Connect with us

দুর্গা পার্বণ

সপ্তমীতে থানকাপড়ে সিঁদুর দিয়ে কলাবউকে সাজানো হয় খড়দহের নিত্যানন্দপ্রভুর প্রতিষ্ঠিত দুর্গাপুজোয়

নিত্যানন্দপ্রভু যখন দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন তখন একজন তাঁকে থান দান করেছিলেন। তাই তিনি তখন কলাবউকে সেই কাপড় পড়িয়েছিলেন আর সধবার চিহ্ন হিসাবে সিঁদুরের রেখা টেনে দিয়েছিলেন।

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দুর্গাপুজো বঙ্গের এক প্রাচীন উৎসব। দুর্গাপুজো শরৎ ও বসন্তু এই দুই ঋতুতেই সম্পন্ন হয়। বসন্তকালে যে পূজা হয় তা বাসন্তীপূজা নামে পরিচিত এবং শরৎকালে যে পূজা হয় তা শারদীয়া নামে পরিচিত।

বঙ্গদেশের বিভিন্ন প্রাচীন বনেদিবাড়িতে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীবন্দনা করা হয়। কোনো পুজোর বয়স হয়তো ২০০ বছর, আবার কোনো পুজো হয়তো ৪০০ বছরেরও প্রাচীন। কোথাও তিনি মহিষদলনী দশভূজা রূপে পূজিতা, আবার কোথাও তিনি শিবক্রোড়ে অধিষ্ঠিতা হয়ে অভয়দান করছেন। তেমনই এক প্রাচীন পুজো হল খড়দহে শ্রীশ্রী নিত্যানন্দপ্রভুর প্রচলিত কাত্যায়নীবন্দনা, যা আজও অব্যাহত রয়েছে প্রাচীন রীতি মেনেই।

Loading videos...

প্রসঙ্গত ১৩৯৫ শকাব্দে (১৪৭৩ খ্রিস্টাব্দ) মাঘ মাসের শুক্ল ত্রয়োদশী তিথিতে মধ্যাহ্নে বীরভূমের একচক্রা গ্রামে নিত্যানন্দপ্রভু আবির্ভূত হয়েছিলেন। পিতা হাড়াই পণ্ডিত (ওঝা) এবং মাতা পদ্মাদেবী। ছেলেবেলা থেকেই কৃষ্ণ-কৃষ্ণ খেলা, পূতনাবধ, সংকটভঞ্জন, কালীয়দমন এই সমস্ত খেলায় মেতে থাকতেন নিত্যানন্দ। ন’ বছর বয়সে নিত্যানন্দের উপনয়ন হয় এবং নিতাইচাঁদের বয়স যখন বারো (১৪০৭ শকাব্দ অর্থাৎ ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দ) তখন নবদ্বীপধামে গৌরচন্দ্রের উদয় হয়।

একদিন শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী এলেন হাড়াই পণ্ডিতের বাড়িতে আতিথ্য নিতে এবং তিনি নিত্যানন্দকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন বিভিন্ন তীর্থদর্শনে – বক্রেশ্বর থেকে বৈদ্যনাথ, তার পর গয়া, কাশী, প্রয়াগ, মথুরা, বৃন্দবন ইত্যাদি নানা স্থানে ভ্রমণ করলেন। এর পর নবদ্বীপে এসে উপস্থিত হলেন প্রভু নিত্যানন্দ। এ দিকে শ্রীবাস, হরিদাসকে নিমাই বললেন নবদ্বীপে খুঁজে আসতে, কোনো মহাপুরুষের আবির্ভাব হয়েছে। কেউ খুঁজে না পেলে নিমাই নিজে গেলেন নন্দন আচার্যের বাড়িতে। সেটিই প্রথম সাক্ষাৎ নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর সঙ্গে চৈতন্য মহাপ্রভুর।

এর বেশ কিছু কাল পর গৌরাঙ্গের নির্দেশে সন্ন্যাসী হওয়া সত্ত্বেও প্রভু নিত্যানন্দকে গৃহাশ্রমী হতে হল। তাই ১৪৪১ শকাব্দে (১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ) এক শুভক্ষণে নিতাইচাঁদের সঙ্গে বসুধা দেবীর বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর প্রভু নিত্যানন্দ খড়দহে বসতি স্থাপন করলেন এবং এই বসতি স্থাপনের জন্য শ্রী পুরন্দর পণ্ডিত প্রভু নিত্যানন্দকে ২৬ বিঘা জমি দান করেছিলেন। যে স্থানে নিত্যানন্দপ্রভু বসতি স্থাপন করেছিলেন বর্তমানে সেই ভবন ‘কুঞ্জবাড়ি’ নামে পরিচিত। শ্রীনিতাইচাঁদ সঙ্গে নিয়ে আসেন অনন্তদেব, ত্রিপুরাসুন্দরী যন্ত্র ও নীলকণ্ঠ বিগ্রহ। এই বিগ্রহ নিতাইচাঁদের পারিবারিক বিগ্রহ। এই খড়দহে প্রভু নিত্যানন্দ দশভূজা মাকে কাত্যায়নী রূপে পূজা করেছিলেন। পরবর্তী কালে বহু বংশধরের বাড়িতেই পুজো হত। তবে বর্তমানে মেজোবাড়ি ও বড়োবাড়িতে সেই প্রাচীন ধারা বজায় রেখে আজও পুজো হয়।

প্রভু নিত্যানন্দ এই দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন আনুমানিক ১৪৫২ শকাব্দে (১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে)। এ বছর এই বনেদি পুজো ৪৯১ বছরে পদার্পণ করল। সেই প্রাচীন ধারা ও ঐতিহ্য আজও যেন নিত্যানন্দপ্রভুর বংশধরদের পুজোতে সম্পূর্ণ ভাবে পাওয়া যায়।

এই বাড়ির পুজোর বিশেষত্ব হল দেবীর দু’ পাশে অবস্থান করেন দেবীর দুই সখী জয়া এবং বিজয়া। এই বাড়িতে দেবী একচালায় ডাকের সাজে সজ্জিত হন। এ ছাড়া পরিবারের প্রাচীন গহনা দিয়েই সাজানো হয় কাত্যায়নীকে। তবে এই বাড়িতে দেবীর বাহন সিংহ কিন্তু ঘোটকাকৃতি বলেই উল্লেখ করলেন নিত্যানন্দপ্রভুর বংশধর প্রভুপাদ সরোজেন্দ্র মোহন গোস্বামী মহাশয়।

এই বাড়ির পুজোর সূচনা হয় উল্টোরথের দিন কাঠামোপুজোর মাধ্যমে। মহালয়ার আগে নবমীতিথিতে মেজোবাড়ির মা চণ্ডী শ্যামসুন্দর জিউ-এর মন্দিরে যান। সেখানে চণ্ডীপাঠ হয়। মা চণ্ডী আবার ফিরে আসেন প্রতিপদের দিন। আর সেই দিন থেকেই চণ্ডীর পুজো শুরু হয় খড়দহের গোস্বামীবাড়িতে।

দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিনে বোধন শুরু হওয়ার পর দেবী প্রতিমাকে বেদিতে স্থাপন করা হয়। সপ্তমীর দিন নবপত্রিকার স্নান হয়। তবে এই বাড়িতে নবপত্রিকাকে সাদা থানের কাপড় পড়ানো হয়। কারণ অতীতে নিত্যানন্দপ্রভু যখন দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন তখন একজন তাঁকে থান দান করেছিলেন। তাই তিনি তখন কলাবউকে সেই কাপড় পড়িয়েছিলেন আর সধবার চিহ্ন হিসাবে সিঁদুরের রেখা টেনে দিয়েছিলেন। সেই প্রাচীন নিয়ম আজও চলে আসছে প্রভু নিত্যানন্দের বংশধরদের পুজোয়।

এই পরিবারে কোনো রকম পশু বলিদানের চল নেই। শুধুমাত্র মাসকলাই বলিদান করা হয় এই বনেদিবাড়িতে। দেবীকে কেন্দ্র করে যে সব সহচরী অপদেবতারা থাকে তাদের উদ্দেশেই এই মাসকলাই বলিদান করা হয়।

আরও পড়ুন: অভয়ারূপে দুর্গার আরাধনা কলুটোলার ধরবাড়িতে যেখানে চৈতন্যসভায় সমাধিস্থ হয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ

বাড়ির এই পুজোকে কেন্দ্র করে কলকাতার বাইরে থাকা প্রায় সমস্ত আত্মীয়পরিজন চলে আসেন পুজোর অমলিন আনন্দের ভাগীদার হতে। এই বাড়ির পুজোয় দেবীকে বিভিন্ন রকমের পদ ভোগ হিসাবে নিবেদন করা হয়। প্রভুপাদ সরোজেন্দ্রবাবু জানালেন, ভোগে থাকে সাদাভাত, শুক্তনি, মুগঘণ্ট, খিচুড়ি, বেগুনভাজা, মুগের ডাল, পোস্ত, চচ্চড়ি, পুষ্পান্ন, ধোঁকা, ছানার কালিয়া, চাটনি, পরমান্ন, মিষ্টান্ন ইত্যাদি। দশমীর দিন পান্তাভাত, কচুর শাক, চালতার চাটনি ইত্যাদি নিবেদন করা হয়। এ ছাড়া এই পরিবারে ধুনো পোড়ানোর রীতিও রয়েছে।

দশমীর দিন নিত্যানন্দ পরিবারের সদস্যদের সিঁদুরখেলার পর প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। আগে দেবীকে জোড়া নৌকায় তুলে গঙ্গাবক্ষে ঘুরিয়ে তার পর বিসর্জন দেওয়া হত। সে প্রথা আজ বন্ধ। প্রতিমা নিরঞ্জনের পর পরিবারের সকল সদস্য শ্যামসুন্দরের মন্দিরে উপস্থিত হন এবং পুরোহিত সবাইকে শ্যামসুন্দরের পরিহিত কৌপিনের টুকরো বেঁধে দেন। এই প্রথাকে প্রভু নিত্যানন্দ মিলনের প্রতীক হিসাব দেখিয়েছিলেন। এই ভাবে প্রাচীন ঐতিহ্য ও রীতিনীতি মেনে আজও খড়দহে নিত্যানন্দ পরিবারে কাত্যায়নীর আরাধনা হয় নিষ্ঠার সঙ্গে।

দঃ ২৪ পরগনা

মা ও শিশুসন্তানদের জন্য কাপড় ও খাবার নিয়ে হাওড়ার বালিতে ‘সহমর্মী’

মৃন্ময়ী ‘মা’ যখন মণ্ডপে ২৫ লক্ষ টাকার গয়নায় সুসজ্জিত, তখন তাঁর সন্তানেরা দু’ মুঠো অন্নের আশায় ঝাড়খণ্ড থেকে এসে বালির ইটভাটায় লড়াই করে চলেছে।

Published

on

বালিতে সহমর্মীর ত্রাণ।

সুব্রত গোস্বামী

রাস্তায় একটা ব্যানারে হঠাৎ চোখ পড়ল। তাতে লেখা – ‘প্রতিমাতেই শুধু মা দুর্গা নন, প্রতি-মাতেই মা দুর্গা’। এই অনুভবেই বিশ্বাসী গড়িয়া সহমর্মী সোসাইটি (Garia Sahamarmi Society)।  

পুজো উপলক্ষ্যে মায়েদের হাতে নতুন কাপড় তুলে দেওয়ার জন্য সহমর্মী হাজির হয়ে গিয়েছিল বালির কিছু ইটভাটা-সহ কাছাকাছি কয়েকটি অঞ্চলে। মৃন্ময়ী ‘মা’ যখন মণ্ডপে ২৫ লক্ষ টাকার গয়নায় সুসজ্জিত, তখন তাঁর সন্তানেরা দু’ মুঠো অন্নের আশায় ঝাড়খণ্ড থেকে এসে বালির ইটভাটায় লড়াই করে চলেছে।

Loading videos...
সহমর্মী পৌঁছে গিয়েছিল বালিতে।

ইটভাটায় গিয়ে যা দেখা গেল, তা কোনো ভাবেই ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ৬ ফুট বাই ৮ ফুট একটা ছোট্ট ঘরে কোনো রকমে এঁরা বাস করছেন। করোনাকালে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলার কথা বলা হচ্ছে। শারীরিক দূরত্ববিধি মানা এঁদের কাছে বিলাসিতা।

সেই ছোট্ট ঘরে একটাও জানলা নেই। মেঝেতে পড়ে আছে ছোট্ট শিশুর দল।  দেখলে মনে হয়, আফ্রিকার কোন দেশ থেকে এসেছে। এই আমাদের আধুনিক ভারত! চাঁদের মাটিতে আমরা যখন চন্দ্রযান পাঠাতে ব্যস্ত, তখন আমারই দেশের মানুষের এই চরম দুর্ভোগ।

বালির বিআইভিএ (BIVA), তার পর বিবিএ (BBA), বিএনএস (BNS) ও বিবিএ২ (BBA2) ইটভাটা এবং বিদ্যাসাগর কলোনিতে পৌঁছে গিয়েছিল ‘সহমর্মী’। ‘সহমর্মী’ পৌঁছে গিয়েছিল বেলানগরের ভগবানের ভাণ্ডারে।

বালির ওই সব জায়গায় ইটভাটায় ৫০ জন মহিলার হাতে শাড়ি ও খাবার এবং ১০০ জন শিশুর মুখে খাবার তুলে দেওয়া হল ‘সহমর্মী’র পক্ষ থেকে।

গড়াগাছায় সহমর্মীর ত্রাণ।

শুধুই বালির ইটভাটাই নয়, ‘সহমর্মী’-র আয়োজনে মহাষ্টমীর দিন গড়িয়া গড়াগাছায় ১৪০ জন শিশুর হাতে দুপুরের খাবার তুলে দেওয়া হল। এখানকার ছোট্ট দুগ্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশদের হাতে পুজোর নৈবেদ্য তুলে দিতে পেরে ‘সহমর্মী’ ধন্য ও ঋদ্ধ হল।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

পিতৃমাতৃহীন শিশুদের নিয়ে পুজোর দিনে ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর অভিনব উদ্যোগ

Continue Reading

কলকাতা

পিতৃমাতৃহীন শিশুদের নিয়ে পুজোর দিনে ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর অভিনব উদ্যোগ

Published

on

লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এর পুজোয় ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর ছোট্ট শিশুরা।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: উৎসব মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দ আরও জোরদার হয়ে ওঠে যখন সঙ্গে থাকে প্রিয়জনেরা! সেই প্রিয়জনদের খোঁজার প্রচেষ্টাতেই ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ (Durga and Friends) একত্রিত করেছে ছোটো ছোটো কিছু পিতৃমাতৃহীন শিশুকে, যারা এক সঙ্গে বড়ো হয়ে উঠছে এই হাউসে।

আর এই ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-কে সঙ্গ দিয়েছেন কিছু বন্ধু যাঁরা এই ছোট্ট বন্ধুদের তাঁদের মা-বাবার অভাব কোনো দিন বুঝতে দেননি।

লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এর পুজোয় ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’।

এই মহৎ প্রচেষ্টার সঙ্গে যিনি নিজেকে প্রথম যুক্ত করেছেন তিনি শ্যামসুন্দর জুয়েলার্স-এর পরিচালক মাননীয় রূপক সাহা। এবং তাঁর সঙ্গে এগিয়ে এসেছেন সত্যেন্দ্রনাথ মিশ্রা, সুরজিৎ কালা সোহো প্রমুখ।

Loading videos...

প্রতি বছর এই খুদে বন্ধুদের সঙ্গে দুর্গাপূজার একটি বিশিষ্ট দিন সকলে উপভোগ করেন অঞ্জলি দিয়ে, প্যান্ডেল ঘুরে এবং এক সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন করে।

কিন্তু এই বছরটা একটু আলাদা! করোনার কবল থেকে বাঁচাতে এই বার এগিয়ে এল লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এর (Loharuka Green Oasis)  আবাসিকবৃন্দ। এই বছর ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর ছোট্ট বন্ধুরা আমন্ত্রিত হলেন লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এর আবাসিকদের সঙ্গে একটি দিন উপভোগ করার জন্য!

লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এ ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’।

আবাসিক প্রাঙ্গণের দুর্গাপূজায় যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়ে খুব খুশি ছোট্ট শিশুরা। তারা আবাসিক প্রাঙ্গণের অন্য শিশুদের সঙ্গে দিনটা কাটাল অঞ্জলি, খেলাধুলা ও খাওয়াদাওয়ার মাধ্যমে। 

আবাসিকদের তরফ থেকে সভাপতি দেবপ্রসাদ চক্রবর্তী জানালেন, পরবর্তী সময়েও  লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর পাশে থাকবে।

শারদোৎসব মানেই যে মেলবন্ধন, সেই সত্যি আরও প্রমাণ করে দিলেন লোহারুকা গ্রিন ওয়েসিস-এর আবাসিকরা এবং ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

দুর্গাপুজোয় সচেতনতার পরীক্ষায় উতরে গেল কলকাতা

Continue Reading

কলকাতা

দুর্গাপুজোয় সচেতনতার পরীক্ষায় উতরে গেল কলকাতা

পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই, ঘরবন্দি থেকে বা নিদেনপক্ষে পাড়াবন্দি থেকে, এ বার দুর্গাপূজা উদযাপন করল কলকাতা

Published

on

লালাবাগান সর্বজনীনের পুজো, মহানবমীর বিকেলে।

বিশেষ প্রতিনিধি: ভালো ভাবেই পাশ করে গেল কলকাতা (Kolkata) । আশঙ্কা ছিল, বাঙালির সব চেয়ে প্রিয় উৎসব দুর্গাপুজোর টানে কোভিড সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ উড়িয়ে দিয়ে বেসামাল হয়ে যাবে মহানগর। ফলত আরও বাড়বে করোনা সংক্রমণ।

দুর্গাপুজোর এই পাঁচ-ছ’ দিনে করোনা সংক্রমণ বাড়ল কি না, তা বোঝা যাবে দিন কয়েক পর। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই, ঘরবন্দি থেকে বা নিদেনপক্ষে পাড়াবন্দি থেকে, এ বার দুর্গাপূজা (Durgapuja 2020) উদযাপন করল কলকাতা।

উত্তর কলকাতার একটি সর্বজনীন পূজামণ্ডপ।

মহানবমীর বিকেলে আরও এক দফা নগর পরিক্রমায় বেরোনো হল। গন্তব্য ছিল উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল সেরে দক্ষিণের প্রান্তিক এলাকা।

Loading videos...

কলকাতার অন্যতম প্রাচীন সর্বজনীন পুজো সিমলা ব্যায়াম সমিতি বিবেকানন্দ রোডে। এই পুজো ছাড়াও এই রাস্তায় রয়েছে বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাব, চালতাবাগান সর্বজনীনের মতো বেশ প্রাচীন বিখ্যাত সর্বজনীন পুজো।

মহানবমীর বিকেলে বিবেকানন্দ রোড।

মহানবমীর বিকেলে বিবেকানন্দ রোড আর পাঁচটা সাধারণ দিনের থেকেও শুনশান। সব মণ্ডপেই ঝুলছে প্রবেশ নিষেধ বোর্ড। হাতে গোনা কয়েক জন দর্শনার্থী মণ্ডপের বাইরে থেকেই প্রতিমা দর্শন করে চলে যাচ্ছেন। কোনো কোনো প্রতিমার দর্শন হচ্ছে গাড়িতে বসেই। যে হেতু রাস্তায় তেমন ট্রাফিক নেই, তাই পুলিশের বাধাও নেই।

মানিকতলা মোড় পেরিয়ে বাঁ হাতি রাস্তা রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিট। একটু যেতেই ডান দিকে পড়ল লালাবাগান সর্বজনীন। গাড়িতে বসেই এমন সুন্দর প্রতিমা দর্শন হবে ভাবাই যায়নি। ওই ব্যস্ত রাস্তায় স্বচ্ছন্দে গাড়ি দাঁড় করানো হল, প্রতিমা দর্শন হল, ছবি তোলা হল অবাধে। ভাবা যায়?

বিবেকানন্দ রোডে বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের গলি, মহানবমীর বিকেলে।

একটু এগিয়ে লালাবাগান নবাঙ্কুর-এর পুজো, একটু ভিতরে। গাড়ির জন্য রাস্তা বন্ধ। গুটি গুটি পায়ে চলেছেন নামমাত্র দু’-চার জন দর্শনার্থী।

রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিট থেকে বেরিয়ে ডান দিকের পথ ধরা হল উলটোডাঙা মোড়ের উদ্দেশে। বাঁ দিকে পড়ে থাকল গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীন। অরবিন্দ সেতু পেরিয়ে উলটোডাঙা মোড়গামী এই রাস্তা পুজোয় অগম্য হয়ে যায়। গাড়ি তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটাও দায় হয়ে ওঠে।

এই রাস্তার আশেপাশের গলিতে বহু বিখ্যাত পুজো আয়োজিত হয় – কবিরাজ বাগান সর্বজনীন, করবাগান সর্বজনীন, উলটোডাঙা পল্লিশ্রী, তেলেঙ্গাবাগান, শুঁড়ির বাগান সর্বজনীন ইত্যাদি। এই পথ ধরে এই মহানবমীর বিকেলে একেবারে অবাধ যাত্রা। পথে নতুন পোশাক পরে কিছু মানুষ চলেছেন প্রতিমা দর্শনের উদ্দেশ্যে।

ব্যস্ত উলটোডাঙা মোড়ের সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি মহানবমীর বিকেলে।

অন্যান্য বার এই বারোয়ারি পুজোগুলো দেখার জন্য দীর্ঘ লাইন পড়ে যায় উলটোডাঙা মোড়গামী মূল সড়ক থেকেই। এক একটা পুজো দেখা সাঙ্গ করতে সময় লেগে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আর এ বার মণ্ডপের পথে ক’ জন হেঁটে চলেছেন, তা বোধহয় গুনে ফেলা সম্ভব।

উত্তরের পুজো কেমন হচ্ছে তার একটা আন্দাজ পাওয়া গেল। শহরের দক্ষিণ প্রান্তে ফেরার পথে মনে হল একবার রাসবিহারী কানেক্টরে বোসপুকুর শীতলামন্দিরের পুজো দেখে আসা যাক। উনিশ বছর আগে মাটির ভাঁড়ের পুজো করে বিখ্যাত হয়েছিল বোসপুকুর। সেই খ্যাতি তারা আজও ধরে রেখেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এই প্রতিমা দর্শন করতে হয়।

বোসপুকুর শীতলামন্দির, মহানবমীর বিকেলে।

সেই বোসপুকুর শীতলামন্দির অবাক করল। রাসবিহারী কানেক্টরের একেবারে মণ্ডপের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে প্রতিমাদর্শন হল, ছবিও তোলা হল, পুলিশের নজরদারিতেই।

মহাসপ্তমী ও মহানবমীতে মহানগর পরিক্রমা করে বোঝা গেল হাতে গোনা কয়েকটি বিখ্যাত পুজো ছাড়া সর্বজনীন পুজোগুলো এ বার মোটামুটি ফাঁকাই থেকেছে। কলকাতাবাসী এ বার মোটামুটি ভাবে নিজের পাড়ার পুজোটিই দেখেছেন। পাড়ার চৌকাঠ পেরিয়ে দূরে পাড়ি জমাননি। আর যতটুকু অফিস-কাছারি চলছে, পুজোয় তা-ও বন্ধ। তাই এই আনলক পিরিয়ডেও বাস যে ভিড় দেখা যায়, দুর্গাপুজোর এ ক’ দিন তা-ও দেখা গেল না। সারা দিনই বাস একেবারেই ফাঁকা, তাই বেশি রাত পর্যন্ত বাসও চলেনি।

আনলক পিরিয়ডে নানা রকম বাধানিষেধের মধ্যে চলা মেট্রো রেল যত যাত্রী পরিবহণ করেছে, পুজোর দিনগুলোতে তার অর্ধেকও করেনি। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের হিসেবে, সপ্তমীর দিন তাঁদের পরিষেবা ব্যবহার করেছেন ৩৪ হাজার যাত্রী। অথচ পঞ্চমীর দিন মেট্রোয় যাত্রীসংখ্যা ছিল ৮৪,৮০১ জন। মোটামুটি একই ছবি দেখা গিয়েছে, মহাষ্টমী ও মহানবমীতেও।

এ যেন বনধের চেহারা। মহানবমীর বিকেলে রাসবিহারী কানেক্টর।

মেট্রো আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ট্রেনে বা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কোনো ভিড়ই ছিল না। তা ছাড়া অন্যান্য বারের মতো এ বারে বেশি রাত পর্যন্ত মেট্রো চালানোও হয়নি।

কলকাতার পুজো দর্শনার্থীদের একটা বড়ো অংশ আসেন কলকাতার আশেপাশের জেলা থেকে। এ বার লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় তাঁদেরও বেশির ভাগ মহানগরে আসেননি। পুজোর দিনগুলোতে শহর শুনশান থাকার এটা একটা বড়ো কারণ।

বনেদিবাড়ির পুজোও কলকাতার পুজোর একটা বড়ো আকর্ষণ। কিন্তু শহরের বেশির ভাগ বনেদিবাড়ির পুজোতেও এ বার সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। নিজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বনেদিবাড়ির পুজো।

দশমীও ম্রিয়মাণ বেশির ভাগ মণ্ডপে। নেই সিঁদুরখেলা, নেই বিসর্জনের শোভাযাত্রাও। সোমবার সকাল থেকেই বিসর্জন শুরু হয়ে গিয়েছে। কোথাও কোথাও তো মণ্ডপচত্বরেই প্রতিমাকে গলিয়ে ফেলা হচ্ছে পাইপের জলের তোড়ে। কোনো কোনো বারোয়ারি কমিটি তো মণ্ডপের সামনেই জলের ব্যবস্থা করে সেখানে প্রতিমা বিসর্জন করছে।

ছবি: শ্রয়ণ সেন

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

নেই সিঁদুরখেলা, শোভাযাত্রা, কোভিডের আবহে রাজ্যে মনখারাপের দশমী

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
রাজ্য18 mins ago

কোনো ভুল বোঝাবুঝি নেই, কংগ্রেস-বামফ্রন্ট এক সঙ্গে নির্বাচনে লড়বে: বিমান বসু

দেশ57 mins ago

দিল্লিতে দৈনিক করোনা সংক্রমণের হার কমে ০.৪৪ শতাংশ

রাজ্য1 hour ago

সোমবার নন্দীগ্রামে সভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, দক্ষিণ কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারী

বাংলাদেশ2 hours ago

বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে ঘিরে রেলের উন্নয়নযজ্ঞ

শিল্প-বাণিজ্য2 hours ago

বাজেট ২০২১: ফুড ডেলিভারিতে জিএসটি কমানোর দাবি

দেশ2 hours ago

বার্ড ফ্লু: ভারতের ডিম, মুরগির বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধ করল বাংলাদেশ

দেশ3 hours ago

কৃষক বিক্ষোভ: প্রস্তাবিত ট্র্যাক্টর র‍্যালির বিরুদ্ধে সোমবার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

রাজ্য3 hours ago

শতাব্দী রায়কে দলের সহ-সভাপতি পদে আনল তৃণমূল

রাজ্য1 day ago

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করতে সিপিএমের লাইনেই খেলছেন শুভেন্দু অধিকারী

দেশ2 days ago

করোনার টিকা নেওয়ার পর অসুস্থ হলে দায় নেবে না কেন্দ্র

দেশ2 days ago

নবম দফার বৈঠকেও কাটল না জট, ফের কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে কেন্দ্র

প্রযুক্তি2 days ago

হোয়াটসঅ্যাপে এ ভাবে সেটিং করলে আপনার আলাপচারিতা কেউ দেখতে পাবে না এবং তথ্যও থাকবে নিরাপদে

রাজ্য2 days ago

দিল্লি যাচ্ছেন শতাব্দী রায়, জিইয়ে রাখলেন অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা

election commission of india
রাজ্য2 days ago

ভোট প্রস্তুতি তুঙ্গে! রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ

ক্রিকেট2 days ago

অভিষেকে লড়াকু নটরাজন, সুন্দর, অস্ট্রেলিয়া ২৭৪

রাজ্য2 days ago

রোজভ্যালি-কাণ্ডে শুভ্রা কুণ্ডুকে গ্রেফতার করল সিবিআই

কেনাকাটা

কেনাকাটা5 days ago

৯৯ টাকার মধ্যে ব্র্যান্ডেড মেকআপের সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : ব্র্যান্ডেড সামগ্রী যদি নাগালের মধ্যে এসে যায় তা হলে তো কোনো কথাই নেই। তেমনই বেশ কিছু...

কেনাকাটা1 week ago

কয়েকটি ফোল্ডিং আইটেম খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক: এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি সঙ্গে থাকলে অনেক সুবিধে হত বলে মনে হয়, কিন্তু সব সময় তা পাওয়া...

কেনাকাটা1 week ago

রান্নাঘরের কাজ এগুলি সহজ করে দেবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের কাজ অনেক বেশি সহজ করে দিতে পারে যে সমস্ত জিনিস, তারই কয়েকটির খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 weeks ago

ম্যাক্সিড্রেসের নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সুন্দর ম্যাক্সিড্রেসের চাহিদা এখন তুঙ্গে। সামনেই কোনো আনন্দ অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ থাকলে ম্যাক্সি পরতে পারেন। বাছাই করা কয়েকটি ড্রেসের...

কেনাকাটা2 weeks ago

রকমারি ডিজাইনের ৯টি পুঁটলি ব্যাগের কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: বিয়ের মরশুমে নিমন্ত্রণে যেতে সাজের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাগ নেওয়ার চল রয়েছে। অনেকেই ডিজাইনার ব্যাগ পছন্দ করেন। তেমনই কয়েকটি...

কেনাকাটা2 weeks ago

কস্টিউম জুয়েলারির দারুণ কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: বিয়ের মরশুম আসছে। নিমন্ত্রণবাড়ি তো লেগেই থাকে। সেখানে আজকাল সোনার গয়নার থেকে কস্টিউম বা জাঙ্ক জুয়েলারি পরে যাওয়ার...

কেনাকাটা2 weeks ago

রুম হিটারের কালেকশন, ৬৫০ থেকে শুরু

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ভালোই শীত চলছে। এই সময় রুম হিটারের প্রয়োজনীয়তা খুবই। তা সে ঘরের জন্যই হোক বা অফিস, বা কোথাও...

কেনাকাটা3 weeks ago

চোখের যত্ন নিতে কিনুন এগুলি, খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক: অনেকেই আছেন সারা দিনের ব্যস্ততার মাঝে যদিও বা পা, হাত বা মুখের টুকটাক যত্ন নেন, কিন্তু চোখের বিশেষ...

কেনাকাটা4 weeks ago

ফিলগুড প্রোডাক্ট! পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দিনের মধ্যে কিছু সময় যদি নিজের মতো করে নিজের জন্য দেওয়া যায় তা হলে মন যেমন ভালো থাকে...

কেনাকাটা4 weeks ago

জায়গা বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন রকমের অর্গানাইজার, দেখে নিন খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রোজকার ঘরে ব্যবহারের জন্য এমন অনেক জিনিস আছে যেগুলি থাকলে যেমন জায়গার সাশ্রয় হয় তেমনই সময়েরও। জায়গা বাঁচানোর...

নজরে