trump

ওয়াশিংটন: ভোটের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতোই প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বেরিয়ে আসার কথা আগেই ঘোষণা করে টুইটারে তিনি পোস্ট করেন। দেশের অর্থনীতির অগ্রগতিতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্যারিস চুক্তি, এই যুক্তিতে জুলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত এই চুক্তি থেকে আমেরিকাকে বার করে আনলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার বিকালে (ভারতীয় সময় রাত সাড়ে বারোটা) হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে বসে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, দেশের কাছে অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল প্যারিস চুক্তি। এর ফলে চাকরির সুযোগ এবং সম্পদ চলে যাচ্ছিল প্রতিযোগীদের হাতে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে এল আমেরিকা।

প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই চুক্তির জন্য ২০২৫-এর মধ্যে ২৭ লক্ষ কাজ আমরা হারাতাম। এর মধ্যে উৎপাদন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ ৪ লক্ষ ৪০ হাজার।” মার্কিন সংবাদমাধ্যটি জানিয়েছে, এই তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে ন্যাশনাল ইকোনমিক্স রিচার্স অ্যাসোসিয়েটস। তারা জানিয়েছে, এই তথ্য সংগ্রহ করেছে আমেরিকান কাউন্সিল ফর ক্যাপিট্যাল ফরমেশন এবং মার্কিন চেম্বার অফ কমার্স। এই দু’টি সংগঠনই পরিবেশসংক্রান্ত যে কোনো নিয়ন্ত্রণের বিরোধী।

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, প্যারিস চুক্তির সুবিধা ভোগ করছে ভারত এবং চিন। আমেরিকা বেরিয়ে আসার ফলে বাড়তি সুবিধা পাবে তারাই। চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার পাবে ভারত আর বেজিং বাড়িয়ে চলবে তার কয়লা-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির সংখ্যা।

চিনকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় দূষণকারী’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ১৩ বছরে তারা যা খুশি করবে।

কিন্তু প্রেসিডেন্টের এই দাবি ঠিক নয় বলে দাবি করে মার্কিন সংবাদমাধ্যটি। ইতিমধ্যে কার্বন নিগর্মনের মাত্রা কমানোর জন্য একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে চিন। কয়লা-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যাও তারা কমিয়ে আনছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদার ২০শতাংশ অ-জীবাশ্ম জ্বালানি থেকেই পূরণ করবে বলে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে চিন। সৌরবিদ্যুৎ, বাতাস এবং পরমাণু চুল্লি থেকে ৮০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে চিন।

কী বলল বেজিং?

চিন জানিয়ে দিয়েছে, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি মেনে অন্য দেশগুলির সঙ্গ সহযোগিতা করে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার জন্য সব রকম উদ্যোগ নেবে তারা। চিনের সংবাদ সংস্থা ঝিংহুয়া আমেরিকার এই সিদ্ধান্তকে ‘গ্লোবাল সেটব্যাক’ বলে মন্তব্য করেছে। ২০০৭ সালে আমেরিকাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনকারী বলে মন্তব্য করেছিল চিন।

কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী?

সেন্ট পিটসবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘‘প্যারিস থাকুক আর নাই থাকুক ভারত ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য পরিবেশকে রক্ষা করতে বদ্ধ পরিকর।’’

২০১৫ সালে যিনি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন সেই প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

এই সিদ্ধান্তের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ফোন করে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং কানাডার রাষ্ট্রনেতাদের ব্যাখ্যা করবেন কেন তিনি এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে এলেন। তিনি বলবেন, আমেরিকা ট্রান্স-অ্যাটলান্টিক জোটের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তিনি দৃঢ়ভাবে পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা সংক্রান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের  ঘোষণার পরই তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন আমেরিকার অন্যতম গাড়ি এবং সৌরপ্যানেল নির্মাতা সংস্থা টেসলার-এর প্রধান এলন মুস্ক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন