Mangrove

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: সুন্দরবনের প্রধান সম্পদ ম্যানগ্রোভ কেটে ফিশারি করার অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কুলতলি থানার কুন্দখালি গোদাবর গ্রাম পঞ্চায়েতের আধারিয়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনকে বাঁচাতে কয়েক বছর আগে আধারিয়া গ্রামে পিয়ালি নদীর ধারে ২০০ বিঘা এলাকা জুড়ে সুন্দরী, গরান, গেঁও-সহ একাধিক ম্যানগ্রোভের চারা বসানো হয়। এখন সেই গাছগুলি বেশ বড় হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে কয়েকজন দুষ্কৃতী গাছগুলি কেটে জঙ্গল পরিষ্কার করছে ফিশারি করার উদ্দেশে। ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ বিঘা এলাকার গাছ কাটা হয়ে গিয়েছে। এ ব্যাপারে গ্রামবাসীরা স্থানীয় বিডিও-কে জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, “সুন্দরবনের উপর দিয়ে ৯ বছর আগে আয়লা বয়ে গেছে। ক্ষয়-ক্ষতিও হয়েছিল প্রচুর। আবার যাতে এই ক্ষয়-ক্ষতি না হয় সে কারণে এই এলাকায় কয়েকশো ম্যানগ্রোভের চারা লাগানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই সমস্ত গাছ কেটে ফাঁকা করে দেওয়া হচ্ছে। বনদফতরকে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। আমরা চাই, প্রশাসন এদের হাত থেকে বাকি ম্যানগ্রোভগুলোকে অন্তত বাঁচাক”।

এ ব্যাপারে বারুইপুর বনদফতরের কুলতলির দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী রেঞ্জার কালাম সেখ বলেন, “আমি কয়েকদিন আগে অবসর নিয়েছি। নতুন কেউ না আসায় অস্থায়ী হিসাবে আমি কাজ চালাচ্ছি এখানে। ম্যানগ্রোভ কাটা অংশটি সেচ দফতরের আওতায় পড়ে। তবে এ ভাবে গাছ কাটা অন্যায়। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে জানাব”।

বারুইপুর মহকুমাশাসক দেবারতী সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি শুনেছি কুলতলির আধারিয়া গ্রামে ম্যানগ্রোভ কেটে ফেলার ঘটনার কথা। আমি বিডিওকে বলেছি দ্রুত ওই এলাকায় গিয়ে বিস্তারিত জেনে  রিপোর্ট পাঠাতে। রিপোট হাতে পেলে সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

কুলতলির বিডিও বিপ্রতিম বসাক বলেন, “আমি আমার দফতরের তদন্তকারী অফিসারদের ওই এলাকায় আজ পাঠিয়েছি। ওদের কাছ থেকে রিপোর্ট পেলে মহকুমাশাসককে পাঠাব। তা ছাড়া এ ব্যাপারে বনদফতরেও যোগাযোগ করব”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here