, সেই মতো পোজ দিয়ে দাঁড়িয়ে ব্যাপারটা উতরে দিতে হয়েছে।

মানে, দ্বিধার কোনো জায়গা ছিল না?

স্বাগতা: না। তবে আমি কিন্তু প্রথমে আমার নামটা দিতে বারণ করেছিলাম। আমি চাইনি, লোকে আমার নাম দেখে ছবিটা দেখুক, চেয়েছিলাম- ছবি হিসেবেই ওটাকে বিচার করুক! তার পর এক সময়ে জানাজানি হল যে ওটা আমি করেছি। তখন অনেকেই খুব অবাক হয়েছে। সবাই আমায় ফোন করে বলেছে, ছবিটা বার বার জুম ইন করে দেখছি। একমাত্র চোখটা দেখে বোঝা যাচ্ছে যে ওটা তুই! আর কাজটা খুব অন্য রকমও হয়েছে। প্রচুর প্রশংসা পেয়েছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here