rajinikanth

ওয়েবডেস্ক: আগামী ছবি ‘২.০’-র সঙ্গীত মুক্তি দুবাইয়ের এক চোখধাঁধানো অনুষ্ঠানে গত অক্টোবরেই সেরে ফেলেছিলেন সুপারস্টার রজনীকান্ত। সেই অনুষ্ঠান রবিবার দেখানো হল ছোটো পর্দায়। সেখানে যে বিবৃতি দিলেন রজনী দুবাইবাসীর উদ্দেশে, তা কেবল তাঁকেই মানায়। সব দিক থেকেই নায়কের সেই বিবৃতি ‘লার্জার দ্যান লাইফ’, ঠিক যেমন তাঁর ইমেজও!

তবে সেই বিবৃতির একটি শব্দও বাস্তব-বহির্ভূত নয়। জীবন-সরণির অনুপুঙ্খ স্মৃতিচারণায় রজনী তুলে এনেছেন এক আশ্চর্যজনক তথ্য। জানিয়েছেন, মুসলমানদের সঙ্গে তাঁর এক ‘অবর্ণণীয়’ সম্পর্ক রয়েছে।  “ইসলামের সঙ্গে আমার সম্পর্ক সত্যিই অবর্ণণীয়। সারা জীবন ধরেই আমার সঙ্গে যা কিছু বলার মতো ঘটেছে, তার নেপথ্যে রয়েছেন কোনো না কোনো ইসলাম ধর্মাবলম্বী”, কবুল করেছেন তিনি।

হঠাৎ কেন এই প্রসঙ্গ উথ্থাপন করলেন রজনী দুবাইয়ে এসে?

বক্তব্যে জানিয়েছেন নায়ক, এর আগে কখনোই তিনি দুবাইয়ের মাটিতে পা দেননি। অনেক বার পৃথিবীর নানা জায়গায় যাওয়ার সময় বিমান বদল করেছেন ঠিকই দুবাই বিমানবন্দর থেকে! তবে ওই পর্যন্তই। বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখা তাঁর আর হয়ে ওঠেনি। স্বাভাবিক ভাবেই তাই এ বার দুবাই ঘুরে অভিভূত সুপারস্টার। সেই প্রসঙ্গেই ইসলাম ধর্মাবলম্বী এই দেশ দেখে তাঁর জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে থাকা মুসলমানদের স্মৃতি তুলে ধরলেন তিনি।

বক্তব্যে রজনী ফিরে গিয়েছেন কেরিয়ারের একদম শুরুতে। এ সেই সময়, যখন তিনি সুপারস্টার তো ননই, এমনকি অভিনেতাও নন। তখন তিনি নেহাতই এক বাস কন্ডাকটর। “৭০-এর দশকের প্রথম দিকের সেই দিনগুলোতে আমার বেশির ভাগ বন্ধুই ছিলেন মুসলমান। ওই সংস্থায় যাঁরা কাজ করতেন, তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী”, জানিয়েছেন রজনী। “এর পর যখন চেন্নাইয়ে চলে আসি, তখন যে বাড়িতে পেয়িং গেস্ট থাকতাম, তার মালিকও ছিলেন মুসলমান”, জানাতে ভোলেননি তিনি।

এর পরেই নায়ক উল্লেখ করেছেন তাঁর বাড়ি কেনার কথা। “জীবনে একটু প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাড়ি কিনলাম। তারও প্রাক্তন মালিক ছিলেন মুসলমান। এমনকি যেখানে আমার বিয়ে হয়, সেই রাঘবেন্দ্র মণ্ডপমের মালিকানাও প্রথমে ছিল এক ইসলাম ধর্মাবলম্বীর”, বলছেন রজনী।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এর পরেই তিনি উল্লেখ করেছেন অভিনীত এক ছবির কথা। “আমার কেরিয়ারে যে ছবিগুলো সব চেয়ে বেশি সাড়া জাগিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘বাশা’।“ এটুকু বলতে না বলতেই বিপুল করতালিতে ফেটে পড়ে হল। বাকিটুকু আর রজনীকে বলতে হয়নি। তাঁর ভক্তরা জানেন বিলক্ষণ – ওই ছবিতে এক মুসলমানের নামগ্রহণ করেছিলেন নায়ক।

এর পরেই রজনী উল্লেখ করতে ভোলেননি তাঁর গুরুদেবের আশ্রমের কথা। তার সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে ইসলামের। “আমার গুরুর নাম রাঘবেন্দ্র স্বামী। তাঁর আশ্রম মন্ত্রালয়মের জন্য জমি দিয়েছিলেন এক নবাব”, জানিয়েছেন তিনি।

আশ্চর্য হওয়ার মতোই ঘটনা, সন্দেহ নেই! অনেকে বলতেই পারেন সমাপতন, কিন্তু তাতেই ঘটনার সবটুকু ব্যাখ্যা করা যায় না। সাম্প্রদায়িক বিভেদের এই দিনে দাঁড়িয়ে রজনীর বক্তব্য যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। যেখানে ‘পদ্মাবতী’ ছবির প্রসঙ্গ টেনে আসন্ন গুজরাত ভোটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সম্ভাবনার উল্লেখ করছে দেশ, সেখানে রজনীর বিবৃতিতে মুগ্ধ হতেই হয়!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here