Connect with us

নদিয়া

ঐতিহ্যের হৈমন্তীপর্ব: শান্তিপুরের ব্রহ্মচারী পরিবারের সোয়া শ’ বছরের জগদ্ধাত্রীপুজো

মালঞ্চ থেকে সরে এসে শান্তিপুরে জগদ্ধাত্রীপুজো শুরু হয় ১৮৯৪-৯৫ সাল নাগাদ।

Published

on

ব্রহ্মচারী পরিবারে মা জগদ্ধাত্রী।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

শান্তিপুরে ব্রহ্মচারী পরিবারের জগদ্ধাত্রীপুজো অতি প্রাচীন নয়, সোয়া শ’ বছরের। কিন্তু আদতে এই পুজোর সূত্রপাত শান্তিপুরে নয়, অন্যত্র। এর গোড়াপত্তনের ইতিহাস জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে প্রায় সাড়ে ৫০০ বছর।      

এই ব্রহ্মচারী বংশের আদিপুরুষ চামু ব্রহ্মচারী বাস করতেন অধুনা বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের নাটোরে। সময়টা ছিল ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দ। ব্রহ্মচারীদের আদি পদবি বাগচী। সৎ-মা এবং নিজের মায়ের দ্বন্দ্বের কারণে পৈতের সময় তিন দিনের রাত্রিবাস শেষ করার আগেই চামু দণ্ডীঘর থেকে আগেই বেরিয়ে আসেন সন্ন্যাস গ্রহণের জন্য। তাই এর পর থেকে পরিবারের সদস্যরা বাগচীর পরিবর্তে ব্রহ্মচারী পদবি লিখতে শুরু করেন। চামু ব্রহ্মচারী অবশ্য আবার পরিবারে ফিরে এসেছিলেন, তবে তাঁদের পদবি বাগচীতে ফিরে যায়নি। সেই সময় বাংলায় চলছিল হুসেন শাহের আমল। তাঁর আমলে ১৪৮৮ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ব্রহ্মচারী পরিবার অধুনা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার অন্তর্গত সুভাষগ্রাম ও মল্লিকপুরের মাঝে মালঞ্চ গ্রামের জমিদারি পান। তার বছর তিনেক পর মালঞ্চ গ্রামে ব্রহ্মচারী বংশে দুর্গাপুজো শুরু হয়। সেই বছরই শুরু হয় জগদ্ধাত্রীপুজো।

Loading videos...

এই ঘটনার শ’ চারেক বছর পরে ১৮৮০-৮৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ চামু ব্রহ্মচারীর উত্তরপুরুষ রামগোপাল ব্রহ্মচারী মালঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসেন ও শান্তিপুরে চলে যান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ব্রহ্মচারী পরিবারের পাটের ব্যাবসা ছিল। পরিবারে ব্যক্তিগত সংঘাতের কারণে রামগোপালের পাটের গুদামে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রামগোপাল ব্রহ্মচারী নিঃসম্বল হন।  

রামগোপালের মাতুলালয় ছিল শান্তিপুরের মৈত্র পরিবার। মৈত্র পরিবারের রজনীকান্ত মৈত্রের সঙ্গে রামগোপাল ব্রহ্মচারী ব্যাবসার কারণে সংযোগ স্থাপন করেন এবং শান্তিপুরে চলে আসেন। তিনি শান্তিপুরে নিজের বাড়ি ও আটচালা নির্মাণ করেন। নির্মাণের পর তিনি দেবীর স্বপ্নাদেশ পান – কালীপুজোর পরেই আয়োজন করতে হবে জগদ্ধাত্রীপুজোর। হাতে সময় খুব কম, কিন্তু দেবীই সব ব্যবস্থা করে দেন।

স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরদিন রামগোপাল গঙ্গাস্নানে গিয়ে ৭ বছরের এক বালিকাকে দেখেন ও তাঁকেই অনুসরণ করে গিয়ে এক কুম্ভকারের বাড়িতে পৌঁছে যান। সেই কুম্ভকারের কাছেই জগদ্ধাত্রী মূর্তি নির্মাণের ব্যবস্থা হয়। এ ভাবেই মালঞ্চ থেকে সরে এসে শান্তিপুরে জগদ্ধাত্রীপুজো শুরু হয় ১৮৯৪-৯৫ সাল নাগাদ।

শান্তিপুরে ব্রহ্মচারী পরিবারের দেবীদালান।

পরবর্তীকালে রামগোপাল ব্রহ্মচারীর প্রথম ও দ্বিতীয় পুত্র এই পুজোর হাল ধরেন। রামগোপালের দ্বিতীয় পুত্র ভুতনাথ ব্রহ্মচারীর সময় জগদ্ধাত্রীপুজোর জাঁকজমক বাড়ে এবং সেই সময় অর্থাৎ ১৯০৫-০৭ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ভুতনাথ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে মায়ের গহনা তৈরি করেন এবং পাশাপাশি পারিবারিক সম্পত্তির পরিমাণও বাড়ান।রামগোপাল ব্রহ্মচারীর নির্মিত আটচালার সংস্কার করে ভুতনাথ ব্রহ্মচারী দেবীদালান নির্মাণ করেন, তার সামনে নাটমন্দির।

ব্রহ্মচারী বংশে জগদ্ধাত্রীর রঙ উদিত সূর্যের মতো লাল। এই পরিবারে একদিনেই পুজো হয় অর্থাৎ নবমী তিথিতে ত্রিকালীন পূজা। দেবীর চালচিত্রে রয়েছে হস্তশিল্পের ছোঁয়া। দেবী সিংহবাহিনী এবং রাজসিংহরূপ লক্ষ করা যায়। জগদ্ধাত্রীকে স্বর্ণালংকারে সাজানো হয়। এই পরিবারে দেবী স্বয়ং বৈষ্ণবী হলেও তাঁর পুজো হয় তন্ত্রমতে। দেবীকে সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। একমাত্র শক্তিমন্ত্রে দীক্ষিত বাড়ির মহিলারাই ভোগ রান্না করতে পারেন।

এই পরিবারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল সম্পূর্ণ গঙ্গাজলে ভোগ রান্না হয় এবং সৈন্ধবনুন ব্যবহৃত হয়। ভোগে থাকে ঘিভাত, খিচুড়ি, ভাজা, তরকারি, পায়েস, চাটনি ইত্যাদি। ভোগঘর থেকে দেবীর কাছে ভোগ নিয়ে যাওয়ার সময় অন্দরমহলের সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই পরিবারে এখনও নরনারায়ণ সেবার ব্যবস্থা করা হয়। পুজোয় আখ, চালকুমড়ো এবং কলা বলি হয়। পূজার সময় ১০৮ দীপ প্রজ্জ্বলিত হয়।

বর্তমানে এই পুজোর পৌরোহিত্য করেন কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। পূজার আগের দিন চণ্ডীপাঠ হয় এবং সন্ধ্যায় দেবীর অধিবাস হয় এবং অধিবাস শেষে বাড়ির মহিলারা ঢাকিদেরও বরণ করেন যাকে ‘তালঠান্ডা’ বলা হয়। এই রীতি কেবলমাত্র নদীয়া জেলাতেই লক্ষ করা যায়।

দশমীর দিন সকাল থেকেই বাড়ির ছেলেরা রীতি অনুযায়ী আতশবাজি তৈরি করেন নিজের হাতে। দশমীর দিন পরিবারে ইলিশ মাছ খাওয়া হয়। ওই দিন কনকাঞ্জলি প্রথার মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানানো হয়। এখনও কাঁধে করে দেবীকে নিরঞ্জনের পথে নিয়ে যাওয়া হয়। দেবীকে বিসর্জনের সময় বাড়ির ছেলেদের তৈরি আতশবাজি পোড়ানো হয়। বিসর্জন শেষে বাড়ির দালানে জোড়া সত্যনারায়ণ পূজা হয় এবং পূজা শেষে শান্তিজল প্রদানের মাধ্যমে পূজার পরিসমাপ্তি ঘটে ব্রহ্মচারী বংশের।

এই ব্রহ্মচারী বংশের গৃহদেবী মা শীতলারও পূজা হয় দশমীর দিনে এবং নগরের দেবী মা সিদ্ধেশ্বরীরও পূজা হয় নৈবেদ্য সহযোগে।

করোনা ভাইরাসের জন্য নানা বিধিনিষেধ। ব্রহ্মচারী পরিবারের বিজ্ঞপ্তি।

এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে দশমীর শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ থাকবে এবং নৈবেদ্য ও ভোগের পরিমাণও কম করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য শতায়ু ব্রহ্মচারী মহাশয়। এ ছাড়া বিসর্জনের দিন আতশবাজি পোড়ানোর প্রথাও বন্ধ রাখা হচ্ছে। সাধারণ দর্শনার্থীরা ঠাকুর দর্শন করতে পারবেন তবে তার আগে তাদের স্যনিটাইজ করা হবে এবং নরনারায়ণ সেবার আয়োজনও এ বার বন্ধ থাকবে। আত্মীয়স্বজনকে এ বার প্যকেটে করে মহাপ্রসাদ দেওয়া হবে এবং সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলতে হবে প্রত্যেককেই।

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

নদিয়া

শান্তিপুরে পালিত হচ্ছে রাস উৎসব, অন্যতম আকর্ষণ রাইরাজা

যে শিশুকন্যা রাইরাজা হন তাঁকে আগের দিন নিরামিষ আহার করতে হয়। পরের দিন যথাযথ ভাবে নিয়ম মেনে তাঁকে সাজানো হয় এবং যুগলবিগ্রহের সামনে তাঁকে বসানো হয়।

Published

on

শান্তিপুরের রাইরাজা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

আজ ১৪ অগ্রহায়ণ, গোস্বামীমতে শ্রীকৃষ্ণের রাসযাত্রা উৎসব। করোনা-আবহে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই এই উৎসব উদযাপিত হচ্ছে শান্তিপুরেও। আর এই শান্তিপুরে রাস উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ রাইরাজা।  

কার্তিকীপূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত এই রাসযাত্রা বৈষ্ণবদের অন্যতম উৎসব। রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহকে নানা ভাবে সাজিয়ে রাসমঞ্চে নিয়ে আসা হয় আর ধুমধাম করে পালন করা হয় রাস উৎসব।

Loading videos...

এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ কাহিনি রয়েছে। একবার বৃন্দাবনের রাস উৎসব দেখার ইচ্ছা জেগে ওঠে স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেবের। কিন্তু রাস উৎসবে কৃষ্ণ ব্যতীত অন্য কোনো পুরুষের প্রবেশের অধিকার ছিল না। মহাদেব তখন ছদ্মবেশে রাসের উৎসবে প্রবেশ করলে যোগমায়া তাঁকে চিনে ফেলেন। বলা বাহুল্য মহাদেবের ত্রিনয়ন দেখে শ্রীকৃষ্ণও তাঁকে চিনে ফেলেন এবং অন্য পুরুষ রাসের উৎসবে প্রবেশ করেছে বুঝতে পেরে তিনি প্রস্থান করেন। এই অবস্থায় সখীরা চিন্তায় পড়ে যান – শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া রাস উৎসব হবে কী করে? সেই সময় তাঁরা ঠিক করেন, শ্রীরাধাকে একদিনের জন্য কৃষ্ণ সাজিয়ে দোলায় চাপিয়ে নগর পরিভ্রমণ করা হবে। তাই ওই একদিন রাই হলেন রাইরাজা।

সেই প্রথা আজও পালিত হয় শান্তিপুরের রাস উৎসবে এবং ভাঙারাসের শোভাযাত্রা ও রাইরাজাদের নিয়ে নগরপরিক্রমা যেন এক মহোৎসব শান্তিপুরে। ঐতিহ্যবাহী বড়ো গোস্বামীবাড়ির বিগ্রহদের নিয়ে এবং অন্যান্য বিগ্রহ নিয়ে শোভাযাত্রা শান্তিপুর পরিক্রমা করে। সেই শোভাযাত্রা দেখার জন্য ভিড় করেন দূরদূরান্তের মানুষজনও। আর তাঁরা সাক্ষী থাকেন এক ঐতিহ্যের। তবে জনশ্রুতি অনুযায়ী, মহাদেব যে হেতু দ্বাপরে রাস ভেঙেছিলেন তাই তিনি কলিযুগে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য অবতারে জন্মগ্রহণ করে মর্ত্যে রাস উৎসবের সূচনা করেন।

শ্রীরাধারমণ জিউ ও শ্রীরাধারানি।

মূলত দুই জায়গার রাসযাত্রা খুবই সমাদৃত – শান্তিপুর আর নবদ্বীপ। এই দুই জায়গার রাস উৎসবের মাহাত্ম্যও অপরিসীম। দুই অঞ্চলের মানুষজনই চায় তাদের অঞ্চলে রাস উৎসবের সাড়ম্বর বেশি হোক। তাই শান্তিপুরের গোস্বামীপ্রভুরা ঠিক করলেন নবদ্বীপের রাসের উৎসবকে টেক্কা দিতে গেলে পুরাণের আশ্রয় নেওয়া প্রয়োজন। আর সেই পুরাণেই তাঁরা পেয়ে গেলেন রাইরাজার কথা।

আর এই রাইরাজাই শান্তিপুরের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তবে শান্তিপুরে যাঁদের রাইরাজা করা হয়, তাঁদের অবশ্যই হতে হয় ১২ বছরের নীচে এবং ব্রাহ্মণবাড়ির কন্যা। যে শিশুকন্যা রাইরাজা হন তাঁকে আগের দিন নিরামিষ আহার করতে হয়। পরের দিন যথাযথ ভাবে নিয়ম মেনে তাঁকে সাজানো হয় এবং যুগলবিগ্রহের সামনে তাঁকে বসানো হয়। সাধারণ মানুষের কাছে এ ভাবেই বেড়ে যায় শান্তিপুরের রাস উৎসবের গুরুত্ব, যা আজ এক মহোৎসবে পরিণত হয়েছে।

শান্তিপুরের রাস উৎসবের কেন্দ্রে যিনি থাকেন তিনি হলেন শ্রীরাধারমণ জিউ, যিনি আগে ‘দোলগোবিন্দ’ নামে সেবা পেতেন পুরীর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের আমলে। তার পরে এই বিগ্রহ যশোরে চলে যায়। কিন্তু মানসিংহ বাংলা আক্রমণ করলে প্রতাপাদিত্য (বারো ভুঁইয়ার এক ভুঁইয়া) সেই বিগ্রহ গুরু অদ্বৈতাচার্যের পৌত্র মথুরেশ গোস্বামীর হাতে তুলে দেন। সেই থেকে শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামীদের বাড়িতে আজও পুজো পেয়ে আসছেন তিনি।

আরও এক রাইরাজা।

পরবর্তী কালে গোস্বামীবাড়ির শ্রীরাধারমণের পাশে নিয়ে আসা হয় অষ্টধাতুর শ্রীরাধারানিকে। এ ছাড়া রয়েছে আরও বিখ্যাত সব বিগ্রহ-বাড়ি – মধ্যম গোস্বামীবাড়ি, মদনগোপাল বাড়ি, সাহাবাড়ি, পাগলা গোস্বামীবাড়ি ইত্যাদি। সেই সব বিগ্রহকে নিয়ে শুরু হয় শোভাযাত্রা, সঙ্গে থাকেন রাইরাজারা। বেনারসি শাড়ি, নানা রকমের গহনা, ফুলের গহনা দিয়ে সাজানো হয় রাইরাজাদের এবং তাঁদের নিয়ে নগরপরিক্রমা করা হয়। এই ভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে শান্তিপুরে আজও পালিত হয় রাসযাত্রা, যার মূল আকর্ষণ রাইরাজা।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

শান্তিপুরের রাস উৎসবের কেন্দ্রে থাকেন বড়ো গোস্বামীবাড়ির শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ  

Continue Reading

নদিয়া

ঐতিহ্যের হৈমন্তীপর্ব: ছমছমে পরিবেশ, পঞ্চবটী বৃক্ষ, পঞ্চমুণ্ডীর আসন – স্থান মাহাত্ম্যেই অনন্য ব্রহ্মশাসনের জগদ্ধাত্রীপুজো

তবে এক সময় এই ব্রহ্মশাসন গ্রামের জগদ্ধাত্রীপুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মহামারির কারণে।

Published

on

ব্রহ্মশাসনের জগদ্ধাত্রী প্রতিমা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

আজ জগদ্ধাত্রীপুজো, বঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে মায়ের আরাধনা হচ্ছে নিষ্ঠার সঙ্গে। কথিত আছে, নদিয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রই শুরু করেছিলেন দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা, তবে তা ছিল দেবীঘটে পূজা। পরবর্তী কালে শান্তিপুর, চন্দননগর, কলকাতা ইত্যাদি স্থানে পুজোর প্রচলন হয়েছে।

নদিয়ার শান্তিপুরে জগদ্ধাত্রীপুজো শুরু করেছিলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র গিরিশচন্দ্র রায়। সময়টা ছিল ১৮০২ খ্রিস্টাব্দ।

Loading videos...

১৮০২ সালে গিরিশচন্দ্র রায় রাজসভার পণ্ডিত চন্দ্রচূড় তর্কপঞ্চাননকে পাঠিয়েছিলেন শান্তিপুর অঞ্চলের ব্রহ্মশাসন গ্রামে। চন্দ্রচূড় তর্কপঞ্চানন সাধনায় জগদ্ধাত্রীর অগ্নিবর্ণা রূপ দর্শন করেছিলেন। তখন থেকেই সেই অগ্নিবর্ণা দেবীর পূজা সাড়ম্বরে পালন করা শুরু করেন গিরিশচন্দ্র রায়।

আজ অনাড়ম্বর ভাবেই পুজো হয়ে আসছে চন্দ্রচূড় তর্কপঞ্চাননের সেই সাধনপীঠে যেখানে দেবী প্রথম আবির্ভূতা হয়েছিলেন। শান্তিপুরের এই অঞ্চলেই প্রথম জগদ্ধাত্রীর আরাধনা শুরু হয়েছিল এবং পঞ্চমূণ্ডির আসনে বসে ওই পণ্ডিতই জগদ্ধাত্রীপূজার বিধি সৃষ্টি করেন বলে জানা যায়।

চন্দ্রচূড় তর্কপঞ্চাননের পঞ্চমুণ্ডীর আসন।

তবে এক সময় এই ব্রহ্মশাসন গ্রামের জগদ্ধাত্রীপুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মহামারির কারণে। বেশ কয়েক বছর পর ব্রহ্মশাসনে মানুষের যাতায়াত শুরু হলে প্রবীণ এবং ধর্মপ্রাণ মানুষ আবার পুজো করার ব্যাপারে উদ্যোগী হন। সেখানে জগদ্ধাত্রীর ঘট পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়।

জনৈক শিবচন্দ্র ঘোষের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ঘটে পুজো হয়ে আসার পর এলাকার মানুষেরা আবার মূর্তিপুজো শুর করেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি জায়গাটি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে একটি ঘর নির্মাণ করে দেন। বর্তমানে সেখানে বারো মাস প্রতি দিন ঘটে পুজো হয়। জগদ্ধাত্রীপুজোর দিন মূর্তি গড়িয়ে পুজো হয়।

এই পুজোয় আড়ম্বর না থাকলেও ভক্তি ও নিষ্ঠায় এই পুজোর তুলনা হয় না। গা ছমছম করা নির্জন পরিবেশ, পাশেই পঞ্চবটী বৃক্ষ ও পঞ্চমুণ্ডীর আসন – এই স্থান মাহাত্ম্যেই আলাদা হয়ে রয়েছে ব্রহ্মশাসনের পুজো। পুজো উপলক্ষে মহোৎসব হয়। পরের দিন দিনের আলো থাকতেই দেবীর বিসর্জন হয়। এ বছরও পুজো হচ্ছে, তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য প্রশাসনের বিধিনিষেধ মেনে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

ঐতিহ্যের হৈমন্তীপর্ব: শিবপুরে যে বারোয়ারি জগদ্ধাত্রীপুজোর সূচনা হয়েছিল রায় চৌধুরীদের উঠোনে

Continue Reading

উঃ ২৪ পরগনা

চিনে নিন পশ্চিমবঙ্গের তিন সুপ্রসিদ্ধ সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির

দীপান্বিতার প্রাক-পর্বে এই বঙ্গের তিন সুপ্রসিদ্ধ সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের সঙ্গে পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক।

Published

on

ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে মায়ের বিগ্রহ।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

কালীপুজোর প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন মন্দিরে দীপান্বিতা অমাবস্যার দিন ভক্তদের ভিড় তেমন হবে না হয়তো, কিন্তু বিধি মেনে চলবে পুজো, দর্শনও হবে নানা বিধিনিষেধ মেনে। দীপান্বিতার প্রাক-পর্বে এই বঙ্গের তিন সুপ্রসিদ্ধ সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের সঙ্গে পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক।

শান্তিপুরের সিদ্ধেশ্বরী

Loading videos...

শান্তিপুর বৈষ্ণব ও শাক্তদের মেলবন্ধনের পীঠস্থান। বহু প্রাচীন বিগ্রহ ও মন্দির রয়েছে এই শান্তিপুরে। এখানকার সব থেকে উল্লেখযোগ্য দেবী হলেন তন্ত্রসিদ্ধ কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের আগমেশ্বরী, যাঁর পুজো দেখতে দূর দূর থেকে ছুটে আসে ভক্তকুল। তেমনই শান্তিপুরের প্রাচীন সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরও এক উল্লেখযোগ্য স্থান।

শান্তিপুরের সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের বয়স ৪০০ বছরের বেশি, প্রতিষ্ঠাকাল ১৬০৬ খ্রিস্টাব্দ। কৃষ্ণনগরের তৎকালীন রাজা ভবানন্দ মজুমদার (বিখ্যাত রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঠাকুরদাদা) মন্দির প্রতিষ্ঠা করে এর দায়িত্ব তুলে দেন পার্বতীচরণ মুখোপাধ্যায়, মতান্তরে ফকিরচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের হাতে। এই মুখোপাধ্যায়দের আদি পদবি ওঝা, বাংলায় রামায়ণ রচয়িতা কৃত্তিবাস ওঝার বংশধর।

সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের সামনে পরবর্তী কালে নাটমন্দির তৈরি করা হয়। তৈরি করেছিলেন শান্তিপুরের সরকার পরিবার। আগে সিদ্ধেশ্বরী কালীমূর্তি ছিল মাটির, পরবর্তী কালে (১৩৮৭ বঙ্গাব্দে) তা হয় পাথরের। কাশী থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল এই মূর্তি।  

শান্তিপুরের সিদ্ধেশ্বরী।

সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে মূল বার্ষিক পূজা হয় দীপান্বিতায়। ওই দিন এখানে পুজো শুরু হওয়ার পর শান্তিপুরের অন্যান্য কালীপুজো শুরু হয়। দীপান্বিতার রাতে  পুজো শুরু হয় রাত ১১.৪০ মিনিটে, শেষ হয় ভোর ৪টেয়। অতীতে বলিদানপ্রথা থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ। ৫০ কেজি বা তারও বেশি চালের ভোগ নিবেদন করা হয় দেবী সিদ্ধেশ্বরীকে। মাকে পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত, পায়েস, লুচি, সুজি, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, মাছ, চাটনি ইত্যাদি নিবেদন করা হয়। দীপাবলিতে হোমও হয়ে থাকে। সেই দিন রাত্রে মাকে রাজবেশে সাজানো হয়। পরের দিন সকালে ভোগ বিতরণ করা হয় এবং এক হাজার ভক্ত মায়ের প্রসাদ পান। ঐতিহ্য ও আভিজাত্য আজও অটুট শান্তিপুরের সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির।

হালিশহরের সিদ্ধেশ্বরী

হালিশহরের সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের বাৎসরিক পূজা হয় রাখিপূর্ণিমার দিন।

একাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ১০৮২ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ বেদগর্ভের বংশধরগণ বর্ধমান জেলার কাটোয়া থানার প্রাচীন জনপদ আমাটিয়া বা আমাথিতে বসবাস শুরু করেন। এই বংশের নবম পুরুষ শৌরীই প্রথম আমাথিতে আসেন।

এক সময়ে বর্ধমানের আমাটিয়ার বাস ত্যাগ করে সাবর্ণ গোত্রীয় বংশধরগণ অধুনা হুগলি জেলার ত্রিবেণীর কাছে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে গোহট্ট (বর্তমানে গোপালপুর) গ্রামে চলে আসেন। সাবর্ণ গোত্রীয় পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় সম্রাট হুমায়ুনের আমলে বঙ্গের এই অঞ্চলে মোঘল সেনাপতি ছিলেন। সম্রাট হুমায়ুন তাঁকে ‘সখত্ খাঁ’ বা ‘শক্তি খান’ উপাধি দেন এবং ভাগীরথীর পূর্ব তীরে ৪৫টি গ্রাম বিশিষ্ট হাভেলিশহর পরগণার জায়গির দেন। পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় ‘পাঁচুশক্তি খান’ নামে পরিচিত হন।  

সেনাবাহিনীর কাজ থেকে অবসরগ্রহণের পর পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় হাভেলিশহর পরগণায় বসবাস শুরু করে নতুন সমাজ গড়ে তুললেন। পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুর থেকে বৈদ্যদের এনে হাভেলিশহরে বসতি তৈরি করে দিলেন। হাভেলিশহরে প্রচুর চতুষ্পাঠী ছিল। আর সেই সব টোলে ছিল বহু কমবয়সি ছাত্র, দেখে মনে হত হাভেলিশহরে যেন কুমারদের হাট বসেছে। এই ভাবেই হাভেলিশহরের নাম হল কুমারহট্ট। আর সেই থেকে এই অঞ্চল পরিচিত হয়ে উঠল কুমারহট্ট হাভেলিশহর বা কুমারহট্ট হালিশহর নামে।

সাবর্ণ চৌধুরীদের ২১তম পুরুষ জীয়া গঙ্গোপাধ্যায় ১৫৩৫ থেকে ১৫৪৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কোনো এক বছরে গোহট্ট-গোপালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তী কালে শিক্ষালাভের জন্য তিনি হালিশহরে এসেছিলেন। এই জীয়া গঙ্গোপাধ্যায়ই পরে কামদেব ব্রহ্মচারী নামে প্রসিদ্ধ হন। পণ্ডিত জীয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের পুত্র হলেন লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি ১৬০৮ সালে মানসিংহের কাছে থেকে ৮টি পরগণার বিশাল জায়গির পান এবং পাশাপাশি পান রায়, চৌধুরী উপাধিও। রায় লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার চৌধুরীর জ্যেষ্ঠপুত্র রামকান্ত রায় চৌধুরী কুমারহট্ট হালিশহরে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর পুত্র জগদীশ রায় চৌধুরী (১৬২০-১৬৯০ খ্রিস্টাব্দ) ধার্মিক পুরুষ ছিলেন। জগদীশের জ্যেষ্ঠপুত্র তথা ২৫তম বংশপুরুষ বিদ্যাধর রায় চৌধুরী (১৬৪০-১৭২০ খ্রিস্টাব্দ) হালিশহরে বহু কর্মনিদর্শন রেখে গিয়েছেন।

কথিত আছে, বিদ্যাধর রায় চৌধুরী সকালে গঙ্গাস্নান করতে গিয়ে একটি কষ্টিপাথর পেয়েছিলেন। স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে এক অন্ধ ভাস্করকে দিয়ে কষ্টিপাথর থেকে নির্মাণ করিয়ে ছিলেন কালী, শিব এবং শ্যামরায়। সেই মূর্তিত্রয় হালিশহরেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাজারপাড়ার গঙ্গাতীরে কালিকা, চৌধুরীপাড়ায় শ্যামরায় এবং শিবের গলিতে বুড়োশিব প্রতিষ্ঠিত হন। কালিকাদেবীর নামানুসারে বাজারপাড়া পরিচিত হয় কালিকাতলা হিসাবে।

ইংরেজ ও পর্তুগিজদের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধে কালিকাতলার মন্দিরটি ধ্বংস হয়ে যায়, যদিও তার চিহ্ন রয়েছে আজও। পরে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে সাবর্ণ চৌধুরীদের আরও এক অধস্তন পুরুষ যোগেশচন্দ্র রায় চৌধুরী কালিকাদেবীর মূর্তিটিকে ‘দেবী সিদ্ধেশ্বরী’ নাম দিয়ে বলদেঘাটায় স্থানান্তরিত করেন। একটি দালানঘরে ওই মূর্তি স্থাপন করা হয় (আনুমানিক ১৮৫০-৫৫ খ্রিষ্টাব্দ)। পরবর্তী কালে ১৩২৩ বঙ্গাব্দে যোগেশচন্দ্রের সহধর্মিণী বসন্তকুমারী দেবী সিদ্ধেশ্বরী মন্দির ও তার সামনের নাটমন্দির সংস্কার করেন। বর্তমানে যে মন্দিরটি রয়েছে তা একেবারেই নতুন। এই মন্দিরের দ্বার খোলে ১৯৯৮ সালের ৮ আগস্ট। মন্দিরের সামনে দক্ষিণ দিকে নাটমন্দির।

পরবর্তীকালে বলদেঘাটার চট্টোপাধ্যায় পরিবারকে সাবর্ণরা দেবোত্তর সম্পত্তি দানপত্র করেছিলেন দেবীর সেবার জন্য এবং সব কিছু ব্যয়ভার বহনের জন্য। দেখভাল করার জন্য বর্তমানে কমিটি তৈরি হয়েছে। ১৯৬৪ সালে মায়ের মূর্তিটি চুরি হয়ে যায় এবং পায়ের পাতাটি ভেঙে যায়। এরপর ওই ভাঙা পায়ের নিত্যসেবা হয় এখনও। এর পর ১৯৯৮ সালে মায়ের বিগ্রহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়।

মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে উন্নতমানের অমূল্য কষ্টিপাথরে তৈরি ছ’ ফুট উচ্চতার চতুর্ভূজা সিদ্ধেশ্বরীমাতার অপূর্ব বিগ্রহ। শ্বেতপাথরের শিবের ওপর মা দণ্ডায়মান। হাতে খড়গ নিয়ে নৃমুণ্ডমালিনী মা বরাভয় আর অভয়দান করছেন।

হালিশহরের সিদ্ধেশ্বরী

রাখিপূর্ণিমার দিন এই মন্দিরে বাৎসরিক উৎসব হয়। বাৎসরিক উৎসবে সকালে থেকে মায়ের বিশেষ পূজা হয়। বেনারসী শাড়ি এবং বিভিন্ন গহনা দিয়েই মাকে সাজানো হয়, সঙ্গে থাকে ফুলের সাজ (গোলাপের মালা, পদ্মের মালা ইত্যাদি)। এইভাবে আজও প্রাচীন মন্দিরে মা সিদ্ধেশ্বরীর নিত্যসেবা হয়, এবং হালিশহরের ঐতিহ্যপূর্ণ মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম এই সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির।

ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি

বহু বছর ধরেই পুজো হয়ে আসছে এই কালীবাড়িতে, পুজো হয় নিষ্ঠার সঙ্গে। ৩১৭ বছরেরও প্রাচীন এই মন্দির। আজও সেই প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই পুজো হয় ঠনঠনিয়াতে। সকালবেলায় মায়ের মঙ্গলারতির মাধ্যমে পুজো শুরু হয়। তার পর মায়ের পুজো হয় নৈবেদ্য সহকারে। দুপুরবেলা অন্নভোগ দেওয়া হয় মাছ সহযোগে। সন্ধ্যায় সন্ধ্যারতি।

এই ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল ফলহারিণী কালীপুজো ও কার্তিক মাসের অমাবস্যার কালীপুজো, এই দুই দিন রাত্রে মায়ের নিরামিষ ভোগ হয়। নিরামিষ ভোগের মধ্যে থাকে লুচি, কচুরি, পাঁচ রকমের ভাজা, ছানার তরকারি, পনিরের তরকারি, ধোঁকার তরকারি, মিষ্টান্ন ইত্যাদি। দীপাবলির অমাবস্যা তিথিতে রাতের বিশেষ পূজায় ফল, নতুন বাসন, কাপড়, সাজসজ্জা, সমস্ত কিছুই নিবেদন করা হয়। ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে অমাবস্যার পুজোয় দুটি নৈবেদ্য নিবেদন হয় যা সেই প্রাচীন কাল থেকেই হয়ে আসছে – একটি মায়ের নৈবেদ্য ও একটি অমাবস্যার নৈবেদ্য।

ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির দেবী মৃন্ময়ী। প্রত্যেক বছর পুজোর আগে মায়ের অঙ্গরাগ করা হয়। সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এই ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে আসতেন, পুজো করতেন। শুধুমাত্র রামকৃষ্ণদেবই নন, তাঁর পরিবারের বহু সদস্যই আসতেন মায়ের কাছে। এই ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শঙ্কর ঘোষ মহাশয় (১৭০৬ সাল), কিন্তু মৃন্ময়ীকে প্রতিষ্ঠা করেন উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী ১৭০৩ সালে। তখন এই ঠনঠনিয়া ছিল সুতানুটি মহাশ্মশান। সেই সময় উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী মায়ের যে মৃন্ময়ী প্রতিমা, যে ঘট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই মূর্তি ও দেবীঘট আজও বর্তমান ঠনঠনিয়াতে।

দেবীর আদেশে উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী মায়ের মন্দির ও সেবাকাজ দিয়ে গিয়েছিলেন শঙ্কর ঘোষ মহাশয়কে। সেই থেকে এই পরিবার মায়ের সেবাকাজ করে আসছেন বংশপরম্পরায়। বহু ভক্তের সমাগম হয় কালীপুজোর দিন।

কলকাতার প্রাচীন কালীমন্দিরের মধ্যে এই মন্দির অন্যতম। কালীপুজোর দিন এই মন্দিরে ষোড়শোপচারে দেবীর পুজো ও আরতি করা হয়। বলিদান হয়, ভোগ নিবেদন করা হয় প্রাচীন রীতি মেনেই। কালীপুজোর পরের দিন মায়ের মন্দির থেকে দেবীর ভোগপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। মহাসমারোহে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দেবী পূজিতা হয়ে আসছেন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

মুর্শিদাবাদ ও বীরভুমে রাজা রামজীবন রায়ের উত্তরপুরুষদের এখন ১৯টি কালীপুজো

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
Kolkata High Court
রাজ্য16 mins ago

স্যাটের সময়সীমা শেষ হওয়ার এক দিন আগেই হাইকোর্টে ডিএ মামলার শুনানি

ফুটবল8 hours ago

মরশুমের প্রথম জয় বেঙ্গালুরুর, প্রথম হার চেন্নাইয়ের

রাজ্য11 hours ago

দুয়ারে সরকার: চার দিনেই ৭৫৮টি ক্যাম্পে ১৪ লক্ষ উপস্থিতি

রাজ্য11 hours ago

কলকাতায় সক্রিয় রোগী ৬ হাজারের নীচে, রাজ্যে নতুন সংক্রমণে ব্যাপক পতন

Vijay Mallya
বিদেশ11 hours ago

ফ্রান্সে বিজয় মাল্যের ১৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

দেশ12 hours ago

হায়দরাবাদে উত্থান বিজেপির, ইস্তফা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির!

দেশ13 hours ago

হায়দরাবাদ পুরভোটে টিআরএস বৃহত্তম দল হলেও পোক্ত বিজেপির ভিত!

দঃ ২৪ পরগনা13 hours ago

সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের বিকল্প কাজ-সহ একাধিক দাবিতে চিতুরি বন দফতরে ডেপুটেশন

কেনাকাটা

কেনাকাটা22 hours ago

পোর্টেবল গিজারের ওপর বিশেষ ছাড় বেশ কয়েকটি মডেলে

খবর অনলাইন ডেস্ক: শীতকাল মানেই কনকনে ঠান্ডায় উষ্ণ জলের প্রয়োজন। সেই গরম জলের প্রয়োজন মেটাতে পারে গিজার। অ্যামাজনে কয়েক ধরনের...

কেনাকাটা4 days ago

ব্র্যান্ডেড কোম্পানির ইমারশন রডে ২ বছর পর্যন্ত ওয়ার‍্যান্টি পাওয়া যাচ্ছে

খবর অনলাইন ডেস্ক: শীতকালে গরম জলে স্নান করার মজাই আলাদা। জল গরম করার জন্য কি ওয়াটার হিটার খুঁজছেন? কিনতে পারেন...

কেনাকাটা1 week ago

৫০০ টাকার মধ্যে অত্যাধুনিক হেডফোন

খবর অনলাইন ডেস্ক: হেডফোন খারাপ হয়ে গেছে? সস্তায় নতুন ধরনের হেডফোন খুঁজছেন? হেডফোনের কয়েকটি অত্যাধুনিক কালেকশন রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা1 week ago

শীতের নতুন কিছু আইটেম, দাম নাগালের মধ্যে

খবর অনলাইন ডেস্ক: শীত এসে গিয়েছে। সোয়েটার জ্যাকেট কেনার দরকার। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে কিনতে যাওয়া মানেই বাড়ি এসে এই ঠান্ডায়...

কেনাকাটা1 week ago

ঘর সাজানোর জন্য সস্তার নজরকাড়া আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক: ঘরকে একঘেয়ে দেখতে অনেকেরই ভালো লাগে না। তাই আসবারপত্র ঘুরিয়ে ফিরে রেখে ঘরের ভোলবদলের চেষ্টা অনেকেই করেন।...

কেনাকাটা2 weeks ago

লিভিংরুমকে নতুন করে দেবে এই দ্রব্যগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক: ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে ও সৌন্দর্য বাড়াতে ডিজাইনার আলোর জুড়ি মেলা ভার। অ্যামাজন থেকে তেমনই কয়েকটি হাল ফ্যাশনের...

কেনাকাটা2 weeks ago

কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস, দাম একদম নাগালের মধ্যে

খবর অনলাইন ডেস্ক: কাজের সময় হাতের কাছে এই জিনিসগুলি থাকলে অনেক খাটুনি কমে যায়। কাজও অনেক কম সময়ের মধ্যে করে...

কেনাকাটা4 weeks ago

দীপাবলি-ভাইফোঁটাতে উপহার কী দেবেন? দেখতে পারেন এই নতুন আইটেমগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই কালীপুজো, ভাইফোঁটা। প্রিয় জন বা ভাইবোনকে উপহার দিতে হবে। কিন্তু কী দেবেন তা ভেবে পাচ্ছেন...

কেনাকাটা1 month ago

দীপাবলিতে ঘর সাজাতে লাইট কিনবেন? রইল ১০টি নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আসছে আলোর উৎসব। কালীপুজো। প্রত্যেকেই নিজের বাড়িকে সুন্দর করে সাজায় নানান রকমের আলো দিয়ে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে...

কেনাকাটা2 months ago

মেয়েদের কুর্তার নতুন কালেকশন, দাম ২৯৯ থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজো উপলক্ষ্যে নতুন নতুন কুর্তির কালেকশন রয়েছে অ্যামাজনে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে। তেমনই কয়েকটি রইল এখানে। প্রতিবেদন...

নজরে