খবর অনলাইন ডেস্ক: তাঁর চলচ্চিত্র-জীবন মাত্র তিন বছরের। সেই সামান্য সময়টুকুর মধ্যেই তিনি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে ঝড় তুলে দিয়েছিলেন। তাঁর স্বর্গীয় সৌন্দর্য আর সারল্যে ভরা মুখখানি মুগ্ধ করেছিল দর্শকদের।

প্রায় ২৮ বছর হল তিনি চলে গিয়েছেন, কিন্তু আজও টিভিতে তাঁর সিনেমা দেখানো হলে সবাই তাঁর টানে বসে পড়েন, বিশেষ করে তাঁরা, যাঁরা নব্বইয়ের দশকটাকে নিজেদের যৌবনের সঙ্গে মেলাতে পারেন।

তিনি দিব্যা ভারতী। ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর ৪৭ বছর পুর্ণ হল। তাঁর মৃত্যু রহস্যাবৃত। মুম্বইয়ের আন্ধেরি ওয়েস্টে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের পাঁচ তলার ব্যালকনি থেকে তিনি পড়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। দিনটা ছিল ১৯৯৩-এর ৫ এপ্রিল। তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা জনে নানা কথা বলে। মুম্বই পুলিশ ১৯৯৮ সালে তাঁর মৃত্যুর তদন্ত বন্ধ করে দেয়। বলা হয়, দিব্যার মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইহলোক ত্যাগ করলেন দিব্যা।

মৃত্যুর এক বছর আগে প্রযোজক-পরিচালক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালাকে বিয়ে করেন দিব্যা ভারতী। ‘শোলা আউর শবনম’-এর সেটে আলাপ হয় সাজিদের সঙ্গে। তারই জেরে পরিণয়। দিব্যা এই বিয়ের খবর অনেক দিন গোপন রেখেছিলেন।

দিব্যার জন্ম ১৯৭৪-এ মুম্বইয়ে। ১৯৮৮-তে ক্লাস নাইনে পড়ার সময়েই ফিল্মে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু এক বার তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় সংগীতা বিজলানিকে এবং আরও এক বার জুহি চাওলাকে। চলচ্চিত্রে দিব্যার অভিষেক পিছিয়ে যায়।

বোব্বিলি রাজা’য় বেঙ্কটেশের সঙ্গে।

শেষ পর্যন্ত দিব্যার অভিষেক হয় দু’ বছর পরে তেলুগু ফিল্মে। বি গোপালের পরিচালনায় ‘বোব্বিলি রাজা’ ছবিতে অভিনয় করে তেলুগু ফিল্মে সর্বশ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসাবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান দিব্যা। দিব্যার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক ডি রামানায়ডুর পুত্র দাগগুবতি বেঙ্কটেশ।

১৯৯১-এ দিব্যা অভিনয় করলেন দুই বিখ্যাত দক্ষিণী অভিনেতা চিরঞ্জীবী ও মোহনবাবুর সঙ্গে। চিরঞ্জীবীর সঙ্গে করলেন ‘রাওডি আল্লুডু’ এবং মোহনবাবুর সঙ্গে ‘অ্যাসেমব্লি রাওডি’ ছবিতে। এরই মাঝে দিব্যা অভিনয় করেছেন তামিল ছবিতে। আরও কিছু তেলেগু ফিল্মে অভিনয় করলেন।

‘বিশ্বাত্মা’য় সানি দেওলের সঙ্গে।

তেলুগু ফিল্মে তাঁর অভাবনীয় সাফল্যে এ বার নজর পড়ল বলিউডের চলচ্চিত্রকারদের। দেশব্যাপী খ্যাতির দরজা খুলে গেল দিব্যার সামনে। বলিউডে তাঁর অভিষেক হল ‘বিশ্বাত্মা’ (১৯৯২) ছবিতে। রাজীব রাইয়ের এই ছবিতে দিব্যার বিপরীতে ছিলেন সানি দেওল। এই ছবিরই সেই বিখ্যাত গান ‘সাত সমুন্দর পার’ আজও দিব্যাকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

‘দিল কা কেয়া কসুর’ ছবিতে।

বলিউডে দিব্যার দ্বিতীয় ছবি ছিল ‘দিল কা কেয়া কসুর’ (১৯৯২)। লরেন্স ডিসুজা পরিচালিত ওই ছবিতে দিব্যার বিপরীতে অভিনয় করেন পৃথ্বী।

‘শোলা অউর শবনম’-এ গোবিন্দার সঙ্গে।

বক্সঅফিসে দিব্যার অন্যতম সুপারহিট ছবি ‘শোলা অউর শবনম’ (১৯৯২)। ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত ওই ছবিতে দিব্যা অভিনয় করেছিলেন গোবিন্দার সঙ্গে জুটি বেঁধে। এই ছবির বিখ্যাত গান ‘বোলে বোলে, দিল মেরা বোলে’।

ঋষি কপুরের সঙ্গে ‘দিওয়ানা’য়।

১৯৯২-এ দিব্যার আরও একটি সুপারহিট ছবি ‘দিওয়ানা’। দিব্যার বিপরীতে ছিলেন দু’ জন নায়ক – বলিউডের অভিজ্ঞ অভিনেতা ঋষি কপুর এবং নবাগত শাহরুখ খান। ‘দিওয়ানা’য় দিব্যার অভিনয় বহুল প্রশংসিত হয়।

‘বলবান’ ছবিতে।

১৯৯২-এ দিব্যার আরও একটি সফল ছবি ‘বলবান’। এই ছবিতে অভিষেক হয় সুনীল শেট্টির। ‘বলবান’-এ ড্যানি ডেনজোংপা, টিনু আনন্দ এবং নীনা গুপ্ত।

আবার শাহরুখের সঙ্গে, ‘দিল আশনা হ্যায়’।

১৯৯২-এই মুক্তি পেল দিব্যার ‘দিল আশনা হ্যায়’। বিপরীতে শাহরুখ খান। পরিচালক হিসাবে হেমা মালিনীর প্রথম ছবি।

মাত্র তিন বছরের ফিল্মি কেরিয়ারে দিব্যা ২১টি ছবিতে অভিনয় করেন। এর মধ্যে ১টি তামিল, ৭টি তেলেগু এবং বাদবাকি হিন্দি ছবিতে।

শেষ ছবি ‘শতরঞ্জ’।

মৃত্যুর পর দিব্যার তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। এর মধ্যে শেষ ছবি ‘শতরঞ্জ’ (১৯৯৩)। ছবিতে দিব্যা অভিনয়ের কাজ শেষ করে গেলেও ডাবিং করে যেতে পারেননি। অন্য শিল্পীকে দিয়ে ডাবিং করাতে হয়।   

সেই সময় আরও একটি ফিল্মে কাজ করছিলেন দিব্যা – তেলুগু ছবি ‘থোলি মুদ্ধু’। এই ছবিতে অভিনয় করতে করতেই দিব্যার অকালমৃত্যু হয়। তাঁর অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন দক্ষিণী অভিনেত্রী রম্ভা।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন