Deb Chowdhury
সংগীত পরিবেশন করছেন দেব চৌধুরী।

নিজস্ব প্রতিনিধি: উপলক্ষ্যটা ছিল ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাবের ৪৪তম বার্ষিক অনুষ্ঠান। রবিবার সেই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহে। প্রথম পর্বে প্রথাগত কিছু অনুষ্ঠানের পর দ্বিতীয় পর্বে ছিল দেব চৌধুরীর ‘সহজিয়া’ ফোক ব্যান্ডের লোকসংগীত পরিবেশন। দেবরা তাঁদের পারফরম্যান্সে আবিষ্ট করে রাখলেন শ্রোতা-দর্শকদের, মাতিয়ে দিলেন সবাইকে।  

‘সহজিয়া’র পরিবেশনায় কী ছিল না! সে দিন লোকসংগীতের ঐতিহ্যশালী ভাণ্ডার প্রায় উজাড় করে দিল শ্রোতা-দর্শকদের কাছে। মোহিত শ্রোতা-দর্শককুল।

‘মুরশিদ ধন হে, কেমনে চিনিব তোমারে’ – উদাত্ত গলায় ধরলেন দেব, সভাগৃহ ১৬০০ পদের সৃষ্টিকর্তা শাহ আবদুল করিমের গানে মাতোয়ারা। তার পরেই দেব ধরলেন ‘বাউলা কে বানাইলো রে’, হাসন রাজার গানে মেতে উঠল প্রেক্ষাগৃহ।

দেবের দু’টি গান পরিবেশনের পর এল সংবর্ধনার পালা। ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাবের তরফ থেকে ‘সহজিয়া’র স্রষ্টা দেব চৌধুরীকে সংবর্ধনা জানালেন ক্লাবের সভাপতি প্রান্তিক সেন, সাধারণ সম্পাদক ইমন কল্যাণ সেন এবং বর্ষীয়ান সদস্য শম্ভু সেন।

দেব চৌধুরীকে সংবর্ধনা।

আবার শুরু হল দেবের পরিবেশনা। এ বার সিলেট অঞ্চলের ‘ধামাইল’ – রাধারমণ দত্তের ‘রব না রব না গৃহে বন্ধু বিনে প্রাণ বাঁচে না’। এর পর দেব আবার চলে গেলেন শাহ আবদুল করিমের ‘আর কিছু চাই না মনে গান ছাড়া’ গানে।

প্রতিটি গানের আগে দেব তার প্রেক্ষিত বর্ণনা করেছেন, ইতিহাস শুনিয়েছেন। পরের পরিবেশনা দিয়ে দেব বুঝিয়ে দিলেন সংগীত চলে এক অনন্ত পথ দিয়ে। বিশুদ্ধ কাঠামো বজায় রেখেই সংগীত নিজের আবরণ এবং আভরণ খানিকটা বদলে নেয়। দেব শুরু করলেন শাহ আবদুল করিমের জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া ‘প্রেম জানে না রসিক কালাচাঁদ’ দিয়ে, যার সুর করেছিলেন আব্বাসউদ্দিন। দেব সেখান থেকে চলে গেলেন ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’ গানে – মূল গানের কাঠামো একটু অদলবদল করে এই গান বেঁধেছিলেন আব্বাসউদ্দিনের মেজো পুত্র জামাল মোস্তাফা আব্বাসী আর গেয়েছিলেন কন্যা ফিরদৌসী রহমান। সেখান থেকে দেব যখন এলেন বাপী লাহিড়ীর সুর করা ‘প্যার বিনা চায়েন কহাঁ রে!’ গানে। সাড়ে সাত মিনিটের এই পরিবেশনায় রবীন্দ্র সদনের মুড তখন অন্য রকম। শ্রোতা-দর্শকরা মুগ্ধ।

এরই মাঝে ‘সহজিয়া’র রুদ্র গাইলেন ‘মেনকা মাথায় দিল ঘোমটা’। তার পর তরুণ চৌধুরী পরিবেশন করলেন সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’র সেই বহুল প্রচারিত গান – ‘কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়’ – আজকের দিনে এর চেয়ে বড়ো সত্যি আর কিছু নেই।

দেব এ বার এলেন এ-পার বাংলার হাউড়ে গোঁসাইয়ের গানে। সোয়া দু’শো বছরেরও বেশি আগে বর্ধমানে জন্মেছিলেন মতিলাল সান্যাল। ব্রাহ্মণ পণ্ডিত। তন্ত্র মতে দীক্ষিত হয়ে হলেন শনকানন্দ স্বামী। তার পর বৈষ্ণবগুরু প্রহ্লাদচাঁদ গোঁসাইয়ের কাছে দীক্ষা নিয়ে হলেন হাউড়ে গোঁসাই। দেব ধরলেন তাঁর গান – ‘খ্যাপা কোন বিন্দুতে মদন অচেতন’। এ দিনের পরিবেশনায় অন্য মাত্রা এনে দিল এই গান। গোটা প্রেক্ষাগৃহ স্তম্ভিত।

সহজিয়া’র পরিবেশনা।

এর পরের গান ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র গৌতম চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা – ‘মহীনের ঘোড়াগুলি ছুটছে কুয়াশায় প্রান্তরে’।

এর পর আটটা চড়াই পাখির কাহিনি শোনালেন দেব। তারা বাসা বেঁধেছিল দেবেদের বাড়িতে। তাদের মধ্যে একটি কচি। এক ঘনঘোর বর্ষার রাতে তাদের বাসা লণ্ডভণ্ড। তবে তারা সাত জন অক্ষত। নিজেদের দুরবস্থায় ভাবিত নয় তারা। তারা ভাবিত তাদের সেই ছোট্ট ছানাটিকে নিয়ে। সে কোথায়? গোটা রবীন্দ্র সদনও তখন ভাবছে, সেই কচি চড়াই-ছানাটি কোথায়। খুঁজতে খুঁজতে সে বেরিয়ে এল খাটের তলা থেকে। স্বস্তি। স্বস্তি গোটা প্রেক্ষাগৃহের। স্বস্তির প্রমাণ, হাততালির বন্যা। অপূর্ব পরিবেশনা দেবের।

এ বার দেবের পরিবেশনা তাঁর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে – শুরু ঝুমুর গান ‘ছাতা ধরো হে দেওরা’ দিয়ে। তার পর সেই বিপুল জনপ্রিয় গান কবি অরুণ চক্রবর্তীর ‘লাল পাহাড়ির দেশে যা’। এর পর ইদানীং কালের সুপারহিট গান ‘ইনি বিনি টাপা টিনি/টানা টুনি টাসা/সাহেববাবুর বউ এয়েছে/দেখতে ভারী খাসা’। সব মিলে মিশে একাকার। হল জমজমাট।

এ দিনের শেষ পরিবেশনা ছিল বিহু – ‘টুক দেখি মুর গা/কেনে বা লাগে’। সবাই মেতে উঠলেন নাচে। তার রেশ চলে এল মঞ্চেও।

‘সহজিয়া’র দু’ ঘণ্টার পরিবেশনায় শ্রোতা-দর্শকরা মোহিত, মুগ্ধ। এ দিন দেবের সঙ্গে ‘সহজিয়া’র আর যাঁরা ছিলেন তাঁরা হলেন তরুণ, অর্ণব, ইন্দ্র, বাকু, রুদ্রনীল, শংকর ও শ্যাম।

ছবি: অভিজিৎ ভট্টাচার্য

আরও পড়তে পারেন

নির্ভীক সাংবাদিক তৈরি করতে দৃষ্টান্ত গড়ুন, ক্যালকাটা জার্নালিস্টস ক্লাবের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে আর্জি বিধায়ক দেবাশিস কুমারের

কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার দৌড়ে শশী তারুর? জোর জল্পনা

ফের অভিষেককে ইডি-র তলব, সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ

২০০২ হিংসা মামলা: এক প্রবীণ নেতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিলেন তিস্তা শেতালওয়াড়, সুপ্রিম কোর্টে বলল গুজরাত সরকার

৫জি পরিষেবা ঘোষণা করল রিলায়েন্স জিও, দীপাবলিতেই চালু হয়ে যাবে কলকাতা-সহ ৪ শহরে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন