ওয়েবডেস্ক: মাতৃগর্ভের আঁধার তার জীবনে চিরস্থায়ী। গর্ভাবস্থায় প্রাণ যেমন মায়ের স্নেহস্পর্শ পায় না, ডুবে থাকে অনন্ত আলোহীনতায়, জন্মান্ধ শিল্পী ইমানুয়েলের জীবনটাও তাই! আলো তো বটেই, মা আদতে কেমন- সেটাও তার বোঝার উপায় নেই! দৃষ্টিসুখ আর মাতৃসুখ- দুই থেকেই সে বঞ্চিত। এমনই এক শিল্পীর গল্প নিয়ে তাঁর নতুন ছবির চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন পরিচালক সত্যজিৎ দাস।

“শব্দ শুনে ছবি আঁকে আমার ছবির নায়ক। এর মা হারিয়ে যান শৈশবেই। তাই শব্দ শুনে, তার কম্পাঙ্ক মেপে, রং খুঁজে যে ভাবে ছবি আঁকে, সে ভাবেই মাকেও খুঁজতে বেরোয়”, জানিয়েছেন পরিচালক। সঙ্গে জানিয়েছেন, ছবিতে অন্ধ শিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন রাশেদ রহমান!

আরও পড়ুন: ফের বড়ো পর্দায় মহীনের ঘোড়াগুলির গৌতম, এ বার বায়োপিক, পরিচালক অনিন্দ্য

এই জায়গায় এসে একটা প্রশ্ন কৌতূহলী করে তুলতে পারে অনেককেই- জন্মান্ধের কি রং চেনার ক্ষমতা থাকে? “সারা পৃথিবীতে হয় তো এমন জনা দশেক শিল্পীকে খুঁজে পাওয়া যাবে। আমাদের ছিলেন বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়। তাঁকে নিয়ে চিত্রকর নামে যে ছবি হয়েছিল, তার পরে পেইন্টারদের নিয়ে আর কোনো বাংলা ছবি তৈরি হয়নি! আমি ছবির চিত্রনাট্য করার আগে বেহালা ব্লাইন্ড স্কুলে গিয়ে জন্মান্ধদের পর্যবেক্ষণ করেছি। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মারফত সময় কাটিয়েছি তাঁদের সঙ্গে। সেই পর্যবেক্ষণ নিয়েই, বাস্তবতাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই তৈরি হচ্ছে পেইন্টিং ইন দ্য ডার্ক”, বলছেন সত্যজিৎ।

জানা গিয়েছে, ৯০ মিনিটের এই ছবিটির ট্রেলার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে নিয়ে আসবেন পরিচালক। তার পরে তাঁর পরিকল্পনা ছবিটিকে কিছু চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানোর! “তবে উৎসবের জন্য একটা গান বাদ দিয়ে ছবির দৈর্ঘ ৭৫ মিনিটে নিয়ে আসা হবে, দেখেছি- উৎসবের ক্ষেত্রে ছবির গান খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে ছবিতে তা রাখব, দেখা যাক, গানটা আমিই গাইতে পারি”, বলছেন তিনি!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here