চট্টগ্রাম :  গ্লোবাল ওয়ার্মিং আর পরিবেশ দূষণ নিয়ে যখন চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়ছে পরিবেশবিদদের, সেই সময় সংরক্ষিত বিশাল বনাঞ্চল কেটে পেট্রোলিয়াম প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনায় মেতেছে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মহেশখালি দ্বীপের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। মাত্র ৪ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কক্সবাজারের ১৯১ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই বনভূমি। স্বভাবতই প্রতিক্রিয়ায় সরব পরিবেশদিদরা। প্রতিবাদে বনভূমির আসল পরিসর আর মূল্যনির্ধারণ করার জন্য আলাদাভাবে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করেছেন বনবিভাগ, বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল বিভাগের ছয়জন বিশেষজ্ঞ মিলে। অন্যদিকে সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বনভূমির মূল্য নির্ধারণের সময় বন্যপ্রাণ আর গাছপালার সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। তা ছাড়া এই জমি অন্য কাউকে নয় দেওয়া হচ্ছে সরকারেরই অন্য একটা বিভাগকে।

সরকারি নথি থেকে জানা গেছে, প্রাথমিক ভাবে এই বিশাল বনাঞ্চলের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ২৭৭ কোটি টাকা। কিন্তু পরে দর কষাকষি করে তার মূল্য দাঁড়ায় মাত্র চার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩৮৮ বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপে প্রায় ১৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, আট প্রজাতির সরীসৃপ, চার প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৭ প্রজাতির পাখির বসবাস। তা ছাড়া ৭০ প্রজাতির গাছপালা আর লতাগুল্ম রয়েছে। এ ছাড়াও আছে বিলুপ্তপ্রায় অজগর সাপ আর মায়া হরিণ। বনভূমির একটা বড়ো অংশ জুরে রয়েছে ম্যানগ্রোভ অরণ্য ও ওষধি জাতীয় গাছের অরণ্য।

এ হেন একটা বনাঞ্চল কেটে ফেলে তৈরি হবে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার এই প্রকল্প। এতে টানেল আর টার্মিনাল তৈরি করা হবে। ২২২ কিলোমিটার লম্বা হবে এই টানেল। এখান থেকে চট্টোগ্রামের আনোয়ারায় ইস্টার্ন রিফাইনারি অবধি টানা হবে এই টানেল। পাঠানো হবে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল।

এর প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের মতামত হল, এর ফলে নষ্ট হয়ে যাবে দ্বীপটির গোটা বাস্তুতন্ত্র। জাহাজ যাতায়াতের ফলে নষ্ট হবে পরিবেশের স্বাভাবিকতা। কারণ বদলে যাবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা। বন কেটে তৈরি হবে বন্দর, লোকালয়, প্রকল্পের যাবতীয় পরিকাঠামো। তাতে হবে বায়ুদূষণ, জলদূষণ, শব্দদূষণ। তা ছাড়া মানুষও তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, জীবিকা, যাতায়াতের ব্যবস্থা ইত্যাদি হারিয়ে ফেলবে। দূষণের ফলে নানান রোগব্যাধির শিকার হবেন তাঁরা। ঠিক এই কারণে বনবিভাগও এতে আপত্তি জানায়। আপত্তি জানানো হয় ফেব্রুয়ারি মাসেই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল বিভাগের আধিকারিক ও বিশেষ কমিটির অন্যতম সদস্য ডঃ আনিসুজ্জামান বলেন, পরিবেশ বাঁচাতে উচিত টাকা বেশি খরচ হলেও বনভূমির বাইরে দিয়ে এই প্রকল্প তৈরি করা। তা না হলে দ্বীপের সঙ্গে সঙ্গে উপকূলীয় এলাকাও প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে।

তথ্য সূত্র : প্রথম আলো