টরোন্টো: গত গ্রীষ্মে ওয়াশিংটন টাকোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল ভূ-বিজ্ঞানী গিয়েছিলেন উত্তর কানাডার ইউকনে। লক্ষ্য ওই অঞ্চলের স্লিমস নদীর ওপর গবেষণা। কিন্তু ইউকন পৌঁছে গবেষক দল দেখলেন, কোথায় নদী? সেখানে তো কিছুই নেই। নদীর গতিপথ বদল অথবা মিলিয়ে যাওয়ার পেছনে থাকে জলবায়ুর পরিবর্তন। সাধারণত এই ধরনের ঘটনা ঘটে খুব আস্তে আস্তে, কয়েক হাজার বছর ধরে। কিন্তু স্লিমস নদীর ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে রাতারাতি। এক বসন্তেই  মিলিয়ে গেছে স্লিমস নদী।

‘নেচার জিওসায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ। স্লিমস নদী এতদিন এসে মিশত বেরিং সাগরে। এখন তার পরিবর্তে মিশছে কাস্কাউলস্‌ নদীতে।  স্লিমসের পুরোনো গতিপথের আর কোনো অস্তিত্বই রইল না আর।   বিজ্ঞানের ভাষায় একে নাকি বলে ‘রিভার পাইরেসি’ অর্থাৎ নদী চুরি। ইউকনের  হিমবাহ গলা জলই আসলে ওই দুই নদীর জলের উৎস। বর্তমানে হিমবাহের জল এসে পৌঁছচ্ছে না স্লিমস-এর কাছে।অর্থাৎ এখন কাস্কাউলস্‌ নদীর সঙ্গে একই পথে বইছে স্লিমস, তাই আলাদা করে তার অস্তিত্ব বোঝারও উপায় নেই কোনো। অধ্যাপক সুগার এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সাইমন ফ্রেজার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন ক্লেগ নাকি বছর দশেক আগে এই সম্ভাবনার কথা আঁচ করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুমান যে এত দ্রুত সত্যি হবে, ভাবতে পারেননি কেউই।

আগেকার গতিপথে একটুও জল না থাকায় স্লিমসের তীরবর্তী অঞ্চল খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা স্লিমসের মাছ, নদী সংলগ্ন অঞ্চলের জীবজন্তুর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”জলবায়ুর পরিবর্তন আরও একবার আমাদের মনে করিয়ে দিল, আমরা সব রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত নই”, বললেন অধ্যাপক সুগার।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here