bollywood reactions

ওয়েবডেস্ক: আগুন নিয়ে ছেলেখেলা?

সত্যি বলতে কী, সেই ‘বাজিরাও মস্তানি’ ছবির সময় থেকেই এই বিতর্ক ঘিরে রেখেছে সঞ্জয় লীলা বনসলির জীবন। রাজনীতি আর লালসার যে আগুনের আঁচ ঘিরে রেখেছিল তাঁর নতুন ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র পদ্মাবতীর জীবন, অনেকটা তাই যেন এ বার হলকায় পুড়িয়ে দিতে চাইল ছবিটিকে। তথ্যবিকৃতির অভিযোগে দেশ জুড়ে তোলপাড় চলল কিছু দিন। চলল পুরোদমে রাজনৈতিক দলের পেশিশক্তির হুঙ্কার। তবে বিতর্কের মেয়াদ আর ক’দিনই বা! চিতোরের রানির জহরব্রতের আগুন যেমন নিভে এসেছিল কালের নিয়মেই, বনসলির ছবি ঘিরে বিতর্কের পরিণামও তাই। আস্তে-সুস্থে নিভে আসছে বিতর্কের আগুনের শিখা। বলিউড তার সবটুকু নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে পরিচালকের। কোনো গা-জোয়ারির তোয়াক্কা না করে পরিচালকের পক্ষে মুখ খুলছেন বলিউডের তাবড় ব্যক্তিত্বরা।

যেমন সলমন খান! বনসলির এক সময়ের এই প্রিয় নায়ক অকপটে জানিয়েছেন, “উনি তো কোনো কুরুচিকর ছবি বানান না! বরং থুব সুন্দর করেই ছবির পর্দায় তুলে ধরেন তাঁর বক্তব্য। তা হলে আর ছবিটাকে নিয়ে বিতর্ক কেন?” তবে একই সঙ্গে একটু বেয়াড়া সুরও ধরা পড়েছে সলমনের বক্তব্যে। সেটা কি ‘বাজিরাও মস্তানি’ থেকে বাদ যাওয়ার পুরোনো ক্ষোভ? যা-ই হোক, তাঁর দাবি, যদি ছবিটাকে বন্ধ করে দিতেই হয়, তবে সেই সিদ্ধান্ত নিক শীর্ষ আদালত।

করণ জোহর কিন্তু কোনো কূটকচালিতে না গিয়ে অন্ধ সমর্থন করছেন বনসলিকে। স্বাভাবিক, বছর খানেক আগেই তো ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবির মুক্তি নিয়ে এই রাজনীতির চাপান-উতোরেই নাজেহাল হয়েছিলেন তিনি! সেই প্রসঙ্গ টেনেই বলছেন করণ, “আমি তো জানি একটা ছবির মুক্তি নিয়ে কতটা জলঘোলা হতে পারে! ব্যাপারটা মোটেই যুক্তিসিদ্ধ নয়। বনসলি আমাদের দেশের পরিচালকদের মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান পাওয়ার যোগ্য। তাই আমার মনে হয় যাঁরা সৃজনশীলতাকে কুর্নিশ করতে জানেন, তাঁরা বনসলির পক্ষেই থাকবেন।”

ফারহান আখতার যদিও তাঁর বক্তব্যে সরাসরি বনসলির নাম নেননি। তাঁর জেহাদ নানা অজুহাতে ছায়াছবির মুক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। “একেই তো আমাদের ছবি মুক্তির ব্যাপারে সেন্সর বোর্ডের উপরে নির্ভর করে থাকতে হয়। তার উপরে যদি রাজনৈতিক দলগুলি জোরজুলুম চালাতে থাকে, তা হলে ছবির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষার দায় সরকারের! জানি না তাঁরা সেটা কবে করবেন! তবে কারণ যাই হোক না কেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে ছবি বন্ধ করার ব্যাপারটা মেনে নিতে পারি না। তাই বলব যদি আমরা সঙ্ঘবদ্ধ হই, বিপদের দিনে একে অপরের সঙ্গে থাকি, তা হলে হয়তো এ ধরনের সমস্যা মাথা চাড়া দিতে পারবে না”, বলছেন তিনি।

ছেলের মন্তব্যে সায় দিয়ে জাভেদ আখতারেরও একই বক্তব্য- “ছবি আর ইতিহাসকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। যদি ইতিহাস নিয়ে বিশদে জানতে হয়, তবে ইতিহাস বই পড়াই তো ভালো! ছবি দেখতে যাওয়া কেন?”

সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, অর্জুন কাপুর, সুশান্ত সিং রাজপুতের মতো বলিউডের নয়া প্রজন্মের নায়কদের বক্তব্যেও ঘুরে-ফিরে আসছে একই প্রসঙ্গ। কেউই বিশ্বাস করতে চান না যে বনসলি তাঁর ছবিতে রানি পদ্মিনীকে নিয়ে কুরুচিকর কিছু দেখাবেন। “ফের সৃজনশীলতার সঙ্গে টক্কর বেঁধেছে পেশিশক্তির”, বলছেন অর্জুন কাপুর। সুশান্তের বক্তব্য, “স্বাধীনতার অধিকার চাইতে চাইতে আমরা ক্লান্ত!” সিদ্ধার্থের যুক্তি, “ছবি ভালো না খারাপ- সেটা ঠিক করুন দর্শকরাই।”

সঙ্ঘবদ্ধ হয়েই ইতিহাসের পাতায় শত্রুর আক্রমণ বার বার প্রতিহত করেছে রাজপুত। সেই ছবিই কি এ বার একটু অন্য ভাবে দেখা গেল বলিউডেও?

‘পদ্মাবতী’র মুক্তি নিয়ে এই যে রণদামামার নিনাদ, সেটা কিন্তু তাই বলছে!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here