নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মানুষ এবং পশুপাখির দুর্ঘটনা এড়াতে ২০১৭ সালেরর জুলাই মাসেই  দেশ জুড়ে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য  ব্যবহৃত নাইলন এবং সিনথেটিক মাঞ্জা বিক্রি নিষিদ্ধ করে জাতীয় পরিবেশ আদালত তথা ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)।  প্রতিটি রাজ্য সরকারকে সিনথেটিক মাঞ্জা বিক্রি, কেনা অথবা সঞ্চয় নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘পেটা’র (পিপল ফর এথিকাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিম্যাল) আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ জারি করে এনজিটি। তার পরেই দিল্লিসহ বিভিন্ন বড় শহর গুলিতে বন্ধ হয় এই নাইলন তথা চানয়া  সিনথেটিক মাঞ্জা । গত বিশ্বকর্মা পুজো থেকেই কলকাতাতে খানিকটা হলেও এর ব্যবহার বন্ধ হয় । তবে ছোট মাঝারি শহরগুলো এখনও আনন্দে মেতে আছে এই দুর্ঘটনাপ্রবণ সুতো নিয়ে।

কলকাতায় বিশ্বকর্মা পুজোতে ঘুড়ির মেলা পালন হলেও মকর সংক্রান্তিতে সারা রাজ্য জুড়ে পালিত হয় ঘুড়ির মেলা । তবে গত কয়েক বছর ধরে ঘুড়ির জগতে নতুন সংযোজন হয়েছে নাইলনের সুতো। চলন্ত রাস্তা হোক বা গাছের ডাল, মানুষ থেকে পশুপাখি সকলের কাছেই ক্ষতিকর হয়ে ওঠে এই সুতো। যার থেকে রেহাই পেতেই গ্রিন ট্রাইব্যুনাল এই সিন্ধান্ত নিয়েছে। তবে  বর্ধমানের বাজারে রমরমা বিক্রি এই নাইলনের। বর্ধমানের বড়োবাজার, কালনাগেট বাজার , নীলপুড়, রথতলা একাধিক জায়গায় ঘুড়ি সুতো ব্যবসায়ীরা জমিয়ে ব্যবসা করছেন। যার জন্য দোকানে ভিড় পুরোনা থেকে নতুন সকলেরই । বড়োবাজারের ব্যবসায়ী বিট্টু ঘোষ জানান, “সকল খদ্দের এসে শুধু এই চায়না নাইলনের সুতোই চাইছে , না পেলে অন্য দোকানে চলে যাচ্ছে তাই রাখতে হচ্ছে । আমরাও চাই এই সুতো পুরোপুরি বন্ধ হোক। পশুপাখি ও মানুষ সকলের কাছেই এটা মারাত্মক হতে পারে।’’

বেশ কয়েকটি দোকানে খোঁজ করে জানাগেল দামে অন্য দেশীয় সুতির সুতোর থেকে ওনেক সস্তা চায়নার সুতো। তাই এর চাহিদা তুঙ্গে। এক পাইকারি ব্যবসায়ীর কথায়,” আমরা এই সুতো কোলকাতা থেকে আনি।  নিষিদ্ধ হওয়ার পরে একটু কড়াকড়ি হয়েছে। তাই চোরা পথে আনতে হয়।”

ঐ দোকানেই এক ক্রেতা শ্যামল দাস-এর কথায় তিনি ২৫ বছর ধরে ঘুড়ি ওড়াচ্ছেন।  এখন ছেলেকে নিয়ে এসেছেন।  তিনিও বেছে নিয়েছেন এই নাইলন-সিনথেটিক।  নেবেন নাই বা কেন, যেখানে নাইলন( ১০০০ মিটার)  ৪০ টাকা থেকে শুরু সেখানে অন্য সুতো ১২০ থেকে ২০০-২৫০টাকা।

সুতোর নামগুলিও তার ছেলের পছন্দ।  রয়েছে ব্লু হোয়েল, ডলফিন,  টারমিনেটর,  ব্লাক প্যান্থার।

তবে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা দেখলেও পশুপ্রেমীরা খুবই ক্ষুদ্ধ।  বর্ধমান  শহরের টিকরহাটের বাসিন্দা তৃপ্তি চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে প্রাণী কল্যান সমিতি চালান। তৃপ্তিদেবী বলেন,  এই সুতো পাখিদের পা, ডানা,পালকে আকটে তাদের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে।  কুকুর বিড়াল,  গরুদেরও পা কেটে যাচ্ছে। বিক্রেতা, ক্রেতা ও অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।  মানুষেরও কী বিপদ হতে পারে আমাদের সকলেরই ধারনা আছে।”

বর্ধমান  আদালতের আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ” এগুলো বিক্রি করা আইন বিরুদ্ধ।  যার জন্য শাস্তি হতে পারে।  প্রশাসনকেই এদিকটা দেখতে হবে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here