supermoon

ওয়েবডেস্ক: এর আগে সে আকাশ মাতিয়েছিল চলতি মাসের ৩ তারিখে। আঁধার নামতেই আকাশ ছেয়ে দেখা দিয়েছিল বৃহদাকার পূর্ণ চাঁদ। জ্যোতির্বিদ্যার নিরিখে বললে সুপারমুন! তার আলোর মায়া যেন অবশ করে রেখেছিল পৃথিবীতে।

তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ফের জানুয়ারি মাসের রাতের আকাশ মাতাতে চলেছে সুপারমুন। এ যেন মানুষের জন্য নতুন বছরে প্রকৃতির নিয়ে আসা উপহার! তা-ও আবার জোড়া! কেন না, এক দিকে যেমন পয়লা জানুয়ারিতে সুপারমুনের দর্শন দিয়ে বছর শুরু হবে, তেমনই ২০১৮-র জানুয়ারির ৩১ তারিখে দেখা দেবে আরেকটি সুপারমুন। যাদের স্বভাব-চরিত্র বিশ্লেষণ করে ইতিমধ্যেই নিজেদের টুইটার হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে নাসা। পাশাপাশি, লাইভ সায়েন্স গোষ্ঠী শেয়ার করেছে একটি ছবি।

দেখতেই পাচ্ছেন, লাইভ সায়েন্স গোষ্ঠীর পোস্ট করা সেই ছবিতে চাঁদের দিকে মুখ করে ডাক ছাড়ছে একটি উল্ফ বা নেকড়ে বাঘ! প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে- হঠাৎ কেন বৈজ্ঞানিক দিক ছেড়ে লোকবিশ্বাস নিয়ে পড়ল তারা?

আসলে পয়লা জানুয়ারির সুপারমুন লোকমুখে ‘উল্ফ মুন’ নামেও পরিচিত! লোকবিশ্বাস জানায়, এমন রাতে চাঁদ ধারণ করে সর্ববৃহৎ রূপ, তার গায়ে লেগে থাকে লালচে আভা। ঠিক যেন রক্তে স্নান করে উঠেছে সে! আর এমন রাতেই চাঁদের আধিভৌতিক শক্তির প্রভাবে কোনো কোনো মানুষ রূপান্তরিত হয় নেকড়ে বাঘে। সেই দিক মাথায় রেখেই লাইভ সায়েন্স গোষ্ঠী এমন এক ছবি পোস্ট করেছে।

অর্থাৎ আঁচ করে নিতে অসুবিধা নেই, পয়লা জানুয়ারি বিকেল পাঁচটার পরে যে চাঁদ আকাশে উঠবে, তার বৃহৎ শরীরেও দেখা যাবে লালচে আভা। নাসা জানিয়েছে, উদয়ের পরেই চাঁদকে বেশ কিছুটা বড়ো দেখাবে। আর তার ঠিক ৪ ঘণ্টা ২৪ মিনিট পরে চাঁদ ধারণ করবে সব চেয়ে বড়ো আকার। নাসা এ-ও জানাতে ভোলেনি, ১৯৯৮ সালের পর আবার এত বড়ো ‘উল্ফ মুন’ নজরে আসবে।

অবশ্য, যাঁদের কাছে বছর শুরুর পার্টির মৌতাতের দরুন পয়লা জানুয়ারির সুপারমুন অধরা থেকে যাবে, তাঁদের মুষড়ে পড়ার কোনো কারণ নেই। কেন না, ৩১ জানুয়ারি আবার আকাশে দেখা দেবে বৃহৎ চাঁদ। উল্ফ মুনের মতো যারও রয়েছে এক বৈশিষ্ট্য। সেই দিকে খেয়াল রেখে একে বলা হচ্ছে ‘ব্লু মুন’। তাহলে কি এই চাঁদের গায়ে দেখা যাবে নীল আভা?

একেবারেই তাই! আর এই নীল আভার কারণ হচ্ছে চন্দ্রগ্রহণ। নাসা জানিয়েছে, ৩১ জানুয়ারির রাতে আংশিক চন্দ্রগ্রহণের মাঝেই আকাশে দেখা যাবে নীল আভাযুক্ত এই সুপারমুন। পাশাপাশি, ‘ব্লু মুন’ নামকরণের নেপথ্যে বাদ দেওয়া যাবে না লোকবিশ্বাসের দিকটাও!

সেই বিশ্বাস বলে, একই মাসে দু’বার পূর্ণ চাঁদ দেখা গেলে দ্বিতীয়টিকে বলা হয় ‘ব্লু মুন’। বাংলায় যাকে বলা হয় ‘নষ্ট চাঁদ’! কেন না, পৃথিবীর সব দেশেরই সংস্কার বলে এই দ্বিতীয় পূর্ণ চাঁদটি না কি মানুষের জন্য শুভ নয়। নীল যেহেতু মন খারাপের রং, সেই জন্য চাঁদের গায়ের নীল আভা খারাপ কিছুকেই প্রতীকায়িত করে!

তবে এ নিতান্তই লোকবিশ্বাস! এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আসলে আসলে চাঁদের এই বৃহদাকার ধারণ তো নেহাতই নিয়মের খেলা! নিয়ম করেই অক্ষপথে সে ঘুরে চলেছে পৃথিবীর চার পাশে। এরকম করে ঘুরতে ঘুরতে সে যখন পৃথিবীর খুব কাছে এসে পড়ে, তখনই তাকে স্বাভাবিক নিয়মেই আর পাঁচটা দিনের তুলনায় অনেক অনেক বেশি বড়ো দেখায়। এরকম সময়ে চাঁদকে প্রায় ১৪% বেশি বড় দেখায়। সেই সঙ্গে তার ঔজ্জ্বল্যও বেড়ে যায় ৩০%। তখনই তাকে বলা হয় সুপারমুন। ঠিক যেমনটা দেখতে পাবেন উপরের ভিডিওয়!

তা বলে, এই সুপারমুনের উদয়ে প্রকৃতিজগত যে একেবারেই প্রভাবিত হবে না, তেমনটাও নয়। জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, জোয়ার-ভাটায় চাঁদের একটা প্রভাব তো থাকেই! সেই প্রাকৃতিক নিয়ম মেনেই পয়লা জানুয়ারিতে পৃথিবীর বেশ কিছু স্থানে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা আছে!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here