মুম্বই : ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করল নয় বছরের রিদ্ধিমা পাণ্ডে। তার অভিযোগ, পরিবেশ সুরক্ষার কাজে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করতে ব্যর্থ ভারত সরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার। মামলায় জোর দেওয়া হয়েছে পরিবেশের অবনতি আর দূষণের বিষয়ে। এই মামলা করা হয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালতে (ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল)। এই মামলায় ৫২ পাতার আবেদনে বলা হয়েছে, রিদ্ধিমা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের এক জন নবীন প্রতিনিধি। আদালতের কাছে রিদ্ধিমার আবেদন, বিভিন্ন শিল্পকেন্দ্র থেকে কী পরিমাণ পরিবেশ দূষণ হয় তার পরিমাপ করার, একটা ‘কার্বন বাজেট’ তৈরি করার, যাতে শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত হওয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেঁধে দেওয়া যায়, পরিবেশ পরিশোধনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হোক সরকারকে।

আরও পড়ুন : ভারতে প্রতি মিনিটে দু’জনের প্রাণ নিচ্ছে বায়ুদূষণ, জানাল সমীক্ষা

মামলায় আদালতের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, জলবায়ুর পরিবর্তন আটকাতে আর পরিবেশের রক্ষায় উপযুক্ত বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হোক। এই বিষয়ে আদালত পরিবেশমন্ত্রক আর কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে আগামী দু’ সপ্তাহের মধ্যে উত্তর দিতে বলেছে।

এর জবাবে পরিবেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী যাবতীয় উত্তর জানাবে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন।

আদালতে রিদ্ধিমার আইনজীবী রাহুল চৌধুরী জানান, রিদ্ধিমার বাড়ি উত্তরাখণ্ডে। এক জন পরিবেশকর্মীর মেয়ে এই রিদ্ধিমা। উত্তরাখণ্ডে ২০১৩ সালে বন্যা, ভূমিধ্বসের কারণে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেক শিশু গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এই ভয়াবহতা শিশু রিদ্ধিমার মনে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। সে পরিবেশ নিয়ে খুবই সচেতন আর দূষণের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতে কী ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলবে সে বিষয়ে চিন্তিতও। রিদ্ধিমা চায় এই ব্যাপারে অর্থবহ কিছু করতে, যাতে কাজ হয়। সেই জন্যই তাকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় রিদ্ধিমা যে ভাবে এগিয়েছে তাতে করে মনে করা হচ্ছে, এ বার হয়ত এই বিষয়ে সরকারের কিছুটা দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে।

আরও পড়ুন : গঙ্গা ভারতের ‘প্রাচীনতম জীবন্ত সত্তা’, বলল উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট

দেশে একাধিক পরিবেশ রক্ষা আইন রয়েছে। কিন্তু অরণ্যরক্ষা, নদী পরিচ্ছন্নতা, বায়ুদূষণরোধ করতে এই সব আইনের ব্যবহার উপযুক্ত ভাবে হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারত সরকার অবশ্য এই ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে কিছু পদক্ষেপ করেছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এমনই একটি পদক্ষেপ। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ৪০ শতাংশই অ-জীবাশ্ম জ্বালানি উৎস থেকে তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের দূষিততম দশটি শহরের চারটিই অবস্থিত ভারতে। তা ছাড়াও ২০১৫ সালে বিশ্বে বায়ুদূষণে যত জন মারা গেছেন তাঁদের অর্ধেকেরও বেশি হলেন চিন আর ভারতের।

তা ছাড়া রিদ্ধিমাই প্রথম শিশু নয়, যে পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করল। গত বছর ছ’ জন কিশোরকিশোরী নয়াদিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে এনজিটি-তে মামলা করেছিল ভারত সরকারের বিরুদ্ধে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here