নয়াদিল্লি : আগের একটি গবেষণায় সতর্কতা জারি হয়েছিল। কিন্তু বিপদসংকেত আটকে ছিল ২০৭০ সালের আশেপাশে। না এ বারের গবেষণাটি আর সে কথা বলছে না। বরং আরও ভয়ংকর কিছু বলছে। জানাচ্ছে, ২০৭০ না ২০৪০। ২০৪০ সালের মধ্যেই সুমেরু সাগর বরফশূন্য হয়ে যাবে।

বরফ গলার যা ধুম তাতে গত তিন দশকেই সুমেরুর বরফ অর্ধেকে এসে ঠেকেছে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের হাত ধরে বাকি বরফ গলতেও খুব বেশি সময় লাগবে না।

এর আগে আর্কটিক মনিটরিং এবং অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম-এর মাধ্যমে সুমেরু সাগর তথা গোটা সুমেরু নিয়ে কিছু হিসেবনিকেশ করা হয়েছে। তাতে যুক্ত ছিলেন ৯০ জন বিজ্ঞানী। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, সেই গবেষণায় সুমেরু সাগরের বরফ গলার বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি। উলটে হালকা ভাবেই নেওয়া হয়েছে। আসলে কিন্তু সমস্যাটা বেশ জটিল, বরং বলা যায় জটিলতম। আর এক আধ দিনের বিষয়ও নয়। সুমেরুর রোগ পেকেছে গত ৫০ বছর ধরে। এই অর্ধ শতাব্দী ধরে পৃথিবীর বাকি অংশের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে এই এলাকার তাপমাত্রা ক্রমশ বেড়েছে। ফলে ধীরে ধীরে গলতে শুরু করেছে সুমেরুর বিশাল পরিমাণ বরফ। এখন তা অর্ধেকে এসে ঠেকেছে। ফলে গলে গেছে সুমেরুপৃষ্ঠের বরফের আস্তরণ।

আরও পড়ুন : উষ্ণতম উত্তর মেরু, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ ডিগ্রি বেশি

গবেষকরা বলছেন, যখন পরিস্থিতি অর্থাৎ বরফ হাতের বাইরে চলে গেছে, আর তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তখন গ্রিনহাউজ গ্যাস নিয়ে মাথা ঘামানো হচ্ছে। এই গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে যদি বিপদ সংকেতগুলির সামান্য হেরফের করা যায়।

আরও পড়ুন : ২০১৭-তেও অব্যাহত থাকবে চরম আবহাওয়া এবং মেরুপ্রদেশীয় তাপপ্রবাহ

তাঁরা বলছেন, হিমবাহের গলনই এখানে খরা, অনাবৃষ্টি, বন্যা, তাপপ্রবাহের জন্য দায়ী। সুমেরুর এই গরমের জন্য পালটে গেছে গোটা পরিস্থিতি। বদলেছে গোটা পৃথিবীর সমুদ্র স্রোত, মৌসুমী বায়ুর গতি, জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য, কৃষি ও খাদ্য তৈরির পরিবেশও। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, যার ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলির বাসযোগ্যতা। আর এই সবের জন্য অন্যতম দায়ী কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বেড়ে যাওয়া।

উল্লেখ্য, নাসার সদ্য প্রকাশ করা একটি রিপোর্ট বলছে, ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে সুমেরুতে বরফ গলার পরিমাণ ছিল বছরে ৮,৩০০ বর্গমাইল। সেখানে ১৯৯৬ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে সুমেরুর বরফ গলেছে বছরে ১৯,৫০০ বর্গমাইল — যা আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here