নয়াদিল্লি : ভারতে এক দশকে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তথ্য বলছে বর্তমানে বাঘের মোট সংখ্যা ২৫০০ থেকে ৩০০০টা। ২০০৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৪৭৭টা। সংখ্যা বাড়লেও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বাঘ চোরাশিকারীর তাণ্ডবও। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড ইন্ডিয়া-র একটি পরিসংখ্যান বলছে ২০১৬ সালে চোরাশিকারীর সব থেকে বেশি উপদ্রব ছিল। ভারতের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা সমিতির (ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন সোসাইটি ইন্ডিয়া) হিসেব অনুযায়ী ২০১৬ সালে চোরাশিকারীদের হাতে মারা পড়েছে ৫০টি বাঘ। তাদের মতে, এই সংখ্যাটা গত ১৫ বছরে সব চেয়ে বেশি।

শনিবার বিশ্ব ব্যাঘ্র দিবস পালিত হল। এই দিবস উপলক্ষে পরিবেশমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন এই সমস্যার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ১০০ বছর আগেও এ দেশে বাঘের সংখ্যা ছিল লাখখানেক। সেখানে এখন মাত্র কয়েক হাজারেই সন্তুষ্ট হতে হচ্ছে।

ভারতের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা সমিতির টিটো জোসেফ বলেন, বাঘ একটা সংরক্ষণশীল প্রাণী। নানা কারণে বাঘের সংখ্যা কমছে। চোরাশিকার, বাঘেদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, বাসস্থানের অভাব বৃদ্ধি এই সব কারণই বাঘের সংখ্যা কমার জন্য দায়ী। এ ছাড়াও রয়েছে আরও কয়েকটি কারণ।

আরও পড়ুন : নাগরাকাটায় জাতীয় সড়কে গাড়ির ধাক্কায় স্ত্রী চিতাবাঘের মৃত্যু

২০১৭ সালেই প্রায় ২২টা চোরাশিকারের ঘটনা সামনে এসেছে। ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (এনটিসিএ) জানিয়েছে, চলতি বছরেই মহারাষ্ট্রে ১৬টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১২টা স্বাভাবিক মৃত্যু, বাকি ৪টে অঙ্গহানির ফলে মৃত্যু। মধ্যপ্রদেশে ১৪টা বাঘ মারা গেছে। তার মধ্যে ১৩টা স্বাভাবিক মৃত্যু, ১টা অঙ্গহানির ফলে মৃত্যু।

উল্লেখ্য, বাঘ সংরক্ষণের জন্য ১৯৭৩ সালেই ব্যাঘ্র প্রকল্প শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। বাঘের সংখ্য সাংঘাতিক কমে যাওয়ায় ২০০৬ সালে গঠন করা হয় এনটিসিএ।

১৯৭৩ সালে ব্যাঘ্র প্রকল্পের সংখ্যা ছিল মাত্র ৯টি। বর্তমানে এই সংখ্যা ৫০। আরও চারটে প্রকল্প তৈরির কথা চিন্তা করা হচ্ছে। ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার কথা চিন্তা ভাবনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : কেন বাঘ আমাদের জাতীয় পশু

প্রসঙ্গত বাঘ সংরক্ষণের ফলে সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই, তবে বাঘের বসবাসের এলাকা আর তাদের জীবনধারণের ক্ষেত্রে মানুষের ক্রিয়াকলাপ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। পরিবেশ মন্ত্রকের অনুমোদিত কেন-বেতোয়া নদীসংযোগ প্রকল্প বন্যপ্রাণীদের জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে ব্যাপক সংকট তৈরি করেছে। উত্তরাখণ্ডের জাতীয় সড়ক পরিকল্পনা করবেট ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্রে কুপ্রভাব ফেলবে। তা ছাড়া সাত নম্বর জাতীয় সড়কের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির পরিকল্পনাও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কাজের সঙ্গে এমনই একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

  • এনটিসিএ-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী

২০১৭ সালে বাঘের মৃত্যুর সংখ্যা – ৭৬।

স্বাভাবিক মৃত্যু – ৬২।

অঙ্গহানির ফলে মৃত্যু – ১৪।

  • ডব্লিউপিএসআই দেওয়া তথ্য অনুযায়ী

২০১৭ সালে বাঘের মৃত্যুর সংখ্যা – ৭৩।

চোরাশিকার ও অঙ্গহানির ফলে মৃত্যু – ২২।

মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে – ১৯।

পথ দুর্ঘটনায় বা রেলে কাটা পড়ে মৃত্যু – ১।

চিকিৎসা চলাকালীন বা উদ্ধার কাজের সময়ে মৃত্যু – ৭।

নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে মৃত্যু – ২০।

অন্য প্রাণীদের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে মৃত্যু – ৪।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন