ice age

ওয়েবডেস্ক: আর মাত্র ৩ বছরের অপেক্ষা! তার পরেই পৃথিবীর বুকে নেমে আসতে থাকবে ‘মিনি আইস এজ’। ধীরে ধীরে বরফে ঢেকে যাবে গোটা বিশ্ব। যা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করবে ২০৩০ সালে। সম্প্রতি গবেষণা থেকে প্রাপ্ত এমনই এক বিস্ময়কর ভবিষ্যদ্বাণীতে সবাইকে চমকে দিলেন ব্রিটেনের এক বৈজ্ঞানিক।

অবিশ্বাস্য এই ভবিষ্যদ্বাণীটি করেছেন ব্রিটেনের নিউ ক্যাসলের নরথামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষণারত বৈজ্ঞানিক ভ্যালেন্টিনা জারকোভা। সৌরমণ্ডলের একটি গাণিতিক মডেল নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই কাজ করে চলেছেন তিনি। তাঁর গবেষণার মুখ্য বিষয় সৌরমণ্ডলের মধ্যে জন্ম নেওয়া চৌম্বকীয় তরঙ্গের গতিপ্রক‌ৃতি উদ্ধার!

জারকোভা জানিয়েছেন, সূর্যের মধ্যে দু’টি স্তর আছে। একটি তার বাইরের দিক, অন্যটি কেন্দ্র-সংলগ্ন অন্তর্বর্তী স্তর। এই দুই স্তরে যে চৌম্বকীয় তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, তা-ই আদতে নিয়ন্ত্রণ করে সৌরশক্তিকে। অর্থাৎ, সৌরমণ্ডলে চৌম্বকীয় তরঙ্গ উৎপন্ন হয় বলেই সূর্যের তাপ বাড়ে এবং তার বিকিরণে উত্তাপ পায় পৃথিবী!

সেই প্রসঙ্গেই জারকোভার ভবিষ্যদ্বাণী- ধীরে ধীরে সৌরমণ্ডলে উৎপন্ন হওয়া চৌম্বকীয় তরঙ্গের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এ ভাবে এক সময় সূর্য তার উত্তাপ হারাবে। এবং সেই দিন আর খুব বেশি দূরেও নেই। মাত্র ৩ বছরের অপেক্ষা, ২০২১ সাল থেকেই এই পরিবর্তন স্পষ্ট টের পাওয়া যাবে। আর উত্তাপ কমে যাওয়ার ফলেই ২০২১ থেকে পৃথিবী ঢেকে যেতে শুরু করবে তুষারের সাদা চাদরে। ২০৩০ সালে তা সর্বোচ্চ চেহারা নেবে। একেই জারকোভা বলছেন ‘মিনি আইস এজ’। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বললে ‘মন্ডার মিনিমাম’!

এই জায়গায় এসে জারকোভার এই ভবিষ্যদ্বাণী দু’টি প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। প্রথমটি বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা-সংক্রান্ত। কী করে বোঝা যাবে যে বৈজ্ঞানিকের হিসাব একেবারে নিখুঁত?

solar cyclew
সূর্য এবং তার চৌম্বকীয় তরঙ্গ

“সৌরমণ্ডলের গাণিতিক সমীক্ষা সূর্যের ১১ বছরের হৃদস্পন্দন-সংক্রান্ত সব তথ্যই নিখুঁত ভাবে জানায়। মানুষের হৃদস্পন্দন যেমন কমে-বাড়ে, সূর্যের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়। যখন হৃদস্পন্দন কমতির দিকে থাকে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই সৌরমণ্ডলের দুই স্তরে চৌম্বকীয় তরঙ্গের সংখ্যাও কমতে থাকে। তার জেরে সূর্যের তাপ কমে যায় এবং পৃথিবীর বুকে নেমে আসে তুষারের রাজত্ব। এরকমটা এর আগে দেখা গিয়েছিল ১৬৪৬ এবং ১৭১৫ সালে। সৌরমণ্ডলের গাণিতিক সমীক্ষা এই হিসাবটা ঠিকঠাক দিয়েছে। তা-ই যদি হয়, তবে এবারেই বা হিসাব ভুল হতে যাবে কেন”? পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন বৈজ্ঞানিক।

তার পরেই তিনি আরেকটু বিশদে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়েছেন ব্যাপারটা। “সূর্যের বহির্ভাগ এবং অন্তর্ভাগে উৎপন্ন এই চৌম্বকীয় তরঙ্গ সব সময়েই সমান্তরালে কাজ করে এক একটি চক্র মেনে। সেই মতো হিসাব বলছে, ২৫ নম্বর চক্রে এই দুই তরঙ্গের শক্তি এক ধাক্কায় কমে আসবে অনেকটাই। আমি নই, হিসাব বলছে, সেই সময়টা পৃথিবীতে ২০২০ সাল। ২০২০-র শেষের দিক থেকেই পরিবেশ অনেক শীতল হয়ে আসবে। যা খুব ভালো ভাবে বোঝা যাবে ২০২১-এ। আর ২৬ নম্বর চক্রের সময়ে, অর্থাৎ ২০৩০ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত চৌম্বকীয় তরঙ্গ এতটাই মন্থর হয়ে থাকবে যে উত্তাপ বলে প্রায় কিছু সৃষ্টিই হবে না সৌরমণ্ডলে। ফলে, এই সময়েই মিনি আইস এজ চূড়ান্ত রূপ নেবে। যা সব চেয়ে বেশি প্রভাবিত করবে রাশিয়া আর ব্রিটেনকে”, দাবি জারকোভার!

দ্বিতীয় যে প্রশ্নটি উঠেছে জারকোভার এই দাবি সম্পর্কে, তার সঙ্গে জুড়ে আছে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রশ্নটি। সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে সব চেয়ে বড়ো প্রাকৃতিক সঙ্কটের নাম বিশ্ব উষ্ণায়ন। অর্থাৎ, পরিবেশের বাড়তে থাকা উত্তাপ পৃথিবীর বরফ গলিয়ে দেবে। এ নিয়ে সন্দেহ নেই পৃথিবীব্যাপী বৈজ্ঞানিক-মহলে। তা-ই যদি হয়, তবে জারকোভার এই ভবিষ্যদ্বাণী কি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তৈরি করছে না?

“আমার এই গাণিতিক সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রসঙ্গটি মাথায় রেখেই প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। আমি সব সময়েই বলছে, এমনটা যে হতে পারে তা আমার গবেষণার গাণিতিক সূত্র বলছে। গাণিতিক সূত্র সচরাচর ভ্রান্ত প্রতিপন্ন হয় না। আর প্রকৃতির জগতে কখন কী হয়, তা-ও স্পষ্ট করে বলা যায় না! আশা করি, আমার এই সূত্র সত্যি হোক এবং তা বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার হয়ে উঠুক”, জানাচ্ছেন জারকোভা!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here