লন্ডন: পরিবেশ দূষণ রোধের পথে শেষ কয়েক দশক ধরে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার। এ এমন এক পদার্থ, যা মাটির সঙ্গে মিশতে সময় নেয় ১০০ থেকে ৪০০ বছর। ফলে বর্তমানে প্লাস্টিকজনিত পরিবেশ দূষণ ক্রমে বেড়েই চলেছে। সমস্যার গুরুত্ব এতটাই, যে পরিবেশবিদরা প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা কমানোর উপায় খুঁজতে নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন।

এমন সময় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক খোঁজ পেলেন এমন এক প্রজাতির শুঁয়োপোকার, যারা নাকি পলিথিন খেয়ে ফেলে। তাঁদের গবেষণা বলছে, এই প্রকার মথের লার্ভা ঠিক যে পদ্ধতিতে মোম খায়, একই ভাবে খেয়ে নেয় প্লাস্টিক। প্লাস্টিকের জটিল রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে তা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষমতা রয়েছে এদের। বিজ্ঞানসম্মত নাম গ্যাল্লেরিয়া মেল্লোনেল্লা। ‘কারেন্ট বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত যাবতীয় গবেষণা।

 

গবেষক দলের অন্যতম বিজ্ঞানী ডঃ পাওলো বম্বেল্লি এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “এটা আমাদের গবেষণার একদম প্রাথমিক পর্যায়। এই জটিল প্রক্রিয়া ঠিক কী উপায়ে সম্পন্ন হয়, তা এখনও জানা বাকি”। তবে একটা পলিথিন ব্যাগ এক ঘণ্টার মধ্যেই ফুটো করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই শুঁয়োপোকার। প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেছে তার।

ডঃ বম্বেল্লির সঙ্গে এই আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে স্প্যানিশ ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের বিজ্ঞানী ফেডেরিকা বারতোচ্চিনির নাম। দু’জনের কাছেই রয়েছে আবিষ্কারের পেটেন্ট। গ্যাল্লেরিয়া মেল্লোনেল্লাদের প্লাস্টিক হজম করার রসায়ন যদি বিজ্ঞানীরা বুঝে উঠতে পারেন, তবে কৃত্রিম উপায়েও প্লাস্টিক ধ্বংস করা সম্ভব হবে খুব তাড়াতাড়ি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here