জলাভূমি বোজানো, গাছ কাটার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে

0
643

নিজস্ব সংবাদদাতা: পরিবেশ মানে কি শুধুই গাছ? নাকি জল, বাতাস, পশুপাখি, কীটপতঙ্গও? উত্তরটা জানা থাকলেও পরিবেশ দিবস পালন আটকে যায় শুধু ‘বৃক্ষরোপণ’-এ। অথচ সরকারি নির্দেশ বা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রকাশ্যে চলে জলাভূমি বোজানো। সচেতন মানুষ প্রতিবাদ করছেন। সেই রকমই কতগুলি প্রতিবাদ-আন্দোলনের খোঁজখবর রইল খবর অনলাইনের পাঠকদের জন্য।

সোদপুর

সোদপুরে হারিয়ে যাওয়া সোনাই নদী উদ্ধারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এলাকার বেশ কয়েকটি গণসংগঠন এবং এপিডিআর। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পুকুর বোজানোর চেষ্টা। সোদপুরের ঘোলা-চণ্ডীতলায় একটি পুকুর বুঝিয়ে দিচ্ছিল এক প্রোমোটার । খবর পেয়ে প্রতিবাদে শামিল হয় স্থানীয় এপিডিআর এবং বেশ কয়েকটি গণসংগঠন। অভিযোগ জানানো হয় মৎস্য দফতরে। অভিযোগ পেয়ে মৎস্য দফতর এলাকা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে পুকুর বোঝানো বন্ধ করে এবং যে গাড়িতে করে মাটি ফেলা হচ্ছিল সেটি আটক করে। এপিডিআর-এর অভিযোগ, পুলিশ সব জেনেশুনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আপাতত মৎস্য দফতরের নির্দেশে সেখানে পুকুর বোঝানো বন্ধ আছে। তবে সংগঠনগুলি দাবি পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

ডানলপ থেকে দক্ষিণেশ্বর যাওয়ার পথে ঝিল

ডানলপ

ডানলপ থেকে দক্ষিণেশ্বর যেতে ডান দিকে একটি ঝিল পড়ে। সে ঝিলটির একটি অংশ বুজিয়ে লরিস্ট্যান্ড এবং খাটাল তৈরি হয়েছে। এলাকার ফুসফুস বলেই পরিচিত ঝিলটি ক্রমশ বুজিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হন বরানগর এবং বেলঘরিয়ার বাসিন্দারা। তাঁরা পরিবেশ দফতর, মৎস্য দফতর, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, পুরসভা এবং স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানান। এর পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মৎস্য দফতর জানায়, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে দেখবে পুরসভা। গত মঙ্গলবার ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এলাকা ঘুরে দেখে। পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলাশয়টি বরানগর জুটমিলের মালিকানাধীন। তারা চিঠি দিয়ে কৈফিয়ৎ তলব করবে। বরানগরের বাসিন্দা সুমিত বাগচি জানিয়েছেন, ঝিলটি বোজানো বন্ধ না হলে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবেন।

ভাবা দিঘি

ভাবা দিঘি

তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেললাইনের জন্য গোঘাটের কাছে এক ৫৪ বিঘার দিঘির একাংশ বোজাতে চাইছে রেল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোজা রাস্তায় রেলপথ নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রভাবশালীদের জমি বাঁচাতেই দিঘি বোঁজানোর চেষ্টা চলছে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন গ্রামের বাসিন্দারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সম্প্রতি বাঁকুড়ায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দিঘি নিয়ে যেন রাজনীতি না হয়। প্রয়োজনে তিনি অন্যত্র দিঘি বানিয়ে দেবেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কোনোমতেই দিঘি বোঝাতে দেবেন না বলেই জানিয়েছেন।

বারাসত

গাছ কাটার প্রতিবাদেও আন্দোলন চলছে। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য যশোর রোডের আশাপাশে কাটা হচ্ছে গাছ। সেই গাছ কাটার বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং বেশ কয়েকটি গণসংগঠন।

যশোর রোডের দু’ধারে প্রাচীন গাছ কাটা রুখতে তৈরি হয় ‘যশোর রোড গাছ বাঁচাও কমিটি।’ গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। বিচারপতি চার সপ্তাহের জন্য যশোর রোডের গাছ কাটা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। টাকি রোড গাছ বাঁচাও কমিটির দাবি, গাছ বাঁচিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণ করা হোক।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here