ওয়াশিংটন ও বেজিং: ট্রাম্প প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে তারা দায়বদ্ধ থাকবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির কাছেই, জানিয়ে দিল চিন। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জলবায়ু সংক্রান্ত নির্দেশ বাতিল করতেই মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জারি করলেন নতুন কার্যনির্বাহী নির্দেশ। নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় থেকেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তিকে ‘হাস্যকর’ বলে আসা ট্রাম্প যে এমনটা করবেন, আন্তর্জাতিক মহলে এমন আশঙ্কা ছিল তাঁর ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। সম্প্রতি খাতায় কলমে সেটি করে দেখালেন প্রেসিডেন্ট। তাঁর নির্দেশ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে তাঁকে ঘিরে ছিলেন বিভিন্ন কয়লা কোম্পানির একজিকিউটিভরা। ট্রাম্পের নতুন কার্যনির্বাহী নির্দেশ বুঝিয়ে দিল তিনি ফের কয়লাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর ঠিক এই ঘটনার পরই চিন প্রশাসন আরও এক বার জানিয়ে দিল, ২০১৫-র ডিসেম্বরে যে শর্তে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল পৃথিবীর প্রায় ২০০টি দেশ, তার থেকে এক চুলও নড়েনি তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের খ্যাতি অথবা কুখ্যাতি বহু কারণেই। বর্ণবিদ্বেষ, জাতিবিদ্বেষ, লিঙ্গবৈষম্যের পাশাপাশি সেই তালিকায় আছে পরিবেশ ঔদাসিন্যও। ওবামার স্বাক্ষরিত যাবতীয় জলবায়ু চুক্তি বাতিল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির শর্ত ছিল জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারে হ্রাস টানা, গ্রিন হাউস গ্যাস এবং কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানো। এই নীতির প্রতিটি শর্ত নাকচ করে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জারি করলেন নতুন কার্যনির্বাহী নির্দেশ। স্বাভাবিক ভাবেই নতুন নির্দেশে মহা খুশি মার্কিন বাণিজ্যিক গোষ্ঠীগুলো। খুশির কারণ, জ্বালানির জন্য আর নির্ভর করতে হবে না বিদেশ থেকে রফতানি হওয়া জ্বালানির ওপর। এ ছাড়া তেল ও গ্যাস শিল্পে নাকি প্রসারিত হবে মার্কিনদের চাকরির বাজার। এ দিকে ভাঁজ পড়েছে পরিবেশবিদদের কপালে। হোয়াইট হাউসের বাসভবনে প্রায়শই চলছে তাদের বিক্ষোভ। 

চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লু কাং এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনকে রোখাই এই মুহূর্তের সব চেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। দায়িত্ববান উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তির প্রতিটি শর্ত তারা মানছে এবং আগামী দিনেও মানবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রথমে সব দেশের জন্যই কার্বন নিঃসরণের মাত্রা সমান করার দাবি করেছিল চিন। পরে যদিও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের সব শর্তই মেনে নেয় সে দেশের প্রশাসন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন