ওয়েবডেস্ক: সৃজিত মুখোপাধ্যায় কি হালফিলে আটকে পড়ছেন একই রকম বিষয়ভিত্তিক ছবিতে? এই যেমন, এক দিকে পর পর এমন ছবি বানিয়ে চলেছেন, যেগুলোয় আগে অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার। ‘সন্ন্যাসী রাজা’ বনাম ‘এক যে ছিল রাজা’, ‘চৌরঙ্গী’ বনাম ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ বা সেই শুরুর দিকের প্রসঙ্গ তুলে বলা যায় ‘নায়ক’ বনাম ‘অটোগ্রাফ’! তা, ‘এক যে ছিল রাজা’ ছবিতে যেমন সন্ন্যাসীকে সামনে আসল মানুষকে খোঁজার চেষ্টা, তেমন ভাবেই কি মাথায় এল ‘গুমনামি বাবা’ বা শৌলমারির সাধুকে নিয়ে ছবি তৈরির কথা? যিনি খোদ নেতাজিই- এ দাবি উত্থাপন করে থাকেন অনেকেই?

আরও পড়ুন: উচ্চ কণ্ঠে ঝগড়া করা সৃজিত শান্ত হয়েছেন, জানাচ্ছেন আবির খোলাখুলি

আসলে নেতাজিকে একদা সাধু বলে উল্লেখ করা হয়েছিল! নেতাজির অন্তর্ধানের চার বছর বাদে কলকাতার গোয়েন্দা অফিসার অনিল ভট্টাচার্য অতি গোপন একটি নোটে লিখেছিলেন, “ধারওয়ার (বম্বে) হইতে ভিড়াইয়া রুদ্রাইয়া কাম্বলি শ্রী শরৎ বসুকে জানাইতেছে যে, ‘সাধু’ ভাল আছে। এবং স্ট্যালিন কবে ভারতে আসিবে লেখক তাহা জানিতে চাহিতেছে।” পাশাপাশি, ১৯৮৫ সালে ফৈজাবাদের এই সাধুর মৃত্যুর পর তাঁর তোরঙ্গ থেকে মিলেছিল রঙ্গের খোরাক- নেতাজির মতোই গোল ফ্রেমের চশমা, জার্মানি ও ইতালির সিগার, বেলজিয়ান টাইপ রাইটার, স্বাধীনতার আগের ও পরের বহু সংবাদপত্র এবং নেতাজির দু’টি পারিবারিক ছবিও! সব মিলিয়ে, জল্পনা তুঙ্গে ওঠে! যদিও, ‘গুমনামি বাবা’ বা ‘শৌলমারির সাধু’ যে নেতাজি, এই তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন নেতাজির দুই জীবনীকার, প্রবীণ ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ লেনার্ড গর্ডন ও সুগত বসু। যে সুগত কি না নেতাজির ভাইয়ের ছেলে শিশিরকুমারের বংশধর!

যাই হোক, সৃজিত ছবিতে কোন সিদ্ধান্তে আসবেন, কী রাখবেন আর কী রাখবেন না- তা এখনই জানার উপায় নেই। এটুকু এখনও পর্যন্ত খবর, নাম ঠিক না হওয়া এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি, ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট, যে দিন নেতাজি জাপানি বিমানে চড়েছিলেন, সে দিনই ছবি তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন তিনি! বাকিটা দেখা যাক!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন