Tarun Majumder
শেষ শয্যায় তরুণ মজুমদার। ছবি: রাজীব বসু।

কলকাতা: বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদারের প্রয়াণে শোকাভিভূত বাংলার সংস্কৃতিজগৎ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখর থেকে শুরু করে বাংলার চলচ্চিত্রজগতের দিকপালেরা তরুণবাবুর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।  

বামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী তরুণ মজুমদার জীবনের শেষপর্ব পর্যন্ত বামপন্থার জন্য সরব থেকেছেন। তাঁর মৃত্যুতে সিপিআই(এম) এবং বামপন্থী নেতৃবৃন্দও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তরুণ মজুমদারের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর শোকবার্তায় লিখেছেন, ““বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক তরুণ মজুমদারের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। ভিন্নধারার রুচিসম্মত সামাজিক চলচ্চিত্র নির্মাণে তরুণ মজুমদার উজ্জ্বল নিদর্শন রেখে গিয়েছেন। তাঁর ছবিতে রবীন্দ্রসংগীতের প্রয়োগ দর্শককে আবিষ্ট করে রাখে। তরুণ মজুমদার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ‘বালিকা বধূ’, ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’, ‘ফুলেশ্বরী’, ‘দাদার কীর্তি’, ‘ভালবাসা ভালবাসা’, ‘সংসার সীমান্তে’, ‘গণদেবতা’, ‘শহর থেকে দূরে’, ‘পথভোলা’, ‘চাঁদের বাড়ি’, ‘আলো’ ইত্যাদি উল্লেখের দাবী রাখে। তিনি পদ্মশ্রী, জাতীয় পুরস্কার, বিএফজেএ পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড-সহ বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তাঁর প্রয়াণ চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তরুণ মজুমদারের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।”

সোমবার সকাল ১১.১৭ মিনিটে এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তরুণ মজুমদার। নিমেষের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে যায়। চলচ্চিত্রমহলেও এই খবর পৌঁছোতে দেরি হয়নি।

তরুণবাবুর প্রয়াণের খবরে ব্যথিত বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ। তাঁর কথায়, “এটা কি ক্ষতি নাকি অন্য কিছু? আমি কিছুই বলতে পারছি না। এত ভাল করে ছবি বানাতেন, এত নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে কাজ করতেন, এমনটা সাধারণত দেখা যায় না। বিভিন্ন স্বাদের ছবি বানাতেন। অনেক কিছু শিখেছি তাঁর থেকে। চিরকাল তাঁকে মনে রাখব আমরা।”

‘আলো’ ছবিতে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত প্রথম কাজ করেন তরুণ মজুমদারের সঙ্গে। দুসংবাদ শুনে খুবই মন খারাপ ঋতুপর্ণার। বললেন, “খবরটা শোনার পর থেকে মনটা বড় অস্থির হয়ে আছে। খুব বড় ক্ষতি হয়ে গেল।”

অভিনেত্রী শতাব্দী রায় বললেন, “তরুণ মজুমদারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাই আলাদা। তাঁর সেন্স অফ হিউমার অত্যন্ত ভালো ছিল। কথা বলার ভঙ্গিমাও ছিল দারুণ। গল্প বলতেন কাজের ফাঁকে ফাঁকে। মানুষ হিসেবে দারুণ ছিলেন। কাজের সময় ভুল হলে আমাদের শাসন করতেন, শাস্তি দিতেন। কিন্তু আমরা তার জন্য অখুশি হতাম না, শিখতাম। এত মিষ্টি প্রেমের ছবি যে হতে পারে, তা তাঁর সিনেমা না দেখলে বোঝা যায় না।”

তরুণ মজুমদারের সঙ্গে চলচ্চিত্রাভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের প্রথম ছবি ‘চাঁদের বাড়ি’। তিনি বলেছেন, জীবনের অনেক বছর পেরিয়ে এসে ওঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয় আমার। ভাল, গুণী মানুষের সঙ্গে কাজ করতে কার না ভাল লাগে। ২০০৭ সালে এসে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়। খুব অল্প সময়ই ওঁর থেকে অনেক কিছু শিখেছি। শেষ কয়েক দিন ধরেই খবরে দেখছিলাম উনি খুবই অসুস্থ ছিলেন। সেই সময়কার সব মানুষই একে একে চলে যাচ্ছেন। ঐ প্রজন্মের পরিচালকদের মধ্যে তরুণবাবুই মনে হয় শেষ, যিনি ছিলেন।”

আরও পড়তে পারেন

অনন্য সব কীর্তি রেখে চলে গেলেন চলচ্চিত্রকার তরুণ মজুমদার  

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন