ওয়েবডেস্ক : বাঘেদের নিয়ে একটি সমীক্ষা বলছে বিশ্ব জুড়ে মাত্র ছ’টি প্রজাতির বাঘ আর বেঁচে আছে। তা-ও তারা প্রায় অবলুপ্তির পথে। সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই জোরদার করতে হবে বাঘ সংরক্ষণের ব্যবস্থা। সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, কমে যাচ্ছে বাঘের সংখ্যা। কমছে প্রজাতির বৈচিত্র্যও। তাই বিভিন্ন জিনগত বৈচিত্র্য, বিবর্তনের স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য দরকার বাঘ সংরক্ষণ আরও অনেক জোরদার করা। গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘কারেন্ট বায়োলজি’ পত্রিকায়। তাতে বলা হয়েছে কাস্পিয়ান, জাভা আর বালি অঞ্চলের বাঘ ইতিমধ্যেই অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। গোটা পৃথিবীতে রয়েছে মাত্র ৪০০০ বাঘ। ধীরে ধীরে এরাও অবলুপ্তির পথেই। এখন যে কটি প্রজাতির বাঘ রয়েছে সেগুলো হল –  বেঙ্গল টাইগার, আমুর টাইগার, সাউথ চায়না টাইগার, সুমাত্রান টাইগার, ইন্দোচাইনিজ টাইগার ও মালয়ওয়ান টাইগার।

কী ভাবে করা হল এই গবেষণা?

Loading videos...

গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা বাঘের ৩২টি জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করেছেন। অনুসন্ধান করেছেন। তাতে উঠে এসেছে বর্তমানে মাত্র ৬টি জিনগত বৈশিষ্ট্যের বাঘই রয়েছে। বাকিগুলি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন, বাঘের প্রত্যেক প্রজাতির মধ্যেই কিন্তু আলাদা আলাদা বিবর্তনের ইতিহাস লুকিয়ে আছে।

গবেষকরা হারিয়ে যাওয়া বৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য গোটা চিনের বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে গবেষণা চালিয়েছেন। পুরোনো বৈচিত্র্য, বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন পুরোনো আর নতুন বৈশিষ্ট্যগুলিও।

কেন হারিয়ে গেল এত প্রজাতির বাঘ?

সমীক্ষা থেকে বেরিয়ে এসেছে বাঘের বিলুপ্তির বেশ কয়েকটি কারণ। তার মধ্যে রয়েছে —

১) উপযুক্ত বাসস্থানের অভাব। অর্থাৎ বাঘের বাসযোগ্য ভূমি, জঙ্গলের অভাব। ২) চোরাশিকারির বাড়বাড়ন্ত। ৩) জলবায়ুর পরিবর্তনও প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষ ভাবে বাঘের সংখ্যা কমানোর জন্য ব্যাপক ভাবে কাজ করেছে। ৪) জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে প্রজননের পরিমাণও আগের থেকে বর্তমানে অনেক কমে গিয়েছে। এটিও অবলুপ্তির একটি অন্যতম মূল কারণ। তার ফলে বাঘের জনসংখ্যা ব্যাপক ভাবে কমে গিয়েছে।

বেজিং-এর পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শু জিন লুও বলেন, বাঘের বিভিন্ন প্রজাতির সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে গবেষকদের মধ্যেই অনেক মতোবিরোধ রয়েছে। এই সমস্যাটিও বাঘ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, একটি বাঘ সংরক্ষণের জন্য ২৫ হাজার একর জঙ্গল সংরক্ষণ করা দরকার।

বিশেষ তথ্য –

বাঘ মানেই কিন্তু সব জায়গার বাঘকে এক দেখতে নয়। বাঘেদের মূলত আলাদা করা যায় তাদের শরীরের পশম বা লোমের রঙ আর শরীরের মাপ দিয়ে। যেমন রাশিয়া আর ভারতীয় বাঘের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মালায়েশিয়া আর ইন্দোনেশিয়ার বাঘের মধ্যেও অনেক পার্থক্য রয়েছে।

বাঘ সম্পর্কে কিছু আগ্রহ জাগানো তথ্য –

১) জায়গা আর প্রজাতি অনুসারে শিকারের পদ্ধতি বদল হয় বাঘেদের। এশিয়ার বাঘের বৈশিষ্ট্য হল এরা শিকারের জন্য গন্ধের ওপর নির্ভর করে না। চোখ আর শব্দের ওপর নির্ভর করে।

২) এক একটি বাঘ এক একবারে ৮৮ পাউন্ড মাংস খেয়ে ফেলতে পারে।

৩) প্রতি দু’ বছরে একটি বাঘিনী দুই থেকে চারটি সন্তান প্রসব করে।

৪) বাঘেরা তাদের অভিভাবক অর্থাৎ বাবা মা-র কাছ থেকে সরে গিয়ে স্বাধীন ভাবে থাকা শুরু করে মাত্র দু’ বছর বয়সে। আর মেয়ে বাঘেরা তিন বা চার বছর বয়সে এবং পুরুষ বাঘেরা চার বা পাঁচ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। অর্থাৎ প্রজননক্ষম হয়।

৫) তরুণ বয়সে বাঘেদের মৃত্যুর হার বেশি। কিন্তু তা সত্বেও দেখা গিয়েছে দু’ বছর বয়সে বাঘের মৃত্যুর ঘটনাও কিছু কম নয়।

৬) সাধারণ ভাবে বাঘেদের আয়ুষ্কাল ২০ বছর।

৭) বাঘেদের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আমুর বা সাইবেরীয় প্রজাতির বাঘ সব থেকে বড়ো মাপের হয়। ওজন হয় প্রায় ৬৬০ পাউন্ড। আর সব থেকে ছোটো মাপের বাঘ হয় সুমাত্রীয় প্রজাতির, ওজন হয় ৩১০ পাউন্ড। সব ক’টি প্রজাতির বাঘের মধ্যেই একটি বিষয় দেখা যায়, তা হল মেয়ে বাঘেদের থেকে ছেলে বাঘেদের ওজন বেশি হয়।

৮) শিশু বাঘ মা বাঘের সঙ্গে থাকে। এ ছাড়া মূলত বাঘেরা একা থাকতেই পছন্দ করে।

৯) বাঘের উপস্থিতি চিহ্নিত করা যায় তাদের নখের আঁচঢ়, দাঁতের কামড়, গর্জনের শব্দ, মলমূত্র ইত্যাদির সাহায্যে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.