elephant

ওয়েবডেস্ক: আপনার-আমার কাছে ঘটনাটা হাসির হতে পারে! হাতির মতো বিশালদেহী প্রাণী পিছু হটছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাছির আক্রমণে- এ যেন বিশ্বাসের অতীত! অথচ সম্প্রতি এমন ঘটনারই সাক্ষী থাকল দক্ষিণ আফ্রিকা।

ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে অনেকগুলো দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। অভয়ারণ্য, পশু সংরক্ষণ, উদ্ভিদ পালন- সব মিলিয়ে বাস্তুতন্ত্র রক্ষার এক বিশাল উদ্যোগ চলে একে ঘিরে। কিন্তু প্রদীপের ঠিক তলাতেই যেমন গুটিসুটি মেরে বসে থাকে অন্ধকার, দক্ষিণ আফ্রিকাতেও হল ঠিক তা-ই! দেখা গেল, ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের সন্নিহিত অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র বিগড়ে যেতে বসেছে হাতিদের দৌরাত্ম্যে।

খবর বলছে, ওই অভয়ারণ্যের হাতিরা না কি আকছার চলে আসে জঙ্গল পেরিয়ে। তার পর খাবারের খোঁজে তছনছ করে ক্ষেতের ফসল, উপড়ে ফেলে বড়ো বড়ো গাছ। হাতিদের হানা থেকে তাই গাছ বাঁচাতে শুরু হয়েছিল মৌচাক-পালন। সম্প্রতি দেখা গেল, সেই টোটকায় কাজ হয়েছে আশ্চর্য রকম! হাতিরা গাছ উপড়ানোর চেষ্টা করলেই তেড়ে আসছে মৌমাছিরা। আর তাদের আক্রমণের সম্মুখীন হয়ে ভয়ে লেজ তুলে দৌড়ে পালাতে হচ্ছে হাতিদের।

তা, হাতির চামড়া তো বেশ পুরু হয়। সেই চামড়া ভেদ করে কি মৌমাছি হুল ফোটাতে পারে?

“মৌমাছির কামড়ে যে হাতি খুব ব্যথা পায়, তা নয়। তবে তারা ওই হুল ফোটানোর ব্যাপারটা কাতুকুতুর মতো অনুভব করে। আর হাতিরা কাতুকুতু একদমই পছন্দ করে না। ওদের ত্বক খুবই সংবেদনশীল হয়। এ ছাড়া হাতিদের আরেকটা ভয় রয়েছে মৌমাছিদের কাছ থেকে। হাতির চামড়া পুরু হলেও শুঁড়টা কিন্তু নরম। মৌমাছি যদি শুঁড়ের ভিতরে হুল ফোটাতে সক্ষম হয়, তবে ভালোই ব্যথা পায় হাতিরা। এমনকী তাদের শ্বাস বন্ধ হওয়ারও উপক্রম হয়”, জানিয়েছেন ওই দেশের বিখ্যাত হস্তীবিদ জেস উইলমট।

ফলে, এ ভাবে হাতিদের হানা থেকে বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করতে পেরে বেশ আহ্লাদিত হয়েছেন প্রোজেক্টটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। “এই সাফল্য আমাদের নতুন দিশা দিয়েছে। এবার আমরা আরও বেশি করে মৌচাক পালনে যত্নবান হব। ইচ্ছা আছে, মধুচাষের দিকটাতেও জোর দেওয়ার”, জানিয়েছেন এই প্রোজেক্টটির অন্যতম এক কর্তা মার্ক কলিনস।

বিশ্বাস না হলে দেখুন ক্লিক করে ভিডিওটা!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here