Connect with us

মেলাপার্বণ

ঐতিহ্যের হৈমন্তীপর্ব: হাওড়ার ভট্টাচার্যবাড়ির জগদ্ধাত্রীর বাঁ হাতে শঙ্খের জায়গায় থাকে খড়্গ

মহাস্নানে ডাবের জল আবশ্যিক কারণ সেটি দক্ষিণাচারী তান্ত্রিক আচার।

Published

on

ভট্টাচার্যবাড়িতে জগদ্ধাত্রীপুজোর আরতি।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দেখতে দেখতে জগদ্ধাত্রীপুজোও এসে গেল। সারা বছরের ক্লান্তি ভুলে উৎসবের দিনগুলিতে মানুষ সংসারের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসে একটু আনন্দ উপভোগ করার জন্য। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখার ভিড় উপচে পড়ে পরে। একটি বার সবাই চায় মায়ের সেই জ্যোতির্ময়ী বিগ্রহকে সামনে থেকে দেখতে। হাওড়া শহরেও বেশ কিছু বনেদিবাড়ি রয়েছে যেখানে বহু কাল ধরে জগদ্ধাত্রীপুজো হয়ে আসছে।

কথা হচ্ছিল হাওড়ার ভট্টাচার্যবাড়ির সদস্য স্বয়ম চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি জানালেন, তাঁদের বাড়ির পুজো এ বার ২৫৫ বছরে পদার্পণ করল। এই পরিবারের ঐতিহ্য এবং বনেদিয়ানা যেন পলকে পলকে অনুভব করা যায় ঠাকুরদালানে দাঁড়ালেই।

Loading videos...

কথিত আছে জগদ্ধাত্রী হলেন উমা হৈমবতী দুর্গা। তিনি আদি, তিনি অনন্ত, আর তিনি মহামায়ার সাত্ত্বিক রূপ। মহামায়ার রাজসিক গুণের প্রকাশ যদি হন দুর্গা, তা হলে সাত্ত্বিক রূপ এই জগদ্ধাত্রী। সাধকের মন যখন স্থির হয়, চঞ্চলতা কেটে গিয়ে মন আত্মভিমূখে গিয়ে দেবীর চরণে নিমগ্ন হয়, তখনই শ্রীশ্রীজগদ্ধাত্রী কৃপা করেন। তিনি ধারণী শক্তি। তিনি এ জগত ধরে আছেন, না ধরলে এ জগত পড়ে যাবে কালের অনন্ত কালে।

১৭৬৫ সালের কার্তিক মাসের শুক্লানবমীতে ত্রিপুরাসুন্দরী জগদ্ধাত্রী দেবীর আরাধনা শুরু হয় আন্দুলের বিখ্যাত ভট্টাচার্য বংশীয় গোপীমোহন ভট্টাচার্যের হাত ধরে বর্তমান হাওড়া শহরের মল্লিকফটকের বাড়িতে। গোপীমোহন সেই বছরেই তাঁর বংশের প্রাচীন কূলদেবী শ্রীশ্রীশঙ্করীদুর্গা (কালীযন্ত্রের আধারে) এবং পারিবারিক দুর্গাপূজা নিয়ে আসেন তাঁদের আন্দুলের বসতবাটী থেকে। গোপীমোহনের পিতা আন্দুলের বিখ্যাত তন্ত্রসাধক ভৈরবীচরণ বিদ্যাসাগর তাঁর বসতগৃহে দুর্গাপূজা করতেন এবং তাঁর ইষ্টদেবী শঙ্করীকালীর সেবার্চনা করতেন।

ভট্টাচার্যবাড়ির জগদ্ধাত্রী প্রতিমা।

তাঁর শেষ বয়সে তিনি তাঁর সম্পত্তি দুই পুত্রের মধ্যে ভাগ করে দেন। বড়ো পুত্র জগমোহন বাচস্পতিকে শঙ্করীকালীর সেবা আর ছোটো পুত্র গোপীমোহনকে শঙ্করীদুর্গার সেবার দায়িত্ব দেন। গোপীমোহন দুর্গাসেবার দায়িত্ব নিয়ে হাওড়ার মল্লিকফটকে তাঁদের দ্বিতীয় গৃহে আসেন এবং ঠাকুরদালান নির্মাণ করে পারিবারিক প্রাচীন দুর্গাপূজা চালিয়ে যান। কিন্তু শাস্ত্রমতে দুর্গাপূজার শেষে আরেক শক্তিপূজা করা আবশ্যক। কিন্তু কালীসাধক বংশীয় হয়েও গোপীমোহন কালীপূজা করলেন না কারণ তাঁদের বংশীয় প্রতিষ্ঠিত শঙ্করীকালী অবস্থান করছেন আন্দুলে তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত কালীমন্দিরে (মন্দির স্থাপনকাল ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দ), যা আজকের আন্দুলে দেবী সিদ্ধেশ্বরী শঙ্করীকালী মন্দির হিসাবে বিখ্যাত। কালীপূজার পরিবর্তে গোপীমোহন পিতৃ-আদেশ মেনে শ্রীশ্রীজগত্তারিণী জগদ্ধাত্রী দুর্গাপূজা শুরু করেন। সেই পূজাই তাঁর পুত্র রামনারায়ণ হতে সাত পুরুষ ধরে মল্লিকফটকের বাড়িতে হয়ে আসছে।

রামনারায়ণ পুত্র উমাচরণ তৎপুত্র বরদাচরণের এক মেয়ে অভয়াবালা দেবী। অভয়াবালা দেবী বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন রমেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। পিতার অকাল প্রয়াণের পর দুর্গা এবং জগদ্ধাত্রীপূজার গুরু দায়িত্ব পড়ে অভয়াবালার উপরে। ওঁর চার পুত্র এবং তাঁদের পরিবার সেই দায়িত্ব পালন করে আসছে। অভয়াবালা দেবীর সেজো পুত্র ভুপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার ১৯৮৪ সাল থেকে জগদ্ধাত্রীপূজার মূল দায়িত্ব পালন করছেন।

জগদ্ধাত্রীপূজার আচার শুদ্ধ তান্ত্রিক আচার। এই বাড়িতে শুক্লানবমীতেই সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীর পূজা হয়। মহাস্নানে ডাবের জল আবশ্যিক কারণ সেটি দক্ষিণাচারী তান্ত্রিক আচার। দেবীর বাঁ হাতে শঙ্খের জায়গায় থাকে খড়্গ। আগে পাঁঠাবলি হলেও ১৯৮৪ থেকে প্রাচীন হাঁড়িকাঠে চালকুমড়ো, বাতাবিলেবু এবং আখবলি হয়। নবমীপূজায় বলিদান এবং অষ্টমীতে ২৮টি দীপ দান হয়। মাকে মাছভোগ দেওয়া হয়ে থাকে এবং ‘নবান্ন’ নৈবেদ্য নিবেদিত হয়। ‘নবান্ন’-য় জোড়া কড়াইশুঁটি, চাল আর নতুন নলেনগুড় হল আবশ্যিক।

সময় বদলেছে তার সঙ্গে বদলেছে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি। খালি বদলায়নি মাতৃআবেগে ভরপুর হাওড়া তথা বাংলার এই প্রাচীন জগদ্ধাত্রীপুজো।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

ঐতিহ্যের হৈমন্তীপর্ব: সাবর্ণদের আটচালায় জগদ্ধাত্রী পুজো হচ্ছে ১৯৬৬ থেকে

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

মেলাপার্বণ

শান্তিপুরের রাস উৎসবের কেন্দ্রে থাকেন বড়ো গোস্বামীবাড়ির শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ

প্রশাসনের নির্দেশমতোই এ বার পালিত হবে রাস উৎসব। তবে প্রাচীন প্রথা মেনে পুজোর রীতিনীতি যথাযথই পালিত হবে।

Published

on

বড়ো গোস্বামীবাড়ির শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

উৎসবের মরশুম শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজোয়, শেষ হতে চলেছে রাসযাত্রায়। শান্তিপুর এবং নবদ্বীপ সেজে উঠছে রাসযাত্রার আলোয়। শান্তিপুরের রাসযাত্রা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে অগণিত ভক্তরা আসেন, উপভোগ করেন ভগবানের লীলা। তবে এ বছর কি সবাই আগের মতন আনন্দ করতে পারবেন? এই মহামারি পরিস্থিতিতে কি আগের মতোই রাসযাত্রা পালিত হবে  শ্রীধাম শান্তিপুরে?

কথা হচ্ছিল বড়ো গোস্বামীবাড়ির সদস্য সুদীপ্ত গোস্বামী। তিনি জানালেন, প্রশাসনের নির্দেশমতোই এ বার পালিত হবে রাস উৎসব। তবে প্রাচীন প্রথা মেনে পুজোর রীতিনীতি যথাযথই পালিত হবে। কথায় কথায় জানা গেল, এই বড়ো গোস্বামীদের শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউই শান্তিপুরে রাস উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। এ ছাড়াও অবশ্য শান্তিপুরের বিভিন্ন জায়গায় আরও বিগ্রহ রয়েছে, সেখানে ধুমধাম করে এই উৎসব পালিত হয়।

Loading videos...

শান্তিপুরের এই রাস উৎসব বঙ্গদেশের সাংস্কৃতিক দিককে আরও উজ্জ্বল করে। সুদীপ্তবাবু আরও জানালেন, বড়ো গোস্বামীবাড়ির রাস উৎসবের শেষ দিন ঠাকুরনাচ হয়। এই নাচ বড়ো গোস্বামীবাড়ির রাস উৎসবের এক প্রধান অঙ্গ। কিন্তু করোনা-আবহে এ বছর বন্ধ থাকবে সেই নাচ।

শ্রীঅদ্বৈত-পৌত্র মথুরেশ গোস্বামীর বড়ো পুত্র রাঘবেন্দ্রের সময় থেকে এই বড়ো গোস্বামীবাড়ির সৃষ্টি। কথিত আছে, ঈশ্বর দর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত ভ্রমণে বেরিয়ে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য নেপালের গণ্ডকী নদী থেকে একটি নারায়ণশিলা পান। সেই শিলা তিনি শান্তিপুরে নিজের বাড়িতে এনে পূজা করা শুরু করেন। আচার্যদেবের সেই নারায়ণশিলা আজও নিত্য পূজিত হন বড়ো গোস্বামীবাড়িতে।

এই বাড়ির প্রধান দেবতা কষ্টিপাথরের শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ। এই মূর্তি আগে পুরীতে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের আমলে ‘দোলগোবিন্দ’ নামে পূজিত হতেন। পরবর্তী কালে বারোভুঁইয়া পরিবারের বসন্ত রায় তাঁকে যশোরে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে মানসিংহ বাংলা আক্রমণ করলে মূর্তির পবিত্রতা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় বসন্ত রায়ের পরিবার এই কৃষ্ণমূর্তি তুলে দেন তাঁদের গুরুদেব অদ্বৈত-পৌত্র মথুরেশ গোস্বামীর হাতে। মথুরেশ গোস্বামী সেই মূর্তি নিয়ে এসে শান্তিপুরে নিজের বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ নামে। সেই থেকে শ্রীশ্রীরাধারমণ পূজিত হচ্ছেন বড়ো গোস্বামীবাড়িতে।

শ্রীশ্রীরাধারমণজিউ-এর পাশে শ্রীরাধিকা।

পরবর্তী কালে রাধারমণ বিগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন শ্রীমতী। এ ছাড়াও বাড়িতে রয়েছেন সুপ্রাচীন মদনমোহন-শ্রীমতী, শ্রীশ্রীরাধাবল্লভ-শ্রীমতী, শ্রীশ্রীগোপালরায়-শ্রীমতী ও শ্রীশ্রীবিশ্বমোহন-শ্রীমতী বিগ্রহ। রয়েছেন জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা এবং রামচন্দ্রের দারুমূর্তি। এ ছাড়া বড়ো গোস্বামীবাড়িতে রয়েছে শান্তিপুরের একমাত্র ষড়ভুজ মহাপ্রভুমূর্তি, শ্রীঅদ্বৈতাচার্য, সীতাদেবী ও পুত্র অচ্যুতানন্দের দারুমূর্তি ও কষ্টিপাথরের শিবমূর্তি।

শ্রীশ্রীরাধারমণকে নিয়ে বেশ আনন্দে কাটছিল। এমন সময় হঠাৎ ছন্দপতন হল, বড়ো গোস্বামীবাড়ির মন্দির থেকে অপহৃত হলেন শ্রীশ্রীরাধারমণ বিগ্রহ। তখন তাঁদের বাড়ির সদস্যরা ঠিক করলেন, শ্রীধাম বৃন্দাবনে গোপীরা ‘কাত্যায়নীব্রত’ করে যেমন লীলাপুরুষোত্তমকে পেয়েছিলেন, ঠিক তেমনই তাঁরাও কাত্যায়নী পুজো করবেন শ্রীশ্রীরাধারমণকে পাওয়ার জন্য। শারদীয়া দুর্গাপুজোর সময় শ্রীশ্রীকাত্যায়নীমাতার পুজো শুরু হল। মায়ের কাছে হত্যে দিয়ে থাকার পরে তৃতীয় দিনে স্বপ্নাদেশ হল – দিগনগরে একটি জলাশয়ে তাঁদের ইষ্টদেবকে ফেলে রাখা হয়েছে। সেই জলাশয় থেকে রাধারমণকে উদ্ধার করে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হল।

শান্তিপুরবাসীকে দর্শন দিয়ে ধন্য করার জন্য যুগল বিগ্রহকে বরকন্যারূপে নানা অলংকারে সজ্জিত করে সারা শান্তিপুর শোভাযাত্রা করে ঘোরানো হয়। সেই থেকে রাস উৎসবের সময় রাধারমণের পাশে রাধারানিকে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং শোভাযাত্রা বের হয়। সেই শোভাযাত্রাই হল বিখ্যাত ভাঙারাস উৎসব।

রাধারমণ ও শ্রীরাধিকার বরকন্যাবেশের শোভাযাত্রার পেছনে বরযাত্রী হয়ে চলেন শান্তিপুরের সকল পূজিত যুগল বিগ্রহ। এই অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ সংগঠিত করেন খাঁ চৌধুরী বাড়ি (খাঁ চৌধুরীরা হলেন বড়ো গোস্বামীবাড়ির শিষ্য)। ভাঙারাসের পরের দিন বড়ো গোস্বামীবাড়ির সব যুগল বিগ্রহকে নানা অলংকারে সাজিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘কুঞ্জভঙ্গ’ বা ‘ঠাকুরনাচ’। এই অনুষ্ঠানটি খুবই মনোরম এবং অনুষ্ঠান শেষে সকল বিগ্রহকে অভিষেক করে মন্দিরে প্রবেশ করানো হয়।

এ ছাড়া এই বড়ো গোস্বামীবাড়িতে শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ-এর জামাইষষ্ঠী পালিত হয়। এ ছাড়া শ্রীশ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের প্রথম পুত্র অচ্যুতানন্দের জন্মতিথি পালিত হয়। ঝুলনযাত্রা অনুষ্ঠানে শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ ও অন্যান্য যুগল বিগ্রহ সুসজ্জিত করে ঝুলনে তোলা হয়। বৈশাখ মাসের বৈশাখী পূর্ণিমায় শ্রীশ্রীরাধারমণের ফুলদোল ও বনভোজন অনুষ্ঠান সাড়ম্বরে পালিত হয়।

তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে কুঞ্জভঙ্গের ঠাকুরনাচ বন্ধ থাকবে এবং ভক্তদের প্রসাদ বিতরণও বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সুদীপ্ত গোস্বামী। প্রতি বছর বড়ো গোস্বামীবাড়ির রাসমঞ্চের সামনের বিরাট মাঠটিতে দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য ব্যবস্থা করা হয়। সেই ব্যবস্থাও এ বছর বন্ধ থাকবে বলে শোনা যাচ্ছে।

Continue Reading

নদিয়া

ঐতিহ্যের হৈমন্তীপর্ব: ছমছমে পরিবেশ, পঞ্চবটী বৃক্ষ, পঞ্চমুণ্ডীর আসন – স্থান মাহাত্ম্যেই অনন্য ব্রহ্মশাসনের জগদ্ধাত্রীপুজো

তবে এক সময় এই ব্রহ্মশাসন গ্রামের জগদ্ধাত্রীপুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মহামারির কারণে।

Published

on

ব্রহ্মশাসনের জগদ্ধাত্রী প্রতিমা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

আজ জগদ্ধাত্রীপুজো, বঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে মায়ের আরাধনা হচ্ছে নিষ্ঠার সঙ্গে। কথিত আছে, নদিয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রই শুরু করেছিলেন দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা, তবে তা ছিল দেবীঘটে পূজা। পরবর্তী কালে শান্তিপুর, চন্দননগর, কলকাতা ইত্যাদি স্থানে পুজোর প্রচলন হয়েছে।

নদিয়ার শান্তিপুরে জগদ্ধাত্রীপুজো শুরু করেছিলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র গিরিশচন্দ্র রায়। সময়টা ছিল ১৮০২ খ্রিস্টাব্দ।

Loading videos...

১৮০২ সালে গিরিশচন্দ্র রায় রাজসভার পণ্ডিত চন্দ্রচূড় তর্কপঞ্চাননকে পাঠিয়েছিলেন শান্তিপুর অঞ্চলের ব্রহ্মশাসন গ্রামে। চন্দ্রচূড় তর্কপঞ্চানন সাধনায় জগদ্ধাত্রীর অগ্নিবর্ণা রূপ দর্শন করেছিলেন। তখন থেকেই সেই অগ্নিবর্ণা দেবীর পূজা সাড়ম্বরে পালন করা শুরু করেন গিরিশচন্দ্র রায়।

আজ অনাড়ম্বর ভাবেই পুজো হয়ে আসছে চন্দ্রচূড় তর্কপঞ্চাননের সেই সাধনপীঠে যেখানে দেবী প্রথম আবির্ভূতা হয়েছিলেন। শান্তিপুরের এই অঞ্চলেই প্রথম জগদ্ধাত্রীর আরাধনা শুরু হয়েছিল এবং পঞ্চমূণ্ডির আসনে বসে ওই পণ্ডিতই জগদ্ধাত্রীপূজার বিধি সৃষ্টি করেন বলে জানা যায়।

চন্দ্রচূড় তর্কপঞ্চাননের পঞ্চমুণ্ডীর আসন।

তবে এক সময় এই ব্রহ্মশাসন গ্রামের জগদ্ধাত্রীপুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মহামারির কারণে। বেশ কয়েক বছর পর ব্রহ্মশাসনে মানুষের যাতায়াত শুরু হলে প্রবীণ এবং ধর্মপ্রাণ মানুষ আবার পুজো করার ব্যাপারে উদ্যোগী হন। সেখানে জগদ্ধাত্রীর ঘট পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়।

জনৈক শিবচন্দ্র ঘোষের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ঘটে পুজো হয়ে আসার পর এলাকার মানুষেরা আবার মূর্তিপুজো শুর করেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি জায়গাটি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে একটি ঘর নির্মাণ করে দেন। বর্তমানে সেখানে বারো মাস প্রতি দিন ঘটে পুজো হয়। জগদ্ধাত্রীপুজোর দিন মূর্তি গড়িয়ে পুজো হয়।

এই পুজোয় আড়ম্বর না থাকলেও ভক্তি ও নিষ্ঠায় এই পুজোর তুলনা হয় না। গা ছমছম করা নির্জন পরিবেশ, পাশেই পঞ্চবটী বৃক্ষ ও পঞ্চমুণ্ডীর আসন – এই স্থান মাহাত্ম্যেই আলাদা হয়ে রয়েছে ব্রহ্মশাসনের পুজো। পুজো উপলক্ষে মহোৎসব হয়। পরের দিন দিনের আলো থাকতেই দেবীর বিসর্জন হয়। এ বছরও পুজো হচ্ছে, তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য প্রশাসনের বিধিনিষেধ মেনে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

ঐতিহ্যের হৈমন্তীপর্ব: শিবপুরে যে বারোয়ারি জগদ্ধাত্রীপুজোর সূচনা হয়েছিল রায় চৌধুরীদের উঠোনে

Continue Reading

মেলাপার্বণ

ঐতিহ্যের হৈমন্তীপর্ব: শিবপুরে যে বারোয়ারি জগদ্ধাত্রীপুজোর সূচনা হয়েছিল রায় চৌধুরীদের উঠোনে

পুজো যখন তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করে তখন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁরা এই পুজোটি আর রায় চৌধুরীদের উঠোনে করবেন না, পুজোটি বাড়ির চার দেওয়ালের বাইরে নিয়ে আসবেন।

Published

on

বারোয়ারি পুজোর জগদ্ধাত্রী বিগ্রহ।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

জগতকে যিনি ধারণ করে রয়েছেন, ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করছেন তিনি জগদ্ধাত্রী অর্থাৎ তিনিই আদিশক্তি, ব্রহ্মস্বরূপিণী। হাওড়া অঞ্চলে বিভিন্ন বনেদিবাড়িতে তাঁর আরাধনা হলেও শিবপুরের এক বারোয়ারি পুজোতেও দেবীর আরাধনা হয় নিষ্ঠার সঙ্গে, যে পুজোর সূচনা হয়েছিল শিবপুরের রায় চৌধুরীদের উঠোনে। এ বছর সেই  পুজোর সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। প্রচুর পরিকল্পনা ছিল এ বারের পুজো বিশেষ ভাবে উদযাপন করার, কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সমস্ত পরিকল্পনাই পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন উদ্যোক্তারা। তা বলে নিষ্ঠার কোনো অভাব হবে না এ বারে শিবপুরের মা জগদ্ধাত্রীর পুজোয়।

১৯৭০ সালে এই পুজোর সূচনা হয় শিবপুরের রায় চৌধুরীদের উঠোনে। সেই সময়ে রায় চৌধুরী পরিবারের ঠাকুরদালানে দুর্গাপুজো ও কালীপুজো ছাড়া সে অঞ্চলে আর কোনো পুজো হত না। সে কারণেই অঞ্চলের কিছু বাসিন্দা এবং রায় চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা মিলে শুরু করলেন মা জগদ্ধাত্রীর আরাধনা।

Loading videos...

শারদীয়া মহাপূজা যেমন চার দিনের হয়, সন্ধিপূজা, কুমারীপুজো যেমন মহাপূজার অঙ্গ হিসাবেই পরিচিত, তেমনই শিবপুরের বাসিন্দারাও ঠিক করলেন যে ঠিক দুর্গাপুজোর মতোই জগদ্ধাত্রীপুজোও করবেন চার দিন ধরে এবং সেখানে সন্ধিপূজা, কুমারীপুজো সমস্তই অনুষ্ঠিত হবে। সেইমতো প্রথম দু’ বছর রায় চৌধুরীদের উঠোনেই সম্পন্ন হয় দেবীপূজা।

পুজো যখন তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করে তখন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁরা এই পুজোটি আর রায় চৌধুরীদের উঠোনে করবেন না, পুজোটি বাড়ির চার দেওয়ালের বাইরে নিয়ে আসবেন। সেইমতো ব্যবস্থা হয়। তবে সে বছর একটা বিপত্তি ঘটে। জগদ্ধাত্রীপুজোর নবমীর দিন রাত্রিবেলা কোনো এক অজ্ঞাত কারণে দেবীপ্রতিমাটি আগুনে পুড়ে যায়, তবে প্যান্ডেল অক্ষত অবস্থাতেই থাকে। পরের দিন পুজো কমিটির সদস্যরা আবার নতুন প্রতিমা এনে চার প্রহরে পুজো করে তার পর নিরঞ্জনের পথে রওনা হন। এই ঘটনার পরেও অবশ্য রায় চৌধুরী বাড়ির বাইরেই পুজো হতে থাকে।

১০৮টি প্রজ্জ্বলিত দীপশিখা।

চার দিনের পুজোয় ষষ্ঠীর দিন দেবীর অধিবাস হয়। দুর্গাপুজোয় সন্ধিপূজা থাকলেও জগদ্ধাত্রীপুজোয় এর কোনো বিধান নেই, তবুও শিবপুরের এই পুজোয় অষ্টমী এবং নবমীর সন্ধিক্ষণে একটি বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। এই সময়ে দেবীকে চামুণ্ডা রূপেই পুজো করা হয়। সেই সময় দেবীকে ১০৮টি পদ্ম, ১০৮টি প্রজ্জ্বলিত দীপশিখা নিবেদন করা হয়।

পুজোর তিন দিনই দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। পুজোর সকালে চালের নৈবেদ্যভোগ, নানা রকমের ফল দেবীকে নিবেদন করা হয় এবং দুপুরে খিচুড়িভোগ দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকে নানা রকমের ভাজা, তরকারি, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। সন্ধ্যায় দেবীকে লুচিভোগ দেওয়া হয়। তবে সন্ধিক্ষণের পুজোয় কোনো রকম অন্নভোগ হয় না। সেই সময় ঘি-মধু দিয়ে শুকনো চাল মেখে নিবেদন করা হয় দেবীকে, সেই সঙ্গে নানা ফল, মিষ্টিও।

দশমীর দিন কনকাঞ্জলিপ্রথাও রয়েছে এখানে। তবে এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে পুজোয় নানা রকমের বিধিনিষেধ রয়েছে, প্রতিমার উচ্চতাও কমানো হয়েছে। এ বছর চার দিনের বদলে শুধুমাত্র নবমীর দিন তিন প্রহরে পুজো পাবেন দেবী এবং প্রসাদ বিতরণও বন্ধ এ বছর।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

ঐতিহ্যের হৈমন্তীপর্ব: হাওড়ার ভট্টাচার্যবাড়ির জগদ্ধাত্রীর বাঁ হাতে শঙ্খের জায়গায় থাকে খড়্গ

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
দেশ32 mins ago

ধর্মঘট আপডেট: জায়গায় জায়গায় পথ ও রেল অবরোধ বাম-কংগ্রেস কর্মীদের, ব্যাহত জনজীবন, বিক্ষিপ্ত অশান্তি

ফুটবল35 mins ago

রাত ১০টায় বিপুল হাততালি, রাজপুত্রকে আবেগপ্রবণ বিদায় জানাতে তৈরি হচ্ছে আর্জেন্তিনা

ফুটবল1 hour ago

ফকল্যান্ড যুদ্ধে হারের প্রতিশোধ নিল ‘ঈশ্বরের হাত’

কেনাকাটা2 hours ago

শীতের নতুন কিছু আইটেম, দাম নাগালের মধ্যে

শরীরস্বাস্থ্য2 hours ago

করোনাকালে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য হু-র স্বাস্থ্য সতর্কতা

winter 2020
রাজ্য2 hours ago

‘নীবর’-এর কারণে পারদ বেড়ে ১৮-তে, শীত ফিরতে পারে রবিবার থেকে

দেশ3 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৪৪৪৮৯, সুস্থ ৩৬৩৬৭

ফুটবল3 hours ago

দিয়েগো মারাদোনার পূর্ণাবয়াব স্ট্যাচু বসাচ্ছে গোয়া সরকার

দেশ3 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৪৪৪৮৯, সুস্থ ৩৬৩৬৭

বিনোদন3 days ago

মাদক মামলায় জামিন পেলেন ভারতী সিংহ ও হর্ষ লিম্বাচিয়া

ফুটবল2 days ago

পিকে-চুণী স্মরণে ডার্বি শুরুর আগে নীরবতা পালন হোক, আইএসএল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাল ইস্টবেঙ্গল

ফুটবল2 days ago

পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে প্রথম ম্যাচে ৩ পয়েন্ট ঘরে তুলল হায়দরাবাদ

দেশ19 hours ago

সংক্রমণে লাগাম টানতে ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন বিধিনিষেধ, নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

দেশ2 days ago

দুর্ভাগ্য! ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, বৈঠকে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Allahabad High Court
দেশ2 days ago

‘প্রিয়ঙ্কা-সালামাতকে আমরা হিন্দু-মুসলিম হিসেবে দেখি না,” ঐতিহাসিক রায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের

বিদেশ3 days ago

অক্সফোর্ডের কোভিড-টিকা ৯০ শতাংশ কার্যকর হতে পারে, বলল অ্যাস্ট্রাজেনেকা

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 hours ago

শীতের নতুন কিছু আইটেম, দাম নাগালের মধ্যে

খবর অনলাইন ডেস্ক: শীত এসে গিয়েছে। সোয়েটার জ্যাকেট কেনার দরকার। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে কিনতে যাওয়া মানেই বাড়ি এসে এই ঠান্ডায়...

কেনাকাটা1 day ago

ঘর সাজানোর জন্য সস্তার নজরকাড়া আইটেম

খবর অনলাইন ডেস্ক: ঘরকে একঘেয়ে দেখতে অনেকেরই ভালো লাগে না। তাই আসবারপত্র ঘুরিয়ে ফিরে রেখে ঘরের ভোলবদলের চেষ্টা অনেকেই করেন।...

কেনাকাটা5 days ago

লিভিংরুমকে নতুন করে দেবে এই দ্রব্যগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক: ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে ও সৌন্দর্য বাড়াতে ডিজাইনার আলোর জুড়ি মেলা ভার। অ্যামাজন থেকে তেমনই কয়েকটি হাল ফ্যাশনের...

কেনাকাটা1 week ago

কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস, দাম একদম নাগালের মধ্যে

খবর অনলাইন ডেস্ক: কাজের সময় হাতের কাছে এই জিনিসগুলি থাকলে অনেক খাটুনি কমে যায়। কাজও অনেক কম সময়ের মধ্যে করে...

কেনাকাটা3 weeks ago

দীপাবলি-ভাইফোঁটাতে উপহার কী দেবেন? দেখতে পারেন এই নতুন আইটেমগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই কালীপুজো, ভাইফোঁটা। প্রিয় জন বা ভাইবোনকে উপহার দিতে হবে। কিন্তু কী দেবেন তা ভেবে পাচ্ছেন...

কেনাকাটা4 weeks ago

দীপাবলিতে ঘর সাজাতে লাইট কিনবেন? রইল ১০টি নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আসছে আলোর উৎসব। কালীপুজো। প্রত্যেকেই নিজের বাড়িকে সুন্দর করে সাজায় নানান রকমের আলো দিয়ে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে...

কেনাকাটা2 months ago

মেয়েদের কুর্তার নতুন কালেকশন, দাম ২৯৯ থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজো উপলক্ষ্যে নতুন নতুন কুর্তির কালেকশন রয়েছে অ্যামাজনে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে। তেমনই কয়েকটি রইল এখানে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র আরও ১০টি শাড়ি, পুজো কালেকশন

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই পুজো আর পুজোর জন্য নতুন নতুন শাড়ির সম্ভার নিয়ে হাজর রয়েছে এরশা। এরসার শাড়ি পাওয়া...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র পুজো কালেকশনের ১০টি সেরা শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো কালেকশনে হ্যান্ডলুম শাড়ির সম্ভার রয়েছে ‘এরশা’-র। রইল তাদের বেশ কয়েকটি শাড়ির কালেকশন অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

নজরে