ওয়েবডেস্ক: ৮ কোটি বছর আগেকার কথা। টিরানোসোরাস রেক্স্রা তখন রাজ করত পৃথিবীর বুকে। জলের তলায় ছিল ভয়ংকর সব হাঙর। সে রকমই এক প্রাণীর খোঁজ মিলল পর্তুগালের সমুদ্রে। ফ্রিল্ড শার্ক। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে জীবন্ত জীবাশ্ম, এটি নাকি তাই-ই।

ইয়োরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রকল্পের কাজে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে পর্তুগালের আল্গার্ভ সৈকতের কাছে বিজ্ঞানীরা এর সন্ধান পান। বিজ্ঞান্সম্মত নাম ক্ল্যামিডোসেলাচাস অ্যাঙ্গুইনিয়াস। সভ্যতার ইতিহাসে প্রাণের প্রাচীনতম নিদর্শনের মধ্যে এটি একটি। ফ্রিল্ড শার্কের সমসাময়িক প্রাণীরা বিলুপ্ত হয়েছে কয়েক কোটি বছর আগেই।

সাধারণত সমুদ্রের গভীরে থাকে। ৩৯০ থেকে ৪২০০ মিটার গভীরে। জলের এত গভীরে থাকায় আমাদের নজরেও বিশেষ পড়েনি বহুদিন। বিজ্ঞানীরা প্রথম ফ্রিল্ড শার্কের খোঁজ পান উনিশ শতকে।  এদের চোয়ালে দাঁতের সংখ্যা ৩০০-এর বেশি। এবং তা ২৫টি সারিতে বিন্যস্ত। পর্তুগালের আল্গার্ভ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্গারিদা কাস্ত্রো ব্যখ্যা করলেন, “মাছ, জলের অন্য প্রাণী, এমনকিঅন্য প্রজাতির হাঙরকে ফাঁদে ফেলার জন্যই চোয়াল এবং দাঁতের গঠন এমন অভিনব”। এঁদের গর্ভাবস্থাকাল পৃথিবীর বুকে বাস করা প্রাণীদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি, ৪২ মাস। ৬ জোড়া কানকো রয়েছে সারা শরীর জুড়ে, যার প্রথম জোড়া রয়েছে গলার কাছ থেকে বেশ কিছুটা অঞ্চল ছড়িয়ে।

এদের স্বভাব-চরিত্র নিয়ে কী বলছেন বিজ্ঞানীরা? ডাইনোসরের যুগ থেকে পৃথিবীতে টিকে থাকা এই প্রাণীর স্বভাব যে খুব নিরীহ গোছের হবে না, এটুকু অনুমান তো আমি আপনিও করতে পারি সহজেই। তার ওপর দাঁতের যা গঠন, সে সব পরীক্ষা করে গবেষকরা বলছেন, “যেন দুঃস্বপ্নেও ও রকম ভয়ংকর সুন্দর চোয়ালের কাছাকাছি আপনাকে কখনও পড়তে না হয়”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here