আলাস্কা : মূল বরফখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে আর মাত্র ৩ মাইল বাকি। এর আগে ৬ দিনে ফাটল বেড়ে গিয়েছিল ১৭ কিলোমিটার। তখন বাকি ছিল ৮ মাইল। নাসা ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, গত কয়েক মাসে অ্যান্টার্কটিকা তথা দক্ষিণ মেরুর লার্সেন সি আইসশেলফের ফাটল বেড়েছে ১০০ মাইল।

এই অংশটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে এর আয়তন হবে প্রায় ২০০০ বর্গমাইল। এটা আমেরিকার ডেলাওয়ার রাজ্যের সমান আয়তনের। ২০০০ বর্গমাইলের বরফখণ্ডটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণে ওয়েডেল সাগরের দিকে ভেসে যাবে।

লার্সেন সি আইসশেলফের এই ভাঙনকে কেন্দ্র করে নানা বিজ্ঞানীর নানা মত। কেউ বলছেন, এই বরফখণ্ড মহাসাগরে ভেসে যাবে। ফলে সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই। আবার কোনো কোনো বিজ্ঞানী মনে করছেন, এই ঘটনা লার্সেন সি আইসশেলফের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে।

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি আর এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী নেল গৌরমেলেন বলেন, গবেষণা বলছে এই হিমশৈলটি ৬০০ ফুট মোটা আর ওজন প্রায় দশ হাজার কোটি টন ।

এই ভাঙনের ঘটনাটা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। স্ক্রিপস ইনস্টিটিউট অব ওসেনোগ্রাফির অ্যান্টার্কটিকা বিশেষজ্ঞ হেলেন আমন ফ্রিকার বলেন, এটা খুব সাধারণ ঘটনা। সহস্রাব্দের এই সব বিশাল বরফশৈলগুলো একটা সময় পর ভেঙে যেতেই পারে। এক জন মানুষের বা একটা উপগ্রহের জীবৎকাল যা হয় একটা তুষারশৈলের আয়ু তার থেকে অনেক বেশি হয়। কিন্তু তারও ভাঙন আছে। এটাই একটা আদর্শ হিমশৈলের স্বাভাবিক আচরণ।

আরও পড়ুন : দক্ষিণ মেরুর বিশাল বরফখণ্ডের ফাটল ৬ দিনে বেড়েছে ১৭ কিলোমিটার

কিন্তু নাসা আর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টার্কটিকা বিশেষজ্ঞ এরিক রিংনট বলেন, বিশ্ব উষ্ণায়ণের কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তার প্রমাণ পাওয়া যায় উপদ্বীপীয় এলাকায়। যেমন — লার্সেন এ, লার্সেন বি, লার্সেন সি-এ পর পর ভাঙনের ঘটনাই এই তথ্য প্রমাণ করে। অ্যান্টার্কটিকার উত্তর প্রান্তে লার্সেন এ আইসশেলফের ভাঙন হয় ১৯৯৫ সালে। তিনি বলেন, যদিও এই এলাকাটা উষ্ণ অক্ষাংশে অবস্থিত। ২০০১ সালে লার্সেন বি আইসশেলফের ভাঙন ঘটে। এই আইসশেলফটি দক্ষিণ মেরুর সামান্য কাছে রয়েছে। এ বারের ঘটনাটি ঘটতে চলেছে লার্সেন সি আইসশেলফে। অথচ এটা সাংঘাতিক ঠান্ডা এলাকায় রয়েছে। তা-ও এই ভাঙন। সত্যিই দুশ্চিন্তার কারণ।

গবেষণা বলছে, এটা খুব দ্রুত সমুদ্রের দিকে ভেসে যাচ্ছে। ক্রমশ সরু হয়ে যাচ্ছে এই আইসশেলফ। এর উপরিতল ক্রমশ জলের নীচে জলে যাচ্ছে। তাই মনে করা হচ্ছে, এর জলের তলার অংশটা গলতে শুরু করেছে।

স্বাভাবিক ভাবেই এই ভাঙনকে খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ এর থেকেই অ্যান্টার্কটিকার অসুরক্ষিত তুষারশৈলগুলোর পরবর্তী আচরণ সম্পর্কে জানা যাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন