air polution

ওয়েবডেস্ক: ফুসফুসের বেশ কিছু রোগ যেমন স্ট্রোক, শ্বাসপ্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটা ইত্যাদির মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগের কারণ বায়ুদূষণ। একটি গবেষণা থেকে এমনই সিদ্ধান্তে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। ধূমপানের মতোই কোনো কিছু যদি ফুসফুসের প্রচণ্ড ক্ষতি করতে পারে তা হল বায়ুদূষণ। এই গবেষণাটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অসংক্রামক ফুসফুসের রোগ বিশ্লেষণ করে করা হয়েছে। বুধবার ‘দ্য গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিস স্টাডি ১৯৯০-২০১৬’ নামে এই গবেষণা পত্রটির প্রকাশিত হয়। এর থেকে জানা গিয়েছে এই রোগজনিত কারণে মৃত্যুর শীর্ষে পঞ্জাব, তার পর রয়েছে তামিলনাড়ু।

এই গবেষণাপত্র থেকে জানা যাচ্ছে, শ্বাসযন্ত্রে বাধা সৃষ্টিকারী একাধিক রোগ গত ২৬ বছরে ২৮০ লক্ষ থেকে বেড়ে ৫৫০ লক্ষ মানুষকে ছুঁয়েছে। আর এই ফলাফল নাড়িয়ে দিয়েছে গবেষকদের। এর থেকে সর্বপ্রথম সিদ্ধান্ত যা আসে তা হল দ্রুত এই সব রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা তো করতেই হবে। তার থেকেও দ্রুত যা করতে হবে তা হল পরিবেশ আর বায়ুদূষণ রোধ করতে হবে। আর অন্তত দূষণের মাত্রা কমানোর জন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন : গণেশকে গাছে পরিণত করুন – ‘শস্য গণপতির’ হাত ধরে

এই বিশেষ গবেষণাটি হল ‘ইন্ডিয়ান স্টেট লেভেল ডিজিস বার্ডেন ইনিসিয়েটিভ’-এর একটা সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এতে রয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া, ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যন্ড ইভ্যালুয়েশন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর। সব মিলিয়ে দেশের প্রায় ১০০টি সংস্থা এর সঙ্গে যুক্ত।

এর থেকে জানা গিয়েছে বিশ্বে প্রাত্যাহিক হিসাবে এই সমস্যার ৩২ শতাংশই বর্তমান রয়েছে এ দেশে। তার মধ্যে আবার ২০১৬ সালের হিসাবে ভারতে এই সমস্যার পরিমাণ বেশি রয়েছে কম উন্নত রাজ্যগুলিতে। মূলত উত্তর ভারতে। এই ফুসফুসের সমস্যা এ সব এলাকায় দ্বিগুণ। সেখানকার পারিপার্শ্বিক ও সামাজিক স্তরের জীবনযাপন পদ্ধতি বেশ খানিকটা দায়ী এই রোগের জন্য।

১৯৯০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিস আর স্ট্রোকের পরিমাণ এ দেশে ৫০% বেড়ে গিয়েছে। আর সঙ্গে বেড়েছে এর কারণে মৃত্যুর সংখ্যাওও। পাশাপাশি এই গবেষণায় ধরা পড়েছে ডায়াবেটিসের প্রাদুর্ভাবও। সেটাও বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

সুতরাং আসুন নিজেরা সচেতন হই। নিজে বাঁচি আর অন্যকে বাঁচার সুযোগ দিই। কমাই বায়ূদূষণের মাত্রা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন