মুম্বই : মুম্বই উপকূলে তৈরি হতে চলেছে বিশাল শিবাজি মূর্তি। দীর্ঘ টালবাহানার পর মহারাষ্ট্র সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে। কাজ সম্পূর্ণ হলে এটাই বিশ্বের সব থেকে উচুঁ মূর্তি হিসেবে সমাদৃত হবে। কিন্তু সেই জৌলসের নীচে মারা পড়বে কয়েকশো মানুষের জীবনধারণের অবলম্বন। আর সে কথা ভেবেই বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংস্থা, পরিবেশবিদ এর বিরোধিতা করে আসছিলেন। 

fisher-man

মুম্বই উপকূল মূলত ধীবর বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের বাসভূমি। সময়ের স্রোতে নতুন অনেক জীবিকা তৈরি হলেও আদি জীবিকা এটাই। এই সম্প্রদায়ের দেবী ‘মুম্বাদেবী’-র নামানুসারে এখানকার নাম হয় মুম্বই। শিবাজি মূর্তি তৈরি হলে সমুদ্রের ওপর প্রায় দু’ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে শুধু থাকবে কঠিন পাথর। হারিয়ে যাবে জল। ফলে মারা পড়বে মাছ। ফলে হারিয়ে যাবে বাসিন্দাদের প্রাচীন জীবিকা। 

mumbai

এলাকার নাম মাচ্ছিমার নগর। বাস করেন প্রায় ২ হাজার মৎস্যজীবী। এঁরা প্রায় ৩৫০টি নৌকা নিয়ে প্রতি দিন মাছ ধরেন, সেগুলি বিক্রি করেন। নিজেদের সংসার নির্বাহ করেন।

crain

এঁদেরই এক জন ৩২ বছরে কৃষ্ণা টান্ডেল। তিনি জানান, এই মূর্তি তৈরি হলে মাছেদের বাঁচার রসদ বিন্দুমাত্রও থাকবে না। ফলে বংশ পরম্পরায় চলে আসা তাঁদের এই জীবিকা হারিয়ে যাবে, কর্মহীন হয়ে পড়তে হবে। তাঁদের জীবন সংকটে। 

bote

পরিবেশবিদরা প্রথম থেকেই এই স্থাপত্য তৈরিতে বাধা দিয়ে এসেছেন। ২০২১ সালে এটি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হবে। যা পরিবেশের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে। তাঁদের মতে, বাস্তুরীতিতেও সমস্যা হবে। এমনকি সামুদ্রিক বা জলজপ্রাণীর ক্ষতির পাশাপাশি পরিবর্তন হয়ে যাবে জোয়ার-ভাটা, জলস্রোত ইত্যাদি অনেক কিছুরই। এর দরুণ যে পরিমাণ ক্ষতি হবে তার কোনো পরিমাপ করা যায় না। 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন