nfa2

ওয়েবডেস্ক: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ইতিহাসে বেনজির বদল ঘটে গেল এ বার। বিগত ৬৫ বছরের পরম্পরা ভেঙে প্রাপকদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মাত্র ১১ জন প্রাপক রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করলেও বাকিরা নিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির হাত থেকেই। অন্য দিকে এই নজিরবিহীন পরিবর্তনের প্রতিবাদে পুরস্কার বয়কট করলেন ৭০ জন শিল্পী।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রোটোকল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কোনো সমাবর্তন বা এ ধরনের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এক ঘণ্টার বেশি থাকতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত পূর্ব নির্ধারিত। কিন্তু এই নিয়ম জানা সত্ত্বেও কেন আগে থেকেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হল না, তেমন প্রশ্নও উঠছে।

এরই মধ্যে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন চেয়ারম্যান গজেন্দ্র চৌহানের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে দেশজোড়া তোলপাড় শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির ঘনিষ্ঠ হিসাবে খ্যাত গজেন্দ্র প্রতিবাদীদের তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরে ছবি তুলবেন, আগে তো মন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কারটা নিয়ে নিন”। পাশাপাশি তাঁর সংযোজন, “রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছবি তোলার জন্যই এত বিদ্রোহ”।

যদিও গজেন্দ্রর সঙ্গে এক মত নন প্রতিবাদী শিল্পীরা। তাঁরা মনে করেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শুধু মাত্র পুরস্কারই নয়, শিল্পীর সত্ত্বাকে স্বীকৃতি প্রদান।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারকে শুধু পুরস্কার মনে করলে পোস্টেও পাঠানো যায়, কটাক্ষ ‘বাহুবলী’ প্রযোজকের

টানা ৬৪ বছরের প্রথা ভেঙে এই প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে বড়োসড়ো রদবদলের কথা চাউর হতেই নিন্দার ঝড় উঠল। জানানো হয়েছে, মাত্র ১১ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় থাকলেও বাকি পুরস্কারপ্রাপকদের হাতে তা তুলে দেবেন কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। সারা দেশের চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব সরকারি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে মন্তব্য করেছেন।

মরাঠি চলচ্চিত্র পরিচালক প্রসার ওয়াক, যিনি সেরা মরাঠি ছবির জন্য পুরস্কার পেতে চলেছেন সেই তিনি জানিয়েছেন,”আমি বিশ্বাস করি যে এটা আমার শিল্পের অসম্মান, তিনি আগে আমাদেরকে এ কথা জানাতে পারতেন। ইতিহাসে এই ধরনের ঘটনা প্রথমবারের ঘটছে।”

nfa

অন্য দিকে জনপ্রিয় বাহুবলী ছবির প্রযোজক প্রসাদ দেবীনেনির মন্তব্য, “এই পুরস্কারের সঙ্গে আমাদের সূক্ষ্মতম অনুভূতিগুলো জড়িয়ে রয়েছে। আমরা এ ভাবে অপমানিত হতে চাই না। এই পুরস্কার যদি শুধু মাত্র পুরস্কারই হয়, তা হলে এটাকে পোস্টেও পাঠিয়ে দেওয়া যেত”।

যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি দু’তরফেই। জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার তুলে না দিলে অনুষ্ঠান বয়কট করতে পারেন ৬২ জন শিল্পী। তবে ইতিমধ্যেই এ খবরও এসেছে  মালায়ালাম ছবির পরিচালক জলি আয়াপ্পনও ওই অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক প্রতিনিধির হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করা মানে পুরস্কারটিকেই অসম্মান করা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here