ওয়েবডেস্ক: চার বছর পর সরাসরি বলিউডের ‘কুইন’কে নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নেশন ওয়ান্টস টু নো’-এর সাক্ষাৎকার দিলেন হৃত্বিক রোশন। সাক্ষাৎকারের শুরু থেকে শেষ পুরোটা জুড়েই ছিল হৃত্বিক-কঙ্গনা বিতর্ক। রিপাবলিক টিভির হট সিটে বসে যে খুব স্বস্তিতে ছিলেন না, সে কথা স্বীকার করে নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া শুরু করেন তিনি। অস্বস্তি এতটাই, যে সাক্ষাৎকার চলাকালীন নিজে থেকে একবারও উচ্চারণ করলেন না কঙ্গনার নাম। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই বলেন, “আজ এখানে যে কারণে বসে আছি, সেটা মোটেই সম্মানজনক নয়। অন্য কাউকে ভুল প্রমাণ করে নিজের চরিত্রের গুণগান গাওয়ার মধ্যে কোনো বীরত্বও নেই। আজ আমি মুখ খুলছি, এতে কারোর ভাবাবেগ আহত হতেই পারে, সেটা আগেই বলে রাখতে চাই।

আরও পড়ুন: কঙ্গনা-হৃতিকের যে ছবি নিয়ে তোলপাড় তার ইতিহাসটা জেনে নিন

২০১০-এ ‘কাইটস’ আর ২০১৩-তে ‘ক্রিশ ৩’, এই দুই ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন দুজনে, এবং দেখা সাক্ষাৎ যা হয়েছে এই দুই ছবিকে ঘিরেই, জানালেন রাকেশ পুত্র। “আমাদের আজ পর্যন্ত কখনও আলাদা দেখা হয়নি”। কঙ্গনা কোনো এক সময়ে তাঁকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বললেও সেরকম বন্ধুত্ব কখনই গড়ে ওঠেনি তাঁদের দুজনের মধ্যে, দাবি ঋত্বিকের। তাঁর কথায়, “কঙ্গনা চূড়ান্ত পেশাদার থাকত সেটে। শুধু সিনেমার জন্য কেউ এতটা দিতে পারে, এটা ভাবলেই গর্ব হত, ওঁকে সে কথা বেশ কয়েকবার জানিয়েও ছিলাম।”

কোনো এক পার্টিতে তোলা দুজনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি নিয়ে হইচই কম হয়নি পেজ থ্রি-তে। সেই বিতর্কিত ছবি নিয়ে অর্ণব প্রশ্ন ছুড়তেই হৃত্বিক স্পষ্ট জানান, “পার্টিতে কয়েকশ লোক থাকেই, টিমের সবাই যেমন থাকে আমরাও ছিলাম”। প্রাক্তন স্ত্রী সুজেন-এর মতো তিনিও কিন্তু ওই বিশেষ ছবিটিকে ফটোশপড্‌-ই বলছেন। “কঙ্গনার দিক থেকে আগে কখনও এরকম ব্যবহার পেয়েছিলেন, যাতে মনে হতে পারে, কোথাও কিছু গণ্ডগোল আছে?” এই প্রশ্নে হৃত্বিক বলেন ২০১২ সালে জর্ডনের এক রাতের ঘটনা। অতিরিক্ত পান করে গভীর রাতে হৃত্বিকের ঘরে আসতে চেয়েছিলেন নায়িকা। পরে তাঁর বোন রঙ্গোলি এসে হৃত্বিককে বলেছিলেন, তিনি যেন কিছু মনে না করেন।

একের পর এক প্রশ্নবাণ আসতে থাকে সাংবাদিক অর্ণবের দিক থেকে। “কঙ্গনা এর আগে বলেছিলেন, আপনি ওঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আপনার কিছু বলার থাকলে তখন সাক্ষাৎকার দিলেন না কেন?” ঋত্বিকের জবাব, “কারণ সেটা খুব সম্মানজনক ছিল না। আমি যা বলতাম, সেটা আমার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হত”। আর বিতর্কিত সেই সব ই-মেল? সেগুলো অভিনেতার সম্মতিতে পাঠানো না হলে তৎক্ষণাৎ ব্লক করেননি কেন, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি যে অ্যাপ ব্যবহার করতাম, তাতে ব্লক করা যেত না। তিন থেকে চার হাজার মেল করা হয়েছিল আমায় হেনস্থা করার জন্য, তার মধ্যে ৪০-৫০টা আমি পড়েছিলাম। আমার জীবনবোধ বলে, গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে যথাযথ উত্তর ছিল ওই সমস্ত চিঠির”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here