ওয়েবডেস্ক : পদ্মাবতী চরিত্রটা ঐতিহাসিক নয়, কাল্পনিক। আর এর উপস্থিতি সব সময়ই বিতর্কত। এ কথা বললেন  বিশিষ্ট ঐতিহাসিক এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইরফান হাবিব। সঞ্জয় লীলা বনসলির ছবি ‘পদ্মাবতী’ মুক্তির বাতিলের দাবির প্রতিবাদে এ কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক ইরফান হাবিব পদ্মাবতীর বিষয়ে বলেন, যদিও ইতিহাসের ওই সময় আলাউদ্দিন খিলজি চিতোর জয় করেন, কিন্তু সেই সময় পদ্মাবতী নামের কোনো চরিত্রের উল্লেখ নেই মূল ইতিহাসে। তিনি আরও বলেন, চিতোরের ওই ঘটনাড় ২৫০ বছর পরে মালিক মহম্মদ জয়সি তাঁর ‘পদ্মাবত’ কবিতা সমগ্রে প্রথম বার পদ্মাবতী নামের উল্লেখ করেন। এটা সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেখানে পদ্মাবতী নামের এক রাজকুমারীর কথা বলা হয়েছে। সে সিংহল দ্বীপ অর্থাৎ শ্রীলঙ্কার রাজকুমারী। পদ্মাবতীর বিয়ে হয় মেবারের রাজা রতন সিংহের সঙ্গে। আর মেবার দরবারের রাজ ঐতিহাসিক শ্যামল দাস পদ্মাবতীর বর্ণনা দিলেও তার প্রসঙ্গ আলাদা ছিল।

এ দিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ছবির নায়কনায়িকারা অর্থাৎ দীপিকা পাডুকোন, রণবীর সিং, সইদ কাপুর ইতিহাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। ইতিহাস বিকৃত করেছেন। ছবিতে পদ্মাবতী (দীপিকা) আর আলাউদ্দিনের (রণবীর) মধ্যে রোমান্টিক দৃশ্য দেখানো হয়েছে।

ইলাহাবাদ হাইকোর্ট ‘পদ্মাবতী’ বন্ধের আবেদন বাতিল করেছে। সুপ্রিম কোর্টও পদ্মাবতী মুক্তিতে স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিরাজ এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত হয়েই আছে কয়েকটি সংগঠন। আলিগড়ের ক্ষত্রিয় সংগঠনের সভাপতি সতীশ সিংহ বলেন, রানি পদ্মাবতী এক জন ক্ষত্রিয়। ঘটনা পরম্পারার মাধ্যমে তার চরিত্রের রদবদল করে ছবিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই উপস্থাপনার দরুণ ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের সম্মানে আঘাত লেগেছে। তাই সিনেমাহলে এই ছবি মুক্তি পেতে দেওয়া হবে না। যে সব সিনেমা হলে এই ছবি দেখানো হবে সেখানে প্রচণ্ড বিক্ষোভ দেখানো হবে।

এর আগে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ আলিগড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা ছবির পোস্টার ছিঁড়ে তা পুড়িয়ে ফেলে। বিক্ষোভকারীরা সঞ্জয় টকিতে গিয়েও ব্যাপক গণ্ডগোল করে। সিনেমাহল মালিকরা যাতে হিন্দুদের আত্মসম্মানে আঘাত না করে সে ব্যাপারে ইতিমধ্যেই সংগঠনের সভাপতি অমিত চৌধুরী হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।

সমাজবিশ্লেষক এন জামাল আনসারি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, রানি পদ্মাবতীর চরিত্র ঐতিহাসিক নাকি না, সেটা কোনো ব্যাপারই না। এটা একটা ছবি। এটা মুক্তি পাওয়া উচিত। আজকাল কাল্পনিক পৌরাণিক গল্প ইতিহাস হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এটাই বিপজ্জনক ব্যাপার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here