ওয়েবডেস্ক: ডারুইনের ‘যোগ্যতমের উদ্বর্তন’ তত্ত্ব অনুযায়ী কিছু প্রাণীর অবলুপ্তি পরিবেশের স্বাভাবিক নিয়মেই ঘটে। কিন্তু ক্রমশ উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের তৈরি কিছু বিশেষ কারণ সে সব জীব-জন্তুর বিলুপ্তির পথ আরও প্রশস্ত করছে। প্রাণীবিদদের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় বলছে অতিকায় এবং একেবারে খুদে, এই দুই ধরনের প্রাণীর বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তুলনায় অনেক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাঝারি আকৃতির জীবেরা। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন খুব বড়ো এবং খুব ছোট, সংরক্ষণের প্রয়োজন দু’ধরনের প্রাণীরই রয়েছে।

অতিকায় প্রাণীদের অবলুপ্তির জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী থাকে মানুষ। চোরা শিকারিদের চোখ এড়াতে না পেরে বলি হতে হয়। এই প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বিল রিপ্ল জানিয়েছেন, ছোট প্রাণীদের বিলুপ্তি হয় মূলত দূষণের কারণে। অথবা বনে জঙ্গলে গাছ কেটে ফেলার ফলে। এ ক্ষেত্রে বসবাসের জায়গার অভাবেই হারিয়ে যায় ছোট ছোট প্রাণগুলো।

এতদিন পরিবেশবিদরা মনে করতেন, আকারে যে সব স্তন্যপায়ী প্রাণী খুব বড়ো,  তাদেরই বিলুপ্ত হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বিপুল সংখ্যক উভচর, পাখি, সরীসৃপ, মাছ এবং স্তন্যপায়ীকে নিয়ে যখন একসঙ্গে গবেষণা শুরু হল, দেখা গেল, এতদিনকার ধারণা ঠিক নয়। একেবারে খুদে খুদে প্রাণীদের অবলুপ্তির সম্ভাবনাও যথেষ্ট।

রিপ্ল এবং তাঁর সহগবেষক থমাস নিউসাম এই প্রসঙ্গে বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, “সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দানবাকৃতি জীবকেই আমরা প্রাধান্য দিই, বাকিরা অনেকটাই উপেক্ষিত হয়। জলজ এবং স্থলচর, উভয়েরই কিন্তু অবলুপ্ত হওয়ার একইরকম সম্ভাবনা।

চাষ করা, নদি-ঝর্ণা-পুকুরের দূষণ, সবুজ ধ্বংস করে ফেলা, গাছপালা কেটে ফেলা এবং উন্নয়ন, এসব কারণই ছোট প্রাণীদের অবলুপ্তির জন্য দায়ী। তবে সব জীব জন্তুর অবলুপ্তির ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে দায়ী লোকসংখ্যা বৃদ্ধি। ‘প্রসিডিং অব দ্য ন্যাশানাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, দু’ধরনের প্রাণীর সংরক্ষণের জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা নিতে হবে, এবং তা নিতে হবে অবিলম্বে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন