নয়াদিল্লি : গত ৬৫ বছরে সব থেকে বেশি যে জিনিস তৈরি হয়েছে তা হল প্লাস্টিক। উৎপাদনের হারের নিরিখে বাকি সব উৎপাদনশীন পদার্থকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে এই প্লাস্টিক। প্রসঙ্গত গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্লাস্টিকের কুপ্রভাব থেকে গরুদের সুরক্ষার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু ভালোমন্দের এই প্রশ্নটা শুধু পশুদের গণ্ডির মধ্যেই আটকে নেই। গোটা পরিবেশের জন্য এই প্লাস্টিক এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটা ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্যা অ্যাডভানসমেন্ট অব সায়েন্স’-এর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক পত্রিকা ‘সায়েন্স অ্যাডভানস’-এ একটি গবেষণা পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। তাতেই এ কথা বলা হয়েছে। গবেষণাটির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘প্রোডাকশন, ইউজ অ্যান্ড ফেট অব অল প্লাস্টিকস এভার মেড’। এই গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৩০০০ লক্ষ মেট্রিক টন প্ল্যাস্টিক উৎপাদন করেছে গোটা বিশ্ব। তার ফলে ৬৩০০০ লক্ষ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। তার মাত্র ৯% পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়েছে। ১২% পুড়িয়ে ফেলা গিয়েছে। বাকি ৭৯% তথা ৪৯৭৭০ লক্ষ মেট্রিক টন বর্জ্য সঞ্চিত হয়েছে পরিবেশের যত্রতত্র। কখনও জলাশয়ে, কখনও স্থলভাগের খোলা জায়গায়, কখনও বা খোলা নর্দমায় বা নিচু জমিতে, ফাঁকা মাঠে।

গবেষণা অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে ১২০০০০ লক্ষ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে সঞ্চিত হবে অনুমান করা যায়, ৯০০০০ লক্ষ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা যাবে। ১২০০০০ লক্ষ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা যাবে। হিসেবটা মোটেই সুখকর নয়। বরং দুশ্চিন্তার।

আরও পড়ুন : ‘ই-বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন সচেতনতা’

২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইউরোপ সব থেকে বেশি পরিমাণ প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছে, তাও মাত্র ৩০%। তার পর রয়েছে চিন, ২৫%। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিসেবটা মাত্র ৯%।

মূলত থলে, ফিল্ম, কোনো কিছুর প্যাকেজিং, উপহারসামগ্রী মোড়ার কাগজ, পোশাকআশাক, বোতল, খেলনা, সংসারের নানা ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিস, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর জিনিসপত্র, বাড়ি ঘর তৈরির নানান সামগ্রী ইত্যাদি ছাড়াও বৈদ্যুতিক সামগ্রী প্লাস্টিকের তৈরি।

এগুলো বিশাল পরিমাণে পরিবেশে জমছে। যা নানা ভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে। জলে মিশে জলজ বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করছে। মাটিতে মিশে তার ঊর্বরতা ছাড়াও ক্ষতি করছে ব্যাপক মাত্রায়। ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণেও ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলছে। শুধু তাই নয় এই পদার্থ জ্বালিয়ে ফেললেও তা বায়ুতে পরিবেশে নানা রকমের ক্ষতিকারক পদার্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে বায়ুবাহিত নানা রোগের সংক্রমণ বেড়ে যায়। এর কোনো ক্ষয় নেই। চিরস্থায়ী এই পদার্থ এক কথায় সামগ্রিক দূষণ সৃষ্টি করে।

এই গবেষণাটি করেছেন গবেষক রোল্যান্ড গিয়ের, জেনা আর জামবেক এবং কার ল্যাভান্ডার ল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন