নয়াদিল্লি : বাজারের তথ্য বলছে, গত চার বছরে দেশে হাঁপানির ওষুধের বিক্রি বেড়েছে ৪৩%। শুধু ২০১৬ সালেই শিশু আর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হাঁপানির ওষুধের বিক্রি বেড়েছে ১৫%।
বিশ্ব হাঁপানি দিবস উপলক্ষে ‘হু’ (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে। রিপোর্ট বলছে, গোটা বিশ্বে হাঁপানি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা সাড়ে ২৩ কোটি। বিশ্বের ২০টি হাঁপানিপ্রবণ শহরের ১৩টিই রয়েছে ভারতে। তার মধ্যে দিল্লি, পটনা, গোয়ালিয়র, রায়পুরে দূষণ সৃষ্টিকারী কণার পরিমাণ সব থেকে বেশি, যেগুলো মিশে রয়েছে বায়ুমণ্ডলে। সেই দূষণকণা শ্বাসের সঙ্গে নাসা-পথে প্রবেশ করে শরীরের ভেতর, ফুসফুসে। তার থেকেই শুরু হয় হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, নানা ধরনের হৃদরোগের উপদ্রব। দেশের দেড় থেকে দু’ কোটি মানুষের হাঁপানি আছে। দেশে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুর ১০% থেকে ১৫%-এর মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। এদের সমস্যা হল ছোটো নাসাপথ। ফলে দূষণ, ধুলোবালি, ফুলের রেণু বা ঘরেবাইরে গ্যাসের সংস্পর্শে এলে বা আবহাওয়া পরিবর্তন হলে তাদের মধ্যে অ্যালার্জি দেখা যায়। তার থেকে হাঁপানি হয়। দেশের বেশির ভাগ শিশুর এটাই সব থেকে জটিল সমস্যা।
নিয়মিত ভাবে বায়ুদূষণের ব্যাপারে সচেতন হওয়া, দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা যাবতীয় সব কিছু আটকে রয়েছে শুধু শহরেই। গ্রাম এ ব্যাপারে এক্কেবারে অন্ধকারে। প্রায় ৭০ কোটি মহিলা ও শিশু প্রতি দিন নানা ধরনের জৈবগ্যাস, কেরোসিন স্টোভের গ্যাস, কয়লার ধোঁয়া, শস্য জ্বালানির গ্যাস শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। এই সব গ্যাসের মধ্যে থাকে কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, সালফার অক্সাইড, ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বেঞ্জিনও।


তা ছাড়া ধূমপান, ঘুরপথে ধূমপান, ঠান্ডা আবহাওয়া, অতিরিক্ত মেদ-সহ জীবনযাপন পদ্ধতিও অনেক ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী।
নয়াদিল্লির শ্রী গঙ্গারাম হাসপাতালের চেস্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডাঃ নীরজ জৈন বলেন, হাঁপানি রোগ নিয়ে কেউ এলে প্রথমেই পারিবারিক ইতিহাস জানতে চাওয়া হয়। পরিবারের কারও এই রোগ ছিল বা আছে কিনা? কিন্তু দূষণও মানুষের মধ্যে এই রোগ ছাড়াতে পারে। তার নাম ক্রনিক অ্যাবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)। তা নিরাময় করা যায় হাঁপানির চিকিৎসার মাধ্যমেই। আবার কিছু ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা থেকেও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বুকে চাপ ধরা ভাব, স্বল্প দৈর্ঘের শ্বাস, নিঃশ্বাসের কষ্ট। এটা কখনও কয়েক মিনিট, কখনও একটা গোটা দিন, কখনও বা তার থেকেও বেশি সময় স্থায়ী হয়। এর ঠিক সময় ঠিক চিকিৎসা করা প্রয়োজন। তা না হলে হার্ট অ্যাটাক আর তার পর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের উপশম করা সম্ভব। তবে তা সময়সাপেক্ষ। তার জন্য কিছু ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তন যেমন দরকার, তেমনই দরকার নিয়মিত ও উপযুক্ত ওষুধ খাওয়া।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here