অভিনেতা হিসেবেই তাঁর একমাত্র পরিচয় নয়। তিনি জাতীয় স্তরের রাগবি খেলোয়াড়। তাই খেলা নিয়ে সিনেমা তিনি বানাতেই পারেন রাহুল বোস। তার ওপর ছবির পরিচালনা-প্রযোজনায় রয়েছেন তিনি নিজেই। কিন্তু হঠাৎ ১৩ বছরের মেয়ে পূর্ণার এভারেস্ট জয়ের বিশ্বরেকর্ড নিয়ে ছবি করা কেন ? এই বিষয়েই আড্ডা এগোল রাকা রায়ের সঙ্গে।

প্র:  খেলা নিয়ে ছবি করার কথা আগেও বলেছিলেন, কিন্তু ছবি(পূর্ণা)-র বিষয় হিসেবে মাউন্টেনিয়ারিং-কে বেছে নিলেন কেন?

রাহুল: বছর কয়েক আগে ছবিতে অভিনয় করার প্রস্তাব আসে। স্ক্রিপ্ট পড়ে আমি তো স্তম্ভিত। এমনও হয় (অবাক হয়ে)? এটা এখনও পর্যন্ত সব থেকে বড়ো স্পোর্টিং অ্যাচিভমেন্ট। ১৩ বছরের মেয়ের হিমালয় জয়, ভাবতেই পারে না কেউ। দেশের কনিষ্ঠতম এভারেস্টজয়ী। তার ওপর অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। ওর স্ট্রাগল্‌-এর কথা সবার জানা উচিত।

প্র: ছবির বিষয় এত অন্য রকম, প্রযোজক পেতে ঝামেলা হয়েছে নিশ্চয়ই? তাই কি নিজেই প্রযোজনা করলেন?

রাহুল: ঠিক তেমনটা নয়। তবে প্রযোজক পাওয়াটা খুব সহজ ছিল না। তাই শেষমেষ নিজেই প্রযোজনা করলাম।

প্র: এই ছবির কোন বিষয়টা আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিল?

রাহুল: মালাবাত পূর্ণা একটি ১৩ বছরের মেয়ে। তেলেঙ্গনায় থাকে। পাহাড়-পর্বতের কথা ওর ভাবারই কথা না। এখন ওর বয়স ১৬, বড়ো হয়ে কী হতে চায় জানেন? আইসিএস অফিসার। যাই হোক, অতো ছোটো একটা মেয়ে, তার হিমালয় অভিযান। ৮ মাসের কঠোর পরিশ্রম, ট্রেনিং আর এ সবের পর এভারেস্ট জয়। এমন সিনেমাটিক এলিমেন্ট আর কোথায় পেতাম? ওর গল্পটা সবার জানা উচিত

 

প্র: আপনার ছবির পূর্ণাকে কীভাবে পেলেন?

রাহুল: (হাসি) জানেন ৫০০ জন মেয়ের মধ্যে থেকে অদিতি ইনামদারকে বেছেছিলাম। আর কিছু বলতে হবে? খুব খুঁতখুঁতে আমি। সঠিক পূর্ণাকে না পেলে হয়তো ছবিটাই করতাম না। পূর্ণার চরিত্রে মানাচ্ছে না, এমন কাউকে নিলে গল্পটা ঠিক দাঁড়াত না। অদিতির চোখে একটা দৃঢ়তা দেখেছিলাম, তাই ওকে নেওয়া। ও কিন্তু দারুণ অভিনয় করেছে।

প্র: শুটিং-এর অভিজ্ঞতা কেমন ?

রাহুল: মারাত্মক অভিজ্ঞতা। একে ওই ঠান্ডায় শুট করেছি, দুর্গম জায়গা। তবে ডিজিটাল মাধ্যমে কাজ করে খুব মজা পেয়েছি। ভিএফএক্স-এর কাজটা শিখলাম। আপনি ছবিটা দেখেছেন?

উঃ মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম।

রাহুল: কোথায় ভিএফএক্স ব্যবহার করেছি বুঝতে পারেননি তো? বোঝা যাওয়ার কথাও নয়। দারুণ কাজ হয়েছে। আমরা তো নারী স্বাধীনতার কথা বলি। এ ছবি নারী প্রত্যয়ের চূড়ান্ত উদাহরণ। ছবিটা সবার দেখা উচিত।

 

প্র: ছবিটাকে আপনি স্পোর্টস ছবি বলতে চাইছেন কি?

রাহুল: আমি বলব, জয়ের ছবি, প্রত্যয়ের ছবি। এটা একটা মেয়ের লড়াইয়ের গল্প। পূর্ণা যে এভারেস্টে উঠবে, সে তো আমরা সিনেমা শুরুর আগেই জানি। কিন্তু কী পরিস্থিতিতে এই জয়, সেটাই গল্প।

আর একটা কথা বলতে চাই। প্রশাসনের ঠিক পদক্ষেপ, আমলাদের সঠিক ভূমিকা থাকলে ভারতবর্ষের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গরিব মেয়েও অসাধ্য সাধন করতে পারে।

প্র:  নতুন কোনো ছবি করছেন?

রাহুল: কয়েকটা গল্প মাথায় আছে, দেখা যাক। অভিনয় কম করব বলছিনা, কিন্তু আগামী দিনে পরিচালনার কাজ বেশি করব। কয়েকটা চিত্রনাট্য শেষ করেছি। তবে এখন শুধু দর্শকদের বলব, পরিবারের খুদে সদস্যদের নিয়ে দেখে আসুন পূর্ণার স্ট্রাগল্‌।

1 মন্তব্য

  1. প্রশাসন সঠিক থাকলে এই অভিযানটাই হোতো না.
    চীনা সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী কোন অভিযাত্রীকে এভারেস্ট আরোহণের অনুমতি দেয় না. অভিযানটাই বেআইনী. বিদেশীদের কাছে এই নিয়ে আমাদের ভারত এবং ভারতীয়দের সম্বন্ধে অপমানজনক কথা শুনতে হয়েছে. বেসক্যাম্পে এই নিয়ে প্রায় মারপিট হয়ে যাচ্ছিলো.

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here