‘গ্লিটার’ চকচকে কিন্তু পরিবেশের জন্য ভয়ংকর, বলছেন বিশেষজ্ঞ

0
390

নয়াদিল্লি : ‘গ্লিটার’ শব্দটার সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। এটা খুব ঝলমলে সূক্ষ্ম এক রকমের জিনিস, যা আধুনিক যুগে নানা ভাবে মানুষ ব্যবহার করে থাকে।

কখনও চুলের নানান স্টাইল করতে, কখনও তাকে আরও উজ্জ্বল, আকর্ষণীয় করে তুলতে হেয়ারড্রেসাররা তা ‘হেয়ার কালার’-এর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করেন। কখনও চুলে ‘বিড’ করলে তার ওপর দেওয়া হয়। আবার মেক আপ করার পর শেষ মুহূর্তের ‘টাচ’ দিতে হাইলাইটার হিসেবে মুখের নানা অংশে এই গ্লিটার ব্যবহার হয়। শুধু তাই নয় তা ছাড়াও তার থেকে একটু বড়ো মাপের একই জিনিস নানা উৎসব অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হয় আনন্দ প্রকাশের অঙ্গ হিসেবে। জন্ম দিনের কেক কাটার ব্যাপারটা তার মধ্যে অন্যতম।

তবে প্রথমেই আসা যাক জন্ম দিনের কেকে। ভ্রূক্ষেপ না করে অনেকেই সেটা কেকের সঙ্গে খেয়ে ফেলেন। তাতে শারীরিক ক্ষতি।

 

Our #glitterprocessporn revolution continues…you saw it here first Ladies and gentleman! @annielmorelli @discodustlondon

A post shared by Not Another Salon (@notanothersalon) on

এর পর আসা যাক তার ক্ষুদ্র সংস্করণ গ্লিটারের কথায়। প্রসাধনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গ্লিটার শরীরে থেকে যায় একটা দিন। কখনও তার বেশি দিনও স্থায়ী হয়। তবে ভালো করে জলে ধুলে তা জলের সঙ্গে শরীর থেকে চলে যায়। আর সমস্যা অন্য মাত্রা নেয় সেখানেই।

এই গ্লিটার আসলে প্ল্যাস্টিকের খুব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা, যা কোনো ভাবে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এটা জলে গুলেও যায় না, বাতাসে মিশেও যায় না। এত সূক্ষ্ম কণা পুড়িয়েও ফেলা যায় না। ফলে জলের সঙ্গে তা বয়ে যায়। আর সেই জল নালা, নদী পেরিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। আর তার সঙ্গে গ্লিটারও সমুদ্রে পড়ে। অর্থাৎ গ্লিটারের আকারে আরও একটা রূপে সমুদ্রের জলে প্ল্যাস্টিক জমা হয়। এর ফল হয় ভয়ংকর। জলের প্রাণীরা ওই গ্লিটার অজান্তেই খেয়ে ফেলে। তাদের জীবন বিপন্ন হয়। ফলে সমুদ্রের বাস্তুরীতি নষ্ট হয়।

পরিসংখ্যান বলছে, ৮০ লক্ষ টন জঞ্জাল সমুদ্রে ফেলা হয়। এর অর্থ হল এক লরি প্ল্যাস্টিকের আবর্জনা প্রতি মিনিটে সমুদ্রে পড়ছে।

ওটাওয়া রিভারকিপারের মতে, সমুদ্রে ফেলা ৯২% প্ল্যাস্টিক হল গ্লিটার জাতীয় মাইক্রোপ্ল্যাস্টিক।

তা হলে সবটা জেনে কী মনে হচ্ছে, কোনটা চকচকে করা বেশি জরুরি? নিজের প্রসাধন না কি পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা? প্রশ্নটা গোটা মানবসভ্যতার কাছে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here