manasapuja at baikanthapur raj estate
বৈকুন্ঠপুর রাজ এস্টেটের মনসাপুজো। ছবি লেখক।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শুরু হল জলপাইগুড়ি শহরের বৈকুন্ঠপুর রাজ এস্টেটের মনসাপুজো। শুক্রবার শ্রাবণ সংক্রান্তিতে জলপাইগুড়ি রাজবাড়ির স্থায়ী পুজোমণ্ডপে এই পুজো শুরু হয়। এই উপলক্ষ্যে জলপাইগুড়ি শহরের অনেক গৃহবধু এখানে পুজো দিতে সমবেত হয়েছিলেন। রাজবাড়ি সূত্রে জানা যায়, মনসাপুজো সব জায়গায় এক দিনে সমাপ্ত হলেও রাজবাড়ির রীতি অনুযায়ী এখানকার মনসাপুজো তিন দিন ধরে চলবে। তিন দিন ধরে প্রতি দিন পাঁচ রকমের মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হবে। এই পুজোকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি শহর উৎসবের রূপ নেয়। মনসাপুজো উপলক্ষে সংলগ্ন এলাকায় তিন দিন ধরে মেলা চলে।

pranata kumar basu
প্রণত কুমার বসু। ছবি লেখক।

জলপাইগুড়ি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা শিশ্ব সিংহ ১৫০০ সালে বৈকুন্ঠপুরের জঙ্গলে প্রথমে রাজবাড়ি স্থাপন করেন। তিনি কোচবিহারের রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব সিংহের বড়ো ভাই ছিলেন। জলপাইগুড়ি রাজবাড়ির দুর্গাপুজো ১৫১৫ সালে শুরু হলেও মনসাপুজো কবে থেকে শুরু হয়েছিল তা রাজবাড়ির কেউই বলতে পারেননি। জলপাইগুড়ির রাজবংশের পক্ষে প্রণত কুমার বসু বলেন, “কবে থাকে মনসাপুজো শুরু হয়েছিল তা বলতে পারব না। রাজবাড়ির দিঘি সংলগ্ন মনসামন্দিরে নিত্যপুজো হয়। বাৎসরিক পুজো বাড়ির স্থায়ী পুজোমণ্ডপে হয়ে আসছে।”

জলপাইগুড়ির রাজবাড়ির মনসামূর্তির বৈশিষ্ট্য আছে। এখানে জরৎকারু মুনির ডান দিকে পুজো পান পিঙ্গলবর্ণা পদ্মা। বাঁ দিকে থাকে গৌরবর্ণা নেতা ধোপানি। দু’জনেরই বাহন হাঁস। নেতা এখানে পূজিত হন বড়ো মনসা রূপে। ছোটো মনসা রূপে পুজো পান পদ্মা। পুজো হয় অষ্টনাগ সহ বেহুলা লখিন্দর, গদা-গদিনীর। আগে পুজোর উপকরণ পাঠাতেন প্রজারা। এখন রাজাও নেই, প্রজাও নেই। রাজবাড়ির পক্ষ থেকেই পুজোর উপকরণ সরবরাহ করা হয়। এখন পুজোয় ছাগ-পাঁঠা, কবুতর, হাঁস বলি দেওয়া হয়। আগে মোষ বলি দেওয়া হত। রায়কতপাড়ার বাসিন্দা বর্ষীয়ান দিলীপ গুহ এ দিন মনসাপুজো দেখতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “আমাদের ছোটোবেলায় মোষবলি হতে দেখেছি।” এখন পুজোর তিন দিন প্রতি দিন পাঁচ রকমের মাছ দিয়ে ভোগ দেওবা হয়। আর ভোগে দেওয়া হয় বলি দেওয়া পাঁঠার মেটে ভাজা।

puja preparation is going on.
চলছে পূজার আয়োজন। ছবি লেখক।

পুজোর পাশাপাশি শুক্রবার বিকেল থেকে শুরু হয়েছে মনসামঙ্গলের গান। তিন দিন ধরে গান চলবে। গান শেষ হলে চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙার প্রতীক রূপে পূজিত সব-কিছু-বোঝাই-করা ডিঙা শোভাযাত্রা করে চলবে নিরঞ্জনপর্ব। এ দিন পুজো দিতে এসেছিলেন শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। তাঁদের মধ্যে গৃহবধূর সংখ্যাই বেশি। শহরের গোমস্তাপাড়া থেকে এসেছিলেন মামণি রায়। রাজবাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে এসেছিলেন ফুলটুসি দেবনাথ। তাঁরা সকলেই বলেন, পরিবারের ঐতিহ্য অনুসারে তাঁরা বরাবর রাজবাড়িতে মনসাপুজো দিয়ে আসছেন। এ বারেও তাঁরা একই ধারা বজায় রেখে পুজো দিতে এসেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন