জেনিভা : প্রতি বছর বিশ্বে পাঁচ বছরের মধ্যে যত শিশু মারা যায় তার একের চার অংশের মৃত্যুর কারণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এক কথায় দূষণ। সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু একটি সমীক্ষা প্রকাশ করে এই তথ্য জানাল।  

সমীক্ষা বলছে, এক মাস থেকে পাঁচ বছর বয়েসের মধ্যে শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ হল, ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া। এগুলিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব বিশুদ্ধ জল, রান্নার জ্বালানির পরিবর্তন করে।

তবে দূষিত পরিবেশ সব থেকে সাংঘাতিক বলে জানাচ্ছেন, হু-এর ডিরেক্টর জেনারেল ডক্টর মার্গারেট চ্যান। তিনি বলেন, শিশুদের ছোটো শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা সব কিছুই খুবই কোমল। দূষিত বায়ু আর জলের সংস্পর্শে এগুলো মোটেই সুরক্ষিত নয়। এই ক্ষতি শুরু হয় মায়ের গর্ভ থেকেই। যার ফলে অপরিণত শিশুর জন্ম হয় ও তার পর জটিলতা ক্রমশ বাড়ে। তা ছাড়া ছোটো শিশু থেকে আরম্ভ করে স্কুলে যেতে শুরু করা বাচ্চাদের মধ্যে বায়ুদূষণের প্রভাব পড়ে। ঘরে বাইরে দূষিত বায়ু, ধোঁয়া গ্রহণ করে তারা। ফলে ‘চাইল্ডহুড নিউমোনিয়া’, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয় তাদের শরীরে। দেখা দেয় হৃদরোগ, হাঁপানি। এর থেকে বেড়ে যায় ক্যানসার, স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনাও।

হু-এর সমীক্ষা বলছে, প্রতি বছর এই বয়সের প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার শিশু মারা যায় শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণের জন্য। ৩ লাখ ৬১ হাজার মারা যায় অস্বাস্থ্যকর জল থেকে হওয়া ডায়েরিয়ায়। ২ লাখ ৭০ হাজার শিশু প্রথম মাসেই মারা যায় অপরিণত বয়সে জন্মের কারণে। পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে ২ লাখ শিশু মারা যায় ম্যালেরিয়ায়। এই বয়সের ২ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়, জলে ডোবা, বিষক্রিয়া আর উঁচু থেকে পড়ে গিয়ে। 

ডক্টর মারিয়া নেইরা বলেন, এই সব শিশুমৃত্যুর সব থেকে ক্ষতিকারক কারণ হল দূষিত পরিবেশ, জল, বায়ু। ফলে পরিবেশ দূষণমুক্ত করা জরুরি। জল পরিশ্রুত করা, বায়ুদূষণ রোধ করা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করা, জ্বালানির পরিবর্তন করা দরকার। তাতে ভবিষ্যত সুন্দর হবে। বাঁচবে বহু শিশুর জীবন। 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন