জামসেদপুর : ইন্টেল আন্তর্জাতিক পরিবেশ প্রকৌশল পুরস্কার (ইন্টেল ইন্টারন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড) পেল ১৭ বছরের প্রশান্ত রঙ্গনাথন। জামসেদপুরের কর্নেল জুনিয়ার কলেজ স্কুলের ছাত্র প্রশান্ত। ইন্টেল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল মেলায় কীটনাশক নিয়ে তাঁর মডেলের জন্য সে পুরস্কৃত হয়েছে।

স্কুলের একটি প্রকল্পের কাজ করতে স্কুল পার্শ্ববর্তী এলাকা প্রদর্শনে গিয়েছিল প্রশান্ত। সেখানে কৃষকদের অবস্থা তাকে প্রভাবিত করে। সেখানকার কৃষকদের মধ্যে এই ধারণা কাজ করে যে, যত বেশি কীটনাশক দেওয়া যাবে তত বেশি শস্য উৎপাদিত হবে। ভারতে এলড্রিন কীটনাশক ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ার পর ক্লোরপেরিফোস-এর ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশান্ত দেখে মাঠের পর মাঠ ওই কীটনাশকের ব্যবহারে ভেসে গেছে। যার ফল হয়েছে মারাত্মক। কারণ জমিতে প্রযুক্ত কীটনাশকের মাত্র ১ শতাংশ কীট নাশ করা কাজে লাগে। বাকিটা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। কীটনাশকের একটা বড়ো অংশ বাতাসে ভেসে আশেপাশের জমিতে ছড়িয়ে যায়। যার ফলে ওই অঞ্চলের চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কোনো মৌচাক নেই। কৃষকরা জানান, গত দু’ বছর ধরে কোনো মৌচাক তাঁরা এখানে হতে দেখেননি। অথচ গাছে পরাগ রেণুর মিলন ঘটানোর ক্ষেত্রে মৌমাছি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মৌমাছি কমে গেলে মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে। বাস্তুতন্ত্র আর প্রাকৃতিক ভারসাম্যের এই ধ্বংস প্রশান্তকে ভাবিয়েছিল। আর তাই সে কীটনাশক নিয়ে কাজ করতে শুরু করে।

মাটিতে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে ব্যবহার করে ক্লোরপেরিফোস-কে ভাঙার একটি কার্যকর উপায় তৈরি করেছে প্রশান্ত।

কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে ক্লোরপেরিফোস আক্রান্ত জমি ও জলাভূমিকে দূষণমুক্ত করার জন্য তাঁর মডেল কতটা কার্যক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সব প্রশ্নের উত্তর হয়তো এই ১৭ বছরের কিশোরের কাছে নেই। তা হোক। তবু তাঁর ভাবনা ও মডেল পুরস্কারের জন্য যোগ্য মনে করেছেন কতৃপক্ষ।

পুরস্কারের টাকা প্রশান্তর পড়াশোনার কাজে লাগবে। ভবিষ্যতে সে জীববিদ্যা নিয়ে পড়তে চায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here