ওয়েবডেস্ক: নামেই পরিবেশ নীতি। আসলে নাকি নীতি-টিতি সব ভ্যানিশ। যাবতীয় সেচ প্রকল্প, খনি প্রকল্পে ছাড় দিতে পারলেই নাকি হাঁফ ছেড়ে বাঁচে কেন্দ্র। ১৮ ডিসেম্বরের একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে পরিবেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে, পাঁচ হাজার হেক্টর পর্যন্ত জায়গা জুড়ে থাকা যে কোনো প্রকল্পই এখন থেকে অনুমতি ছাড়াই পাশ হবে। বর্তমানে দু’হাজার হেক্টর পর্যন্ত প্রকল্প পরিবেশ মন্ত্রকের অনুমতি ছাড়া পাশ করানো যায়।

১০ হাজার হেক্টরের উপরের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়িত করলে পরিবেশের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা বিবেচনার দায়িত্ব বর্তায় রাজ্য সরকারের ওপর। এই সীমা কে ৫০ হাজার হেক্টরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে পরিবেশ মন্ত্রকের খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে। পরিবেশ আইনজীবী ঋত্বিক দত্তের মতে, “যত্র তত্র খনি করলে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, এসব ভেবেই দেখা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে পরিবেশ মন্ত্রকের ছাড়পত্র পাওয়ার ব্যাপারটা বেশ হাস্যকর হয়ে গিয়েছে।”

খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে ১০০ হেক্টরের প্রকল্পগুলোকে এক ধাক্কায় ১০০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে ৪৭টি খনিজের প্রকল্প। ঋত্বিকবাবুর অভিযোগ, “দিনে ৯০- ১০০টি প্রকল্প পাশ করার মতো ঘটনাও ঘটে।  এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সরকার বিজ্ঞানসম্মত ভাবে প্রকল্পের খুঁটিনাটি পরখ করে দেখে না। দেশের এক দল পরিবেশবিদদের মত, মোদী জমানাতেই নাকি সবচেয়ে বেশি ঘটেছে পরিবেশ নীতির লঘুকরণ। গত বছর ডিসেম্বরে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেড় লক্ষ বর্গ কিলোমিটারের যে কোনও রিয়েল এস্টেট প্রকল্প পাশ করা যাবে পরিবেশ মন্ত্রকের অনুমতি ছাড়াই। কেন্দ্রের এই নিয়মের বিরোধিতা করে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, ‘পরিবেশ রক্ষার্থে গঠিত হওয়া নির্দেশাবলী কোনো ভাবেই পরিবর্তন করা যুক্তিসঙ্গত নয়, বিশেষ করে এমন কোনো ক্ষেত্রে, যেখানে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।’

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here