গত ২৪ ঘণ্টায় বনদফতরের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই তিনটি ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উত্তরের বনাঞ্চলে ফের দর্শন মিলল রয়াল বেঙ্গল টাইগারের।তবে চাক্ষুষ নয়,বনদফতরের ট্র‍্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বাঘের ছবি।

নেওড়াভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের ঘটনা।

সমতল থেকে সাড়ে-সাত হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ি জঙ্গলে বসানো ট্র‍্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ছবিগুলি। পাংখাসরি,রাচেলা পার্ক,চোদ্দফেরির কোর এরিয়ায় লাগানো ক্যামেরায় হয়েছে বাঘ-বন্দি।

কালিম্পং জেলার নেওড়াভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক রাজ্যের একমাত্র “ভার্জিন হিল ফরেস্ট”।এই বনাঞ্চলে এখনও এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে মানুষের পা পড়েনি। পন্ডার জন্য বিখ্যাত হলেও এর গহীন অরণ্যে এখনো অনেক দুর্লভ বন্যপ্রাণীর বসবাস রয়েছে। রাজ্য বনদফতর বরাবরই দাবি করে এসেছে এর গভীর জঙ্গলে রয়েছে বাংলার বাঘও। ১৯৯৮ সালের বাঘ-শুমারিতে নেওড়ার জঙ্গলে ১৮টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব দাবি করেছিল বনদফতর। যদিও এতদিন কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ মেলেনি। তাই অনেকেই বনদফতরের এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।বিশেষ করে বিভিন্ন পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। তারা একে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়েছিলেন।

বনদফতরের কাছেও এ সম্পর্কে ছিল না জোরালো কোনো প্রমাণ।

যদিও শেষমেশ বনদফতরকে এই দুর্নামের হাত থেকে বাঁচাতে আসরে নামল খোদ জঙ্গলের রাজা।

গতবছর ১৯ জানুয়ারি অনমোল ছেত্রি নামে এক ট্যাক্সিচালক প্রথম রয়াল বেঙ্গল টাইগার চাক্ষুষ করেন নেওড়ার জঙ্গল সংলগ্ন রাস্তায়। মোবাইল ক্যামেরায় ছবিও তোলেন বাঘের। সেই ছবি শোরগোল ফেলে দেয় সব মহলে।উৎসাহিত বনদফতর এবার সরকারিভাবে বাঘের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে দু-দফায় ৮টি ট্র‍্যাপ ক্যামেরা লাগায় বনাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায়। এরপরেই ২৩জানুয়ারি এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ফের ক্যামেরাবন্দি হয় জঙ্গলের রাজা। তারমধ্যেই গত ২৪মার্চ একটি ট্র‍্যাপ ক্যামেরা চুরি হয়ে যায় বনাঞ্চলের কোর এরিয়া থেকে।তাতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় “রেড অ্যালার্ট” জারি করা হয় নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে। গত নভেম্বরে আরও ১৫টি ক্যামেরা লাগানো হয়। তার মধ্যেই  তিনটি স্ন্যাপ ধরা পড়েছে বাঘ বাবাজির। বনদফতরের দাবি ছবিগুলি গত ২৪ঘন্টার মধ্যে ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। নাইটভিশন প্রযুক্তির ট্র‍্যাপ কামেরায় ধরা পড়া ছবিগুলি থেকে অনুমান রাতের বেলায় খাবারের খোঁজে বেরিয়ে ক্যামেরায় ধরা পড়ে যায় “দ্য টাইগার”।গত ২৭ডিসেম্বরও বাঘের দুটি ছবি পাওয়া গেছে দুটি ট্র‍্যাপ ক্যামেরা থেকে।

গত ২৭ ডিসেম্বর ধরা পড়ে এই ছবিটি

গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের বনাধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, ট্র‍্যাপ ক্যামেরায় যে ছবিগুলি উঠেছে তারা সেগুলি খতিয়ে দেখছেন। তবে যে ক্যামেরাগুলি থেকে ছবি পাওয়া গিয়েছে সেগুলি বনাঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় লাগানো ছিল। এতেই সংশয় তৈরি হয়েছে বনাধিকারিকদের মধ্যে। এগুলি একটা বাঘের ছবি নাকি একাধিক বাঘের তা পরিষ্কার নয়। এত বড়ো জঙ্গলে একাধিক রয়াল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব থাকতে পারেই বলে মনে করছেন পশু বিশেষজ্ঞরা। অনুমান সত্যি হলে তা বনদফতর বা পশুপ্রেমীদের কাছে সুখবর। আকর্ষণ পর্যটকদের কাছেও। তাই আরও নিশ্চিত হতে ছবিগুলি বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনদফতর।রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ জানিয়েছেন, ছবিগুলি পাওয়ায় তারা খুশি। তাদের অনুমান নেওড়ার জঙ্গলে একাধিক রয়েল বেঙ্গলের অস্তিত্ব রয়েছে,জানিয়েছেন বনমন্ত্রী । কড়া নজরাদারিও রাখা হচ্ছে নেওড়ার বনাঞ্চলে। জারি থাকছে “রেড অ্যালার্ট”।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন