আলাস্কা: বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল, স্টোনহেঞ্জের মতো অ্যান্টার্কটিকার রক্ত ঝর্ণা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মনে কম উথাল পাথাল হয়নি। সারা বছর অ্যান্টার্কটিকার পূর্বাংশে  টেইলর উপত্যকার হিমবাহের মধ্যে দিয়ে বয়ে যায় রক্ত বর্ণের ঝর্ণা। অথচ হিসেব মতো বরফাচ্ছাদিত হিমবাহের মধ্যে দিয়ে অত কম তাপমাত্রায় ঝর্ণা বয়ে যাওয়ার কথাই নয়। দীর্ঘদিনের গবেষণার পর অবশেষে সামনে এসেছে সত্য। বিজ্ঞানীরা এই আশ্চর্য ঘটনার জন্য দায়ী করছে ওই অঞ্চলের অতিরিক্ত নোনা জলকেই।

১৯১১ সালে ভূতত্ত্ববিদ টেইলর প্রথম খোঁজ পান এই রক্ত ঝর্ণার। তাঁর নামানুসারেই পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার এই উপত্যকার নাম হয় টেইলর উপত্যকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলস্কা ফেয়ারব্যাঙ্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলছেন কয়েক লক্ষ বছর ধরেই নাকি টেইলর হিমবাহের মাঝে জমে আছে প্রচুর পরিমাণে নোনা জল। জার্নাল অব গ্লেসিওলজি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ।

নোনা জলের হিমাঙ্ক কম হওয়ায় আশেপাশের অঞ্চল বরফে ঢাকা থাকলেও এখানকার জল তরল অবস্থাতেই থেকে যায়। হিমবাহের মধ্যে দিয়ে ঝর্ণা হিসেবে বয়ে যাওয়ার সময়ে বাতাসের সংস্পর্শে এসে ওই জল অক্সিডাইসড হয়ে রক্ত বর্ণের হয়ে যায়। ঠিক এরকমই একটা ঘটনা ঘটে লোহায় মরচে পড়ার সময়।

হিমবাহের জল বরফে পরিণত হওয়ার সময় তাপ বর্জন করে, আর এই তাপের প্রভাবেই হিমবাহের মাঝে আটকে থাকা  নোনা জল হাজার হাজার শীত পার করে দিলেও তরলই থেকে যায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here