ওয়েবডেস্ক : প্রায় ৬৬০ লক্ষ বছর আগে পৃথিবী থেকে ডায়নোসররা হারিয়ে গেল। আর সেই সময় থেকেই স্তন্যপায়ী প্রাণীদের স্বভাবের কিছু কিছু পরিবর্তন আসতে শুরু করল। এত দিন তারা অন্ধকারে লুকিয়ে থাকত। এ বার আসতে আসতে তারা অন্ধকার ছেড়ে আলোয় বেরিয়ে এল। তার পর ধীরে ধীরে মানুষের সৃষ্টি।

এত দিন ধরে জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা আর বির্বতনবাদীরা ভেবে এসেছেন স্তন্যপায়ী প্রাণীরা নিশাচর। শুধু তা-ই নয় এখনও তাদের মধ্যে এমন অভ্যাস বিদ্যমান। এমন কিছু প্রাণী আছে বেশি আলোর থেকে অল্প আলোয় চোখে ভালো দেখতে পায়। তাদের শোনার ক্ষমতা, ঘ্রাণশক্তি, অনুভূতি সবই অন্ধকারে ভালো কাজ করে। তাদের পুর্বপুরুষদের জীবাশ্মও তাই বলে।

ইজরায়েলের তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাইনহার্ড মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির বিবর্তনবাদী ও জীববিজ্ঞানী রোই মেয়র আর ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের কেট জনস এবং তাঁদের সহকর্মীরা এই বিষয়টা নিয়ে একটু অন্য ভাবে ভাবতে শুরু করলেন। তাঁরা কম্পিউটারের সাহায্যে ২৪১৫টা প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীকে শনাক্ত করলেন তাদের দিন বা রাতের কাজকর্মের নিরিখে। তার পর তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বংশানুক্রমিক ভাবে সাজালেন। সেই পথ ধরেই ক্রমশ প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছোলেন তাঁরা। দেখলেন পূর্বপুরুষদের মধ্যে দিনের আলোয় বেরোনোর অভ্যাস শুরু হয়েছে প্রায় ৬৫৮ লক্ষ বছর আগে। অর্থাৎ ডায়নোসর লুপ্ত হওয়ার প্রায় ২ লক্ষ বছর পরে।

বিজ্ঞানী মেয়র বলেন, উট, হরিণ, হিপোর মতো সমস্ত প্রাণীই এই সময়ের পর থেকে দিনের আলোতে বেরোতে শুরু করে। কিন্তু তার পর তারা প্রত্যেকেই নিজের মতো করে জীবনযাত্রা বেছে নেয়। বর্তমানে উট দিবাচর, হিপো নিশাচর, হরিণ দিন-রাত সব সময়েই সক্রিয়। তিনি বলেন, মূলত ডায়নোসর লুপ্ত হওয়ার পর থেকেই সব প্রাণীর মধ্যে দিনে বেরোনোর অভ্যাস শুরু হয়। তার আগে ভয়ংকর ডায়নোসরের ভয়ে কেউই দিনে বের হত না।

এ বিষয়ে অবশ্য তেল অভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক তমর দায়ান বলেন, এটাই শেষ প্রমাণ নয়। সম্পূর্ণও নয়। সাধারণত দিবাচর প্রাণীর প্রমাণ মেলে প্রাণীর নরম কোষ সমূহে। তবে জীবাশ্মই শেষ কথা নয়। এ বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার।

এই গবেষণাপত্রটি বেরিয়েছে ‘নেচার ইকোলজি অ্যান্ড এভিলিউশন’ পত্রিকায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here