নয়াদিল্লি: আমির খান, মনোজ বাজপেয়ী, শহিদ কাপুরদের টপকে সেরা অভিনেতার শিরোপা পেলেন তিনি। ‘রুস্তম’ ছবির জন্য ৬৪তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন অভিনেতা অক্ষয় কুমার। পুরস্কার পাওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়া, গণমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে, অক্ষয় কুমার সত্যি কতটা যোগ্য ছিলেন এই সম্মানের? বিশেষ করে যখন ২০১৬-র বিভিন্ন সময়ে মুক্তি পাওয়া ‘অলীগড়’, ‘উড়তা পঞ্জাব’, ‘দঙ্গল’-এর মতো ছবি ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে সমালোচক মহলে। এই প্রশ্ন করা হয়েছিল পরিচালক প্রিয়দর্শনকে। জাতীয় পুরস্কারের দায়িত্বে থাকা বিচারকদের এক জন প্রিয়দর্শন। ঘটনাচক্রে তিনি অক্ষয় কুমারের ঘনিষ্ঠও। বহু ছবিতেই এক সঙ্গে কাজ করেছেন দুজনে।

প্রিয়দর্শন জানালেন, “আমির জাতীয় পুরস্কার নেবেন না জানার পরেও খামোখা তাঁকে দেওয়া হবে কেন? যে সম্মান গ্রহণ করতেই প্রস্তুত নয়, তাকে সম্মানিত করা হবে কেন? ২০০৭-এ ‘তারে জমিন পর’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হলেও পুরস্কার নিতেই আসেননি আমির। তা ছাড়া এমন এক জনকে সম্মানিত করা হয়েছে, যিনি অভিনেতা হিসেবে খুবই প্রতিভাবান। 

সংবাদমাধ্যম থেকে বিচারক প্রিয়দর্শনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “রুস্তমের তুলনায় এয়ারলিফট্‌-এ অক্ষয়ের অভিনয় অনেক বেশি অবাক করা ছিল না কি?” এই প্রসঙ্গে ‘ভুলভুলাইয়া’ পরিচালক জানান, অক্ষয়কে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে দু’টি ছবির কথা মাথায় রেখেই। কিন্তু জাতীয় পুরস্কারের নিয়ম অনুযায়ী একসঙ্গে দু’টো ছবির জন্য পুরস্কার দেওয়া যায় না, তাই ‘রুস্তম’কে বেছে নেওয়া।  

ছকে বাধা চরিত্র করার মধ্যে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, তাই জাতীয় পুরস্কারের জন্য অন্য রকম চরিত্রই বাছা হয়। সমালোচকদের মতে অবশ্য ‘দঙ্গল’-এর আমির খানের চরিত্রটি রীতিমতো অনুপ্রেরণা যোগায়। সোনম কাপুরকে ‘নীরজা’-র জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার না দেওয়ার জন্যও সমালোচিত হচ্ছে জাতীয় পুরস্কার কমিটি। অনেকেরই ধারণা, উত্তর ভারতীয় অভিনেতার সঙ্গে দক্ষিণী অভিনেত্রীকে পুরস্কৃত করে সাংস্কৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here