কেন পর্নহাবের বিরুদ্ধে মামলা করছেন ৪০ জন মহিলা, যৌনপাচারের ভিডিও সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: পর্ন স্ট্রিমিং সাইট পর্নহাবের (MindGeek) বিরুদ্ধে উঠেছে মারাত্মক অভিযোগ। প্রকাশ্যে এসেছে শিশু যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশের খবর। জনপ্রিয় এই পর্নগ্রাফিক ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে মামলা করছেন প্রায় ৪০ জন মহিলা।

ভুক্তভোগীদের চরম দুর্দশার মধ্যে ফেলা এবং বিব্রত করা ছাড়াও সেক্স ট্র্যাফিকিং থেকে আর্থিক লাভ হয় এ ধরনের ওয়েবসাইটগুলির। উল্টো দিকে সেক্স ট্র্যাফিকিংয়ের (sex trafficking) শিকার হওয়ার মহিলাদের দুর্দশা বাড়তে থাকে।

Loading videos...

দাবি ৪ কোটি ডলার

একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্নহাবের মূল সংস্থা মাইন্ডগিকের (MindGeek) কাছে ৪ কোটি ডলার দাবি করে মামলা দায়ের করা হয়েছিল ৪০ জন মহিলার তরফে। অভিযোগ, তাঁরা প্রত্যেকেই সেক্স ট্র্যাফিকিংয়ের শিকার।

পর্নহাবের অংশীদার কন্টেন্ট সংস্থা ‘গার্লস ডু পর্ন’ এই আইনবিরুদ্ধ কাজটি করেছিল। এ ধরনের ভিডিয়োর বিরুদ্ধে রিপোর্ট হওয়ার পরেও সেগুলোকে পুরোপুরি অপসারণ করা যায়নি। এর পর এফবিআই তদন্ত শুরু করার পরে ২০১৯ সালে ‘গার্লস ডু পর্ন’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পর্নহাব নিজেদের অবৈধ লেনদেন সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে ‘গার্লস ডু পর্ন’ (Girls Do Porn) নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

বারবার অভিযোগ

আবেদনকারী মহিলারা জানিয়েছেন, ‘গার্লস ডু পর্ন’-এর বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ জানানোর পরেও পর্নহাব কোনো রকমের পদক্ষেপ নেয়নি। সেক্স ট্র্যাফিকিংয়ের শিকার হওয়ার মহিলাদের সঙ্গে জালিয়াতি অথবা জবরদস্তি করা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে ‘গার্লস ডু পর্ন’-এর বিরুদ্ধে।

দুই বৃহত্তম ক্রেডিট কার্ড সংস্থা ভিসা (Visa) এবং মাস্টারকার্ডের (Mastercard) মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা লেনদেন করতে পারেন পর্নহাবে। মামলার কথা প্রকাশ্যে আসতেই সংস্থা দু’টি পর্নহাবকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৪ ডিসেম্বর ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্নহাবে শিশু নিগ্রহ ও সম্মতিবিহীন যৌনাচারের ভিডিও প্রদর্শিত হচ্ছে। এই অভিযোগের পর মাস্টারকার্ড পর্নহাবের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তারা জানিয়েছে, এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, পর্নহাবের ব্যবহারকারীরা আর অ্যাকাউন্ট সাবক্রিপশনের জন্য ভিসা অথবা মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে পারবেন না।

কী অভিযোগ

অভিযোগকারিণীদের দাবি, পর্নহাবের মূল সংস্থা মাইন্ডগিক ২০০৯ সাল থেকে ‘গার্লস ডু পর্ন’-এর অবৈধ লেনদেন সম্পর্কে জানত। বিশেষ করে ২০১৬ সাল নাগাদ যখন দুর্দশার শিকার হওয়া একাধিক ব্যক্তি অভিযোগগুলি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন। অসাধু উপায়ে, ভয় দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে অনেক দিন আগেই। কিন্তু তার পরেও কোনো যথাযোগ্য ব্য়বস্থা নেয়নি স্ট্রিমিং সংস্থা পর্নহাব।

নিউজ ১৮-র প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁরা আরও দাবি করেছেন, পর্নহাবকে বিশেষ ভাবে বলা হয়েছিল, তারা যেন আগাম সম্মতি ছাড়া ভিডিওগুলি ইন্টারনেটে পোস্ট না করে। কিন্তু তা মানা হয়নি। এর পর লিখিত অভিযোগ অথবা ই-মেলে অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও পর্নহাব ভিডিওগুলি নিজের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেয়নি। এমনকী ওই ভিডিওগুলি এখনও দেখানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সিনেটর জশ হাউলির নেতৃত্বে একদল আইনজীবী নতুন একটি আইনের খসড়া পেশ করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, যৌন হেনস্তা, পাচার ও প্রতিশোধমূলক পর্নের শিকার হলে যে কেউ পর্নহাবের মতো সাইটগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে, যদি ওই সাইটে ভিডিও প্রদর্শিত হয়।

আরও পড়তে পারেন: এই নায়করা পর্দায় কখনও চুমুর দৃশ্য করেননি

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন