মেলবোর্ন: গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। রঙ বেরঙের প্রবালে ভরা সমুদ্রের তলায় আশ্চর্য এক জগত। কিন্তু সব রঙ আজ ফিকে হয়ে আসছে ক্রমশ। রঙিন প্রবালদের এই বর্ণহীন হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে বলে ‘ব্লিচিং এফেক্ট’। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। ২০১৬-তে অস্ট্রেলিয়ার এই প্রবাল প্রাচীরে যে বিপুল পরিমাণ ব্লিচিং হয়েছে, পরিবেশবিদদের মতে,  তাতে ওই প্রাচীরের পুরোনো অবস্থায় ফেরার কোনো সম্ভাবনাই আর নেই। পর পর দু’বার ব্লিচিং-এর ফলে প্রায় দেড় কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল প্রভাবিত হয়েছে ।

 


গত সপ্তাহে ‘নেচার’ জার্নালে অস্ট্রেলিয়ার এই প্রবাল প্রাচীর নিয়ে দীর্ঘ এক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভূ-পৃষ্ঠ এবং সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা একই হারে বাড়তে থাকলে পরবর্তী দু’ দশকের মধ্যে আবার বর্ণহীন হয়ে পড়বে প্রবাল প্রাচীরের বাকি অংশ। অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২০১৭-র জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

প্রবালরা সাধারণত সমুদ্রের তলায় এক সঙ্গে দল বেঁধে চুনাপাথরের মতো একটা কাঠামো তৈরি করে। এরা নিজেরা খাদ্য তৈরি করতে পারে না। স্বভাবতই সাহায্য নিতে হয় সালোক সংশ্লেষকারী শৈবালের। কিন্তু সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে শৈবালদের শরীর থেকে বিষ নির্গত হয়। তখনই নিজেদের বাঁচাতে শৈবাল সংসর্গ ত্যাগ করে প্রবালরা। আর খাদ্যাভাবে নানা রোগে জীর্ণ হয়ে রঙ হারাতে শুরু করে তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ‘ব্লিচিং শক’ থেকে সেরে ওঠা সম্ভব প্রবালদের। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি সঙ্কটজনক। তাপমাত্রা এই হারে বাড়তে থাকলে প্রবালরা হারিয়েই যাবে এই অঞ্চল থেকে। বিজ্ঞানীরা এমনটাই আশঙ্কা করছেন।

গবেষকরা বলছেন, সমুদ্রের জলের গুণগত মান অথবা সমুদ্রে মাছ ধরার অভ্যাসের কারণে প্রবালদের কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়লে আর কিছুই করার থাকে না। তাই, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব কমানোর জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা দরকার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here