ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবনের বসত।

সামনেই পুরনির্বাচন। ভোটপ্রার্থীরা নির্বাচনী জনসভায়, রোড শো-তে যথেষ্টই সরব। ভোটদাতাদের সামনে পুর-অঞ্চল পরিচালন ও নাগরিক সুবিধা প্রদানের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাঁরা। এই ঘোষণায়, দু:খের হলেও সত‍্যি যে, শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নতি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবনার ঘাটতি চুড়ান্ত। অথচ এ কথা জানা যে, অদূর ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এমন মাত্রা নেবে যে শহর ও শহরতলি অঞ্চলগুলি ভয়ংকর বিপর্যস্ত হবে। নগর পরিকল্পনায় এই বিপর্যয় মোকাবিলার ব‍্যবস্থাপনা একটি আশু কর্তব‍্য। এর জন‍্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি উদ‍্যোগ। ভোটযুদ্ধে এ সবের কোনো উল্লেখই চোখে পড়ছে না – না পোস্টারে, না ভাষণে!

১৫০টি দেশের ১৫০০ জন বিজ্ঞানী দ্বারা তৈরি আইপিসিসি-র ষষ্ঠ প্রতিবেদন (৯ আগস্ট, ২০২১) জানাচ্ছে যে, বিশ্বউষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে শহরগুলিতে তাপ জমা হয়ে রাতের গরম খুবই বাড়বে, শহরগুলো ইতিমধ‍্যেই হয়ে উঠেছে ‘হিট ট্রাপ’, যার অর্থ দিনের তাপ আর রাতে বেরিয়ে যেতে পারছে না। রিপোর্ট বলছে প্রবল ভাবে বাড়বে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। শহরে জল দাঁড়িয়ে থাকবে দিনের পর দিন। নদীতে জলস্ফীতি হয়ে পাশের শহরগুলো নিমজ্জিত হবে। ভূগর্ভের জলস্তর অনেক নেমে গিয়ে জলের দূষণ ও জল-সংকট খুবই বাড়তে থাকবে। বাড়বে অতিমারি ও স্বাস্থ্য বিপর্যয়। আর এ সব ঘটবে সামনের দিনগুলোয় অচিরেই। আমরা তো চোখ ঢেকে সূর্যের আলোকে অস্বীকার করার বিপজ্জনক পথে হাঁটতে পারি না!

বাঁধ ভেঙে ঢুকছে জল।

সারা পৃথিবী জুড়ে তাই দাবি উঠছে ধারণযোগ‍্য উন্নয়নের। আমাদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এই পৃথিবীকে বাঁচানোটা মনুষত্বেরই দাবি। সেই দায়িত্ব পালনের আশা নিয়ে ভোটপ্রার্থী শুধু নয়, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির (নির্দল প্রার্থী-সহ) কাছে এই খোলা চিঠি। পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা প্রসারে চার-দশকের বেশি সময় ধরে কর্মরত স্থানীয় গণবিজ্ঞান সংগঠন হিসাবে আমাদের দাবি —

১) বিদ‍্যুৎশক্তির অপচয় রোধ, প্রাকৃতিক জলভাণ্ডার রক্ষা, বায়ু-জল-মাটি দূষণ কমিয়ে আনাকে পূর্বশর্ত করে শহর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রূপায়ণ বাধ‍্যতামূলক করা হোক।

২) জলসম্পদ রক্ষা ও সঞ্চয় বাড়ানোর জন‍্য জলাভূমি বাঁচানোর শহরভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি ও কার্যকর করতে হবে।

৩) জলদূষণ রোধ করার জন পানীয় জল সরবরাহ ব‍্যবস্থার গুণগত উন্নতি করতে হবে।

৪) শহর জুড়ে বনসৃজনের জন্য বিশেষ ভাবে উদ‍্যোগী হতে হবে।

৫) সৌরশক্তি ব‍্যবহারের ব‍্যাপক পরিকল্পনা নিতে হবে এবং তা কার্যকর করতে হবে।

৬) বৃষ্টির জল সঞ্চয়ের ব‍্যবস্থা ছাড়া কোনো হাউসিং প্রকল্পকে অনুমোদন দেওয়া যাবে না।

৭) বায়ুদূষণ রোধ করার জন‍্য বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুদূষণ মাপার যন্ত্র জনসমক্ষে বসাতে হবে এবং দূষণরোধের সমস্ত ব‍্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৮) শহরের আবর্জনা নির্বাহীকরণের স্বাস্থ‍্যসম্মত ব‍্যবস্থা নিতে হবে, যাতে শহরের দূষিত জল নদীতে গিয়ে না মেশে এবং জৈব-অবশেষ সার হিসাবে গ্রামের কৃষিক্ষেত্রে ফিরে যায়।

৯) অপচনশীল আবর্জনা প্লাস্টিক ইত‍্যাদি চক্রাকারে পুন:ব‍্যবহারের ব‍্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

১০) দৃশ‍্যদূষণ ও বিদ‍্যুৎশক্তি অপচয় রোধে হোর্ডিং, ব‍্যানার নিয়ন্ত্রণ করা হোক।

১১) খাদ্যে ভেজাল রোধে নিয়মিত নজরদারী জোরদার করতে হবে।

১২) শব্দদূষণরোধে ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

১৩) পরিবেশগত ব‍্যবস্থাপনার জন পুরসভায় ‘চেয়ারম‍্যান ইন কাউন্সিল’ পদ তৈরি করে দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নির্ধারিত করতে হবে।

এই খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে এনআইএসসি (নৈহাটি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড কালচার, Naihati Institute of Science and Culture, NISC)। নৈহাটি ফ্রাইডে ফর ফিউচার (Naihati Friday for Future, Naihati FFF), নৈহাটি প্রোলাইফ, নৈহাটি ইয়ুথ মাউন্টেনিয়ার্স অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েসন (ওয়াইএমসিএ, YMCA), নৈহাটি দিশারী, পঞ্চাননতলা নিউ অ্যাথলেটিক ক্লাব (নৈহাটি), চিনসুরা সায়েন্স ক্লাব, প্রকৃতি (চুঁচুড়া), হালিশহর সাংস্কৃতিক সংস্থা, হালিশহর বিজ্ঞান পরিষদ, কল্যাণী স্টাডি সার্কেল দ্বারা প্রচারিত।

যোগাযোগ: 8013040912/8902476421/9674468060

আরও পড়তে পারেন

গরিফায় ‘পরিবেশ বিষয়ক নাগরিক উদ্যোগ’-এর তৃতীয় প্রচার কর্মসূচিতে ‘জীবনের জয়গান’

পরিবেশের বিপর্যয় মানে সভ্যতার বিলুপ্তি – এই আওয়াজ তুলে সংঘবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে কল্যাণীতে প্রচার কর্মসূচি

পরিবেশ রক্ষার দাবিতে নৈহাটিতে ‘পরিবেশ বিষয়ক নাগরিক উদ্যোগ’ আয়োজিত অবস্থান বিক্ষোভ

পাহাড় বাঁচাতে অযোধ্যা পাহাড়ে ‘প্রকৃতি বাঁচাও ও আদিবাসী বাঁচাও’ মঞ্চের উদ্যোগে জনচেতনা র‍্যালি

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন