স্যান সালভাদোর: মধ্য আমেরিকার ক্ষুদ্রতম দেশ এল সালভাদোরে বন্ধ করে দেওয়া হল ধাতু খনন। গোটা দেশের জন্য জারি হল এই সিদ্ধান্ত। দুনিয়ায় প্রথম কোনো দেশ এমন সিদ্ধান্ত নিল। একটি সোনার খনির প্রকল্প নিয়ে বহুদিন ধরেই গণ্ডগোল চলছিল একটি কানাডা-অস্ট্রেলিয়ান সংস্থার সঙ্গে। সেই বিবাদের জেরেই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। 

মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশে খনন-বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে মৃত্যুও হয়েছে অনেকের। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত অঞ্চলের পরিবেশকর্মীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


এল সালভোদোরের আর্থিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ। চলতি বছরের শেষে, ওই দেশের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের চেয়ে ৬০% বেশি। এর জন্য আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের কাছে সাহায্যও চেয়েছে দেশটি। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবেশের বিনিময়ে বিনিয়োগ পেতে রাজি নন পরিবেশমন্ত্রী লিনা পোহল। “আমরা মানুষের জীবন নিয়ে কথা বলছি”, মন্তব্য করেছেন তিনি।


এল সালভাদেরের সংসদে সরকারের আনা বিল ভোটাভুটিতে পাস হওয়ার পর সে দেশের পরিবেশমন্ত্রী লিনা পোহল বলেন, “এল সালভাদোরের কাছে এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। গোটা পৃথিবীর কাছেই এটা ঐতিহাসিক দিন”। 

“এটা একটা সাহসী পদক্ষেপ, অসাধারণ পদক্ষেপ, পরিবেশের দুরবস্থা থেকে দেশকে তুলে আনার জন্য এটি একটি বিশাল পদক্ষেপ”, বলেন লিনা।

আরও পড়ুন: দুনিয়ায় প্রথম, ‘রূপান্তরিত পুরুষ’ জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করল জাপান

সরকারি আধিকারিক, বিভিন্ন পরিবেশ সংগঠন, শিক্ষাবিদ ও ক্যাথলিক চার্চ এই বিলের পক্ষে ছিল।

গত বছর অক্টোবরে  কানাডা-অস্ট্রেলিয়ান সংস্থা ওশেনাগোল্ডের একটি ইউনিট, প্যাক রিম কেম্যানের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের একটি মামলা খারিজ করে দেয় বিশ্বব্যাঙ্কের আদালত আইসিএসআইডি। মামলাটি ৭ বছর ধরে চলছিল। এল সালভাদোরের উত্তরে ‘এল ডোরাডো’ প্রকল্পের অনুমতি না মেলাতেই ওই মামলা করেছিল সংস্থাটি।

গত মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সংস্থাটি রেকর্ড মুনাফা করেছে।

এল সালভোদোরের আর্থিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ। চলতি বছরের শেষে, ওই দেশের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের চেয়ে ৬০% বেশি। এর জন্য আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের কাছে সাহায্যও চেয়েছে দেশটি। 

কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবেশের বিনিময়ে বিনিয়োগ পেতে রাজি নন পরিবেশমন্ত্রী লিনা পোহল। “আমরা মানুষের জীবন নিয়ে কথা বলছি”, মন্তব্য করেছেন তিনি।

পরিবেশকর্মীদের মতে, এল ডোরাডো প্রকল্পটি হলে সে দেশের জল দূষণ চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছে যেত। এমনিতেই সে দেশের বেশির ভাল জলই দূষিত। গোটা দেশে পরিবেশ দূষণও ভয়ঙ্কর। 

আরও পড়ুন: দুনিয়ায় প্রথম, একটি নদীকে মানুষের আইনি মর্যাদা দিল নিউজিল্যান্ড

কাউন্সিল অফ হেমিস্ফেরিক অ্যাফেয়ার্সের গবেষক লিন ওঁলাদ বলেছেন, “এল সালভাদোরের ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সে দেশে পরিষ্কার পানীয় জল প্রায় নেই”।


এল সালভোদোরের ১২ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ শেষ হয় ১৯৯২ সালে। শান্তিচুক্তির পর দেশে ঢালাও বিনিয়োগ টানার জন্য উদার খনি নীতি প্রবর্তন করা হয়। এদিনের নতুন সিদ্ধান্তটি ১৯৯২-এর নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। 


খনন কাজে আংশিক নিষেধাজ্ঞা অনেক দেশেই রয়েছে। খোলা মুখ খনিতে সায়ানাইট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, তার মধ্যে একটি।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন